অভিরাজ চক্রবর্তী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, গুয়াহাটি : অসমে কন্যাশিক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকার যে বিশেষ ভাবে তৎপর,,তা ফের একবার স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। সোমবার নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই উদ্যোগ ফলও দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে বর্তমানে অসমে স্কুলছুট মেয়েদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, পাশাপাশি বেড়েছে নতুন ভর্তি সংখ্যাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লেখেন, “অসমের মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ জোগাতে আমরা নিয়মিতই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছি। এই উদ্যোগগুলোর ফলে রাজ্যের মেয়েদের স্কুল ছেড়ে যাওয়ার হার যেমন কমেছে, তেমনি ভর্তি সংখ্যাও বেড়েছে। এই অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষামহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অসমে গত কয়েক বছর ধরে মেয়েদের শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে রাজ্য সরকার যেসব বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোর ইতিবাচক প্রভাবই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে আছে, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম ও পাঠ্যবই প্রদান, সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি, দূরবর্তী এলাকার স্কুলে পরিবহণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ছাত্রীদের বিশেষ স্কলারশিপ এবং ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন।
রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যেও আস্থা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্কুলছুট সমস্যা বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতা তৈরি করে। বাল্যবিবাহ, আর্থিক সমস্যা, দূরবর্তী বিদ্যালয়, নানা কারণে মেয়েরা পড়াশোনা মাঝপথে থামিয়ে দিতে বাধ্য হতো। তবে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগে এই প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সরকারী প্রতিবেদন বলছে, দশম শ্রেণি পর্যন্ত উপস্থিতির হার যে হারে বেড়েছে, তা রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) বহুবারই তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, “মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নই আধুনিক অসম গড়ার ভিত্তি।” এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তাঁর সরকার নানান প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই ক্ষমতাসীন সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে। সরকারি স্তরে মেয়েদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, স্কুলে নিরাপত্তা এবং মাসিক স্বাস্থ্যবিধি বিষয়েও বিশেষ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে, যা ছাত্রীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
অসমের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারি সহযোগিতা বাড়ার কারণে এখন নিয়মিত উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে। অবকাঠামো উন্নত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে শৌচাগার সব ক্ষেত্রেই উন্নতি দেখা গিয়েছে। অনেক শিক্ষকই মনে করছেন, এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন, যা আগামী দশকে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন পথ দেখাবে। শিক্ষাবিদেরা বলছেন, যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে অসম খুব দ্রুতই কন্যাশিক্ষায় ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্য ইতিমধ্যেই বড়সড় অগ্রগতি করেছে। বহু স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম চালু হয়েছে এবং ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে ট্যাব ও ডিজিটাল লার্নিং মেটেরিয়াল।
সরকারি আধিকারিকদের দাবি, আগামী কয়েক বছরে আরও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ে। শুধু প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরে নয়, উচ্চশিক্ষায়ও মেয়েদের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে বিশেষ স্কলারশিপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শীঘ্রই STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আলাদা সেল গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে।
সমাজকর্মীরা বলছেন, সরকার যাই করুক, প্রচারের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানসিকতা পরিবর্তন করাও জরুরি। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তাঁর বক্তব্যে বারবার বলেছেন, “শিক্ষাই একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে”। আর মেয়েদের শিক্ষাই সেই ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অসমে মেয়েদের শিক্ষায় যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা রাজ্যের সামাজিক অগ্রগতির বড় ইঙ্গিত বহন করছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য সেই প্রচেষ্টাকেই সামনে নিয়ে এল, যা কন্যাশিক্ষাকে আরও সক্ষম, নিরাপদ এবং দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Himanta Biswa Sarma social media post, Charaideo educational institute | স্বর্গদেউ চাওলুং চ্যু-কা-ফাকে সম্মান জানিয়ে আসামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ঘোষণায় উচ্ছ্বাস




