Berhampore Mamata Banerjee Rally | বহরমপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা সফল করতে ধুলিয়ানে প্রস্তুতি সভা, আনারুল হক বিপ্লবের নেতৃত্বে কর্মীদের উৎসাহ

SHARE:

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন ভেঙে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে ২০১৪ সাল থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তিনবার ক্ষমতায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মমতা সরাসরি না হলেও তাঁর সঙ্গে পরোক্ষ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও আসতে পারে বইটিতে।

মোফাক হোসেন ★ সাশ্রয় নিউজ, ধুলিয়ান : মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে ৪ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর (Mamata Banerjee) জনসভাকে সফল করতে গোটা জেলা এখন প্রস্তুতির তুঙ্গে। রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন বাড়ছে, তখন ধুলিয়ানেও কর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে আলাদা উচ্ছ্বাস। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ৪ নম্বর জেলা পরিষদের সদস্য আনারুল হক বিপ্লব (Anarul Haque Biplob) -এর উদ্যোগে ধুলিয়ান নতুন ডাকবাংলা সংলগ্ন তাঁর নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভা যেন মুহূর্তের মধ্যে জনসমাবেশে রূপ নিল।

এদিনের সভায় বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অঞ্চলের কর্মী, সমর্থকদের ঢল দেখা গেছে। সভা শুরু হওয়ার আগে থেকেই ভিড় জমতে থাকে স্থানীয় এলাকায়। রাজনৈতিক সমর্থন জোগাড় নয়, আগামী ৪ ডিসেম্বরের জনসভাকে সামনে রেখে সংগঠনের শক্তিকে আরও দৃঢ় করাই ছিল এদিনের মূল উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যেই আনারুল হক বিপ্লব সরাসরি কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেন, “মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee) গত ১২ বছরে যে উন্নয়ন করেছেন, তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। মানুষের কাছে যেতে হবে, তাদের সমস্যায় পাশে থাকতে হবে। দল মানে মানুষের সেবা, সেটাই এবার নতুন করে প্রমাণ করার সময়।”

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari latest speech | বড়ঞায় পরিবর্তন সংকল্প সভায় শুভেন্দু অধিকারীর তোপ: রাজ্যে দুঃশাসন, দুর্নীতি আর মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে এবার মানুষের জেগে ওঠার সময়

সভায় উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে এমন উৎসাহ বহুদিন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধুলিয়ানের অলিগলি, আনাচ-কানাচে শুধু একটাই আলোচনা আনারুল হক বিপ্লবের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার, সব জায়গাতেই ৪ ডিসেম্বরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা নিয়ে মানুষের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। আনারুল হক বিপ্লব আরও বলেন, “এই সভা কোনও রাজনৈতিক প্রচার মঞ্চ না। এটি দায়িত্ববোধের জায়গা। মা-মাটি-মানুষ সরকারের প্রতিটি প্রকল্প যাতে প্রত্যেকে পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। এক একজন কর্মী যদি ১০ জন মানুষের কাছে পৌঁছান, তা হলে আমাদের লড়াই আরও শক্তিশালী হবে।” তিনি কর্মীদের মনে করিয়ে দেন বুথ লেভেলের সংগঠনই দলের প্রকৃত শক্তি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এবার আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়। তাই এখন থেকেই মানুষের মাঝে, মানুষের সমস্যায়, মানুষের প্রতিটি প্রয়োজনে ছুটে যেতে হবে। দলের পতাকার মান রাখতে হলে মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছাতে হবে।”

সভা শেষে কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহরমপুরের সভাকে সফল করতে শপথ নেন। আনারুল হক বিপ্লব জানান, “৪ ডিসেম্বরের জনসভায় যত বেশি মানুষ অংশ নেবেন, ততই আমাদের বার্তা, উন্নয়নের বার্তা, সঠিকভাবে পৌঁছে যাবে। তাই আমি ধুলিয়ানসহ আশপাশের প্রত্যেক মানুষের কাছে অনুরোধ করছি, আসুন, উন্নয়নের পক্ষে দাঁড়ান, মানুষের পক্ষে দাঁড়ান।”
এদিকে জেলা জুড়ে বড় মাপের প্রস্তুতি চলছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার, ব্যারিকেড প্রস্তুত, নিরাপত্তার টহল সব ক্ষেত্রেই তৎপর প্রশাসন। স্থানীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন, বহরমপুরের সভায় ভিড় হবে কয়েক লক্ষাধিক। জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, তার দিকে তাকিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল সবাই।

ধুলিয়ানে আনারুল হক বিপ্লবের বাড়ির প্রস্তুতি সভা দেখিয়েছে সংগঠনের ভিত যে এখনও শক্ত, এবং সঠিক নেতৃত্ব পেলে কর্মীরা যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারেন, তা নতুন করে প্রমাণ হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের ভোটের আগে এই রকম প্রস্তুতি ও জনসংযোগ তৃণমূলের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উল্লেখ্য, বহরমপুরের সভা ঘিরে উত্তাপ শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়; সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। আর ধুলিয়ান হয়ে উঠেছে সেই প্রস্তুতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু, আনারুল হক বিপ্লবের নেতৃত্বে নতুন উদ্যমের পাল তুলে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Vocal for Local speech | উৎসবের মরশুমে স্বদেশী ঝড় : ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর নয়া ডাক দিয়ে আত্মনির্ভরতার বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন