সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা (Red Fort) সোমবার অনন্য আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সমাবেশের সাক্ষী থাকল। ইউনেস্কোর ইন্ট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ কমিটির (UNESCO’s Committee on Intangible Cultural Heritage) ২০তম সেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই ঐতিহ্যমণ্ডিত লালকেল্লায়, যেখানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা জমায়েত হয়েছেন। এমন এক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে জানান, এই বৈঠক ভারত এবং গোটা বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার পথে এক নতুন অধ্যায় রচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোস্টে উল্লেখ, ভারতের কাছে এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি আন্তর্জাতিক মিটিংই নয়, তা বৈশ্বিক সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র হিসেবে দেশকে তুলে ধরার একটি সুযোগ। তিনি লিখেছেন, “অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক ইউনেস্কো কমিটির ২০তম অধিবেশন ভারতে শুরু হওয়াটা আমাদের জন্য অপার আনন্দের বিষয়। এই মঞ্চে ১৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা ঐতিহ্য রক্ষা ও আমাদের যৌথ জীবন্ত সংস্কৃতিকে বিশ্বে প্রচারের লক্ষ্যে একত্র হয়েছেন। ভারত এই আয়োজনের আতিথ্য দিতে পেরে গর্বিত, তাও আবার ঐতিহাসিক লালকেল্লায়। এটি আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরে, সংস্কৃতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলা।”
প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশ্ব সংস্কৃতির সেতুবন্ধনেই ভারতের অটল বিশ্বাস। তাঁর মতে, শতাধিক দেশের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি এই সম্মেলনকে শুধু মর্যাদাই দিচ্ছে না, বরং অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে। লালকেল্লাকে এই সম্মেলনের আয়োজক স্থল হিসেবে বেছে নেওয়াকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সাংস্কৃতিক মহল। কারণ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ঐতিহ্য, শিল্প, স্থাপত্য সবকিছুরই উদাহরণ লালকেল্লা। এমন জায়গায় ইউনেস্কোর সম্মেলন আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্ব বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সমান।
ইউনেস্কোর এই কমিটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বিভিন্ন দেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে, যেমন লোকসংগীত, নৃত্য, আঞ্চলিক উৎসব, হস্তশিল্প, জমায়েত বা আচার অনুষ্ঠান। বৈচিত্র্যময় এই সাংস্কৃতিক উপাদানগুলির সুরক্ষা আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মতো ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দেশও এই তালিকায় বারবার নিজের অবদান রেখেছে, যার মধ্যে আছে যোগ (Yoga), কুথিয়াট্টম (Koodiyattam), দুর্গাপুজো (Durga Puja) সহ বহু কালজয়ী সংস্কৃতি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রোথিত হয়েছে, সংস্কৃতি শুধুমাত্র শিল্প নয়, সামাজিক বন্ধনের শক্তি। তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, সংস্কৃতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজ এবং প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ স্থাপনই ভারতের উদ্দেশ্য। বিষয়টিকে বিশেষজ্ঞরা বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন। উল্লেখ্য, ১৫০ দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সভাটিকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও করা হবে। ভারতের পক্ষেও এটি বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রদর্শনের অন্যতম সুযোগ।
লালকেল্লার প্রাঙ্গণে রঙিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে উদ্বোধনের মুহূর্ত উদযাপন করা হয়, সেখানে ভারতীয় ঐতিহ্যের নানান দিককে তুলে ধরা হয়। সঙ্গে ছিল আধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী, দেশের বিভিন্ন অমূর্ত সাংস্কৃতিক উপাদানকে তুলে ধরতে ব্যবহৃত হয় ডিজিটাল স্ক্রিন, হলোগ্রাফিক প্রোজেকশন এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিরা ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পান।
সংস্কৃতি মহলের বক্তব্য, এই সম্মেলন শেষ হবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নীতি ও সুপারিশ গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে, যা আগামী বছরের ইউনেস্কো তালিকা নির্ধারণ, বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণের বাজেট, প্রযুক্তি ব্যবহারের রূপরেখা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার দিক নির্দেশ করবে। ভারতের অংশগ্রহণ এবং আয়োজন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের সাংস্কৃতিক কর্তৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, লালকেল্লায় ইউনেস্কোর ২০তম সেশন শুরু হওয়া শুধু ভারতের কাছে নয়, সমগ্র বিশ্বের কাছে এক সাংস্কৃতিক উৎসব, যার মাধ্যমে মানবসমাজের অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষার প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোস্টেও সেই আশাবাদ ফুটে উঠেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আরও ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।
ছবি : ফেসবুক / সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi praises Devabrata | কাশীতে তরুণ দেবব্রতর বৈদিক সাধনায় দেশ গর্বিত, প্রশংসায় মুখর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




