সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নৈনিতাল/উত্তরকাশী : পাহাড়ি ট্রেকিংয়ের রোমাঞ্চ মুহূর্তেই পরিণত হল রহস্যে। উত্তরাখণ্ডের তরুণ এমবিএ ছাত্রী ববিতা পাণ্ডে (Babita Pandey) গত ৩০ মে থেকে নিখোঁজ। ছ’দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁর কোনও হদিস মেলেনি। ঘটনায় তীব্র উৎকণ্ঠায় পরিবার, অন্যদিকে পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই ববিতার দুই সঙ্গী হরমনপাল সিং (Harmanpal Singh) ও হরমনপ্রীত সিংকে (Harmanpreet Singh) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বছর চব্বিশের ববিতা পাণ্ডে (Babita Pandey) বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেকিংয়ের উদ্দেশ্যে উত্তরকাশীর (Uttarkashi)জনপ্রিয় পর্যটনস্থল দায়ারা বুগিয়াল (Dayara Bugyal) -এ গিয়েছিলেন। গত ২৫ মে তাঁরা প্রথমে দেহরাদূন (Dehradun) পৌঁছন। সেখান থেকে হর্ষিল (Harsil), গঙ্গোত্রী (Gangotri) সহ একাধিক জায়গা ঘুরে দেখেন। ২৮ মে তাঁরা রইথল (Raithal) গ্রামে পৌঁছে সেখানে রাত কাটান। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রইথলেই শেষবার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল তিনজনকে একসঙ্গে। এরপর ২৯ মে তাঁরা ট্রেকিং শুরু করেন এবং গোই বেসক্যাম্প (Gui Base Camp)-এ পৌঁছে রাত কাটান। অভিযোগ, ৩০ মে রাতের পর থেকেই ববিতার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। পরিবার জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে হরমনপাল সিং (Harmanpal Singh) ও হরমনপ্রীত সিং (Harmanpreet Singh) ফিরে এলেও ববিতা না ফেরায় তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন।
ববিতার পরিবারের অভিযোগ, ‘আমাদের মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পিছনে রহস্য রয়েছে। ও একা কোথাও চলে যেতে পারে না।’ পরিবারের তরফে দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দুই তরুণকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। উত্তরকাশীর পুলিশ সুপার কমলেশ উপাধ্যায় (Kamlesh Upadhyay), ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা সমস্ত সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিস্তৃত তল্লাশি অভিযান চলছে এবং প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে।’ ববিতার খোঁজে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০ জনের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এই দলে রয়েছে আইটিবিপি (ITBP), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), পুলিশ ও বন দফতরের কর্মীরা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাতে স্নিফার ডগ ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। গোই বেসক্যাম্প সংলগ্ন হ্রদ ও জঙ্গলে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ৩০ মে রাতের পর এমন কী ঘটেছিল, যার ফলে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলেন ববিতা পাণ্ডে (Babita Pandey)? তাঁর দুই সঙ্গীর বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের মোবাইল ফোনের লোকেশন, কল রেকর্ড এবং ট্রেকিং রুটও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দায়ারা বুগিয়াল (Dayara Bugyal) পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্রেকিং স্পট হলেও এমন ঘটনা সচরাচর শোনা যায় না। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ‘পাহাড়ি অঞ্চলে আবহাওয়া দ্রুত বদলে যায়। সামান্য ভুল পদক্ষেপ বিপদের কারণ হতে পারে।’ তবে পরিবারের দাবি, এই নিখোঁজের ঘটনা শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নাও হতে পারে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ববিতা পাণ্ডে (Babita Pandey) একজন মেধাবী ছাত্রী ছিলেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর নানা পরিকল্পনা ছিল। তাঁর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া পরিবার ও বন্ধুদের কাছে বড় ধাক্কা। পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘ও খুব সাহসী মেয়ে ছিল, কিন্তু কোনও খবর না পাওয়া আমাদের ভেঙে দিচ্ছে।’
এই ঘটনার পর ট্রেকিং নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পর্যটনপ্রেমীদের অনেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার দাবি তুলেছেন। যদিও প্রশাসনের দাবি, তল্লাশি অভিযান জোরকদমে চলছে এবং দ্রুত ববিতার সন্ধান মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন গোটা রাজ্যের নজর উত্তরকাশীর (Uttarkashi) পাহাড়ি এলাকায়। সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা। ববিতা পাণ্ডে (Babita Pandey)-র খোঁজ মিলবে কি না, সেই উত্তর খুঁজছে পরিবার, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Annapurna Bhandar Scheme West Bengal | সুন্দরবনে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সূচনা, হিঙ্গলগঞ্জে ৫ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা, নতুন প্রকল্পে জোর রাজ্য সরকারের



