Babri Masjid donation, Humayun Kabir fund | বাবরি মসজিদের নামে অনুদানে ঢল, এক দিনে ২০ লক্ষ জমা পড়তেই বাড়ানো হল ব্যাঙ্ক লিমিট

SHARE:

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে হাজির হন মদিনার কাজিরা। বিশাল নিরাপত্তা ও লাখের ওপর মানুষের ভিড়ে আয়োজন হয় শাহী বিরিয়ানির।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বহরমপুর : মুর্শিদাবাদ তথা দেশ জুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) -এর প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদ’। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই অনুদান পৌঁছে গিয়েছে কোটি টাকার ঘরে। স্থানীয় এলাকায় রাখা ১১টি দানবাক্সের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৭টি খোলা হয়েছে, যেখান থেকে উঠেছে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা। বাকি চারটি বাক্স এখনও অগণিত পড়ে রয়েছে। ধারণা, সব মিলিয়ে মোট অঙ্ক ছাড়িয়ে যেতে পারে আড়াই কোটি। এরপরও চমক শেষ নয়। দানবাক্সের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে বিশেষভাবে শেয়ার করা হয়েছিল কিউ আর কোড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর। সেখানেই জমা পড়েছে আরও ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ দানবাক্স ও অনলাইন দুই উৎস মিলিয়ে ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরের হাতে এসেছে ২ কোটির বেশি অনুদান। স্থানীয়দের মতে, এই দানের স্রোত প্রমাণ করছে মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে এলাকার মানুষের গভীর আবেগ।

দানবাক্সগুলির টাকা গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন একাধিক ধর্মগুরু। মেশিন এনে টানা গোনা হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন ব্যস্ততা দেখে নিজেও বিস্মিত বিধায়ক। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিদিন নির্দিষ্ট লিমিট থাকে। এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, “ব্যাঙ্কে দিনে ২০ লক্ষ টাকার এন্ট্রির লিমিট ছিল। একইদিনে ২০ লক্ষ উঠে যায়। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে ফোন আসে। পরে চিফ ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে লিমিট বাড়িয়ে ৪০ লক্ষ করা হয়েছে।” উল্লেখ্য যে, গত শনিবার বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হুমায়ুন কবীর। সেদিনই তিনি দাবি করেছিলেন, এই মসজিদ নির্মাণে কোনও সরকারি সাহায্য নেবেন না। সম্পূর্ণ কাজ চলবে মানুষের দেওয়া অনুদানেই। তাঁর কথায়, “অনেক বাধা পেরিয়ে আজ এখানে পৌঁছেছি। এটা মানুষের মসজিদ, মানুষের টাকাতেই হবে। কোনও দিক থেকে টাকার অভাব হবে না।” ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর মাত্র দু’দিনের মধ্যেই এক চিকিৎসক তাঁকে এক কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আরও এক ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন ৮০ কোটি টাকা দেওয়ার। যদিও ওই ব্যক্তির পরিচয় গোপন রেখেছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, যিনি দান করবেন, তিনি নিজেই নাম প্রকাশ করতে চান না।

সব হিসাব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৮৪ কোটির মতো অনুদানের আশ্বাস অথবা নগদ অর্থ হাতে এসেছে হুমায়ুনের। লক্ষ্য বিশাল ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প , যার মধ্যে শুধু মসজিদ নয়, হাসপাতাল, স্কুল এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন ভবন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত। প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে মুসলিম জনসংখ্যা অত্যন্ত বেশি। ফলে সম্প্রদায়ের আবেগের সঙ্গে এই প্রকল্পের সর্ম্পক স্বাভাবিকভাবেই গভীর। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) বলেন, “মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি মুসলমান বাস করেন। ধর্মীয় ভাবাবেগ থেকেই তাঁরা চাঁদা দিয়েছেন। এটাকে আমরা কোনওভাবেই অবজ্ঞা করতে পারি না।”

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় মসজিদের দাবি ছিল। ভরতপুরের এই উদ্যোগ সেই প্রত্যাশাকে নতুন দিশা দিয়েছে। শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করার প্রতিশ্রুতিও মানুষের মধ্যে আলাদা আস্থা তৈরি করেছে। এ কারণেই অনুদানের প্রবাহ থামছে না। সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক প্রচার চলছে। বহু মানুষ মত দিয়েছেন, এই প্রকল্প শেষ হলে এটি মুর্শিদাবাদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক উন্নয়নমূলক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন অঙ্কের স্বচ্ছতা নিয়ে। যদিও হুমায়ুন কবীরের দাবি, প্রতিটি টাকা হিসাব করে রাখা হচ্ছে এবং নির্মাণ কাজ শুরু হলে সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। তাঁর কথায়, “মানুষ বিশ্বাস রেখেছেন, তাই এত তাড়াতাড়ি এত অনুদান এসেছে। এই বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।”

এখন নজর রয়েছে বাকি চারটি দানবাক্সের উপর। সেগুলি গণনা হলে মোট অঙ্ক আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি অনলাইন দানের গতিও বাড়ছে। খুব শিগগিরি জমা অনুদান ছুঁয়ে ফেলতে পারে নতুন রেকর্ড। মসজিদ, চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিদ্যালয়, এই তিন প্রকল্পই সম্পূর্ণ হলে বদলে যাবে স্থানীয় জনজীবন। এখন দেখার, এত বিপুল অনুদান প্রকল্পের কাজে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে আপাতত একটাই ছবি পরিষ্কার, হুমায়ুন কবীরের ‘বাবরি মসজিদ’ প্রকল্প ঘিরে মানুষের আবেগে আগুন লেগেছে, আর সেই আগুনেই জ্বলছে অনুদানের অঙ্ক।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Murshidabad News, Babri Masjid Foundation | বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাস, হুমায়ুন কবীরের অনুষ্ঠানে উপচে পড়া জনস্রোত

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন