শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউডে তাঁর পরিচয় জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে। কিন্তু আলো-ঝলমলে স্টেজের পিছনে, গ্ল্যামারের বাইরেও আরেকটি পরিচয় বহন করেন পালক মুচ্ছল (Palak Muchhal), তিনি মানবসেবার প্রতীক। কারও কাছে তিনি সুরের পাখি, কারও কাছে ‘স্বয়ং দেবী’। কারণ, গানের তালে শুধু মনোরঞ্জনই করেননি, তাঁর সুরে ও উদ্যোগে নতুন জীবন পেয়েছে ৩,৮০০-এরও বেশি দুস্থ শিশু। আর সেই অসামান্য কাজের স্বীকৃতিতেই এবার গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (Guinness Book of World Records) এবং লিমকা বুক অফ রেকর্ডস (Limca Book of Records)-এ নাম উঠল এই তরুণী গায়িকার।
মাত্র সাত-আট বছর বয়সে জীবন তাঁকে শিখিয়েছিল সমাজের বাস্তবতা দুঃখ, দারিদ্র্য, অসহায়তা। এক ট্রেনযাত্রায় একদল অসুস্থ শিশুকে দেখে হৃদয়ে যে দাগ কেটেছিল, সেটাই বদলে দেয় তাঁর জীবনের পথ। সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, নিজের গানের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। পালকের কথায়, “খুব ছোট বয়সেই বুঝে গিয়েছিলাম, আমার সুর যদি কারও বাঁচার আলো হয়ে ওঠে, তার চেয়ে বড় আশীর্বাদ আর কিছু হতে পারে না।” সেই পথ চলা শুরু হয় মাত্র সাত বছর বয়সে। কার্গিল যুদ্ধের সময় আহত জওয়ানদের সাহায্যের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে গান গেয়েছিলেন ছোট্ট পলক। উপার্জন করেছিলেন ২৫ হাজার টাকা। সেই টাকাই তুলে দিয়েছিলেন সেনাদের চিকিৎসার জন্য। একই বছরে ওড়িশার বিধ্বস্ত এলাকায় তিনি নিজ খরচে ত্রাণ পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এক স্কুল পড়ুয়ার হার্ট সার্জারির জন্য নিজ উদ্যোগে জোগাড় করেন ৫১ হাজার টাকা, যা দেখে অভিভূত হন খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. দেবী শেঠি (Devi Shetty)। তিনি বিনামূল্যে সেই শিশুর হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার করেন। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় “পালক পলাশ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন” (Palak-Palash Charitable Foundation)।
২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩,৮০০ দুস্থ ও অসহায় শিশুর হার্ট সার্জারির খরচ বহন করা হয়েছে। ভারত থেকে আমেরিকা এই সাহায্যের বিস্তার আন্তর্জাতিক। প্রতিটি কনসার্টে পাওয়া টাকাই ব্যয় করেন তিনি শিশুদের চিকিৎসার জন্য। গায়িকা কয়েকদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “খুব ছোট করে উদ্যোগটা শুরু করেছিলাম। একটা শিশুর জীবন বাঁচাতে পেরেছিলাম। কিন্তু আজ এই মানবসেবা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় মিশন। আমার প্রত্যেকটা কনসার্টের লক্ষ্য, একটি সন্তানের বুকের ব্যথা দূর করা, তার হার্ট সুস্থ করা।”
পালকের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ প্রথম কোনও বলিউড গায়িকার নাম যুক্ত হল মানবসেবার জন্য। তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে উৎসবের আবহ, অভিনন্দনের বন্যায় ভাসছেন গায়িকা। সামাজিক মাধ্যমেও প্রশংসার ঢল নেমেছে। মানুষের পাশে থাকার এই অনবদ্য যাত্রা যে এখানেই শেষ নয়, তার ইঙ্গিত দিয়েছেন গায়িকা নিজেই। তিনি জানান, “একেকটি শিশুর হাসি আমার নতুন অনুপ্রেরণা। যতদিন গলা আছে, ততদিন গান গাইব শুধু তাদের জন্যই।” উল্লেখ্য, যেখানে চমক, বিতর্ক আর গ্ল্যামার নিয়েই খবরের শিরোনাম ভরে যায়, সেখানে পলক মুচ্ছলের মতো শিল্পী মনে করিয়ে দেন যে, গানের শক্তি শুধু বিনোদনে নয়, মানুষের জীবন বদলে দিতেও সক্ষম।
৩,৮০০ শিশুর বুকের ব্যথা থেমে গিয়েছে, তাদের হৃৎপিণ্ডে নতুন ছন্দ বাজছে, আর সেই সুরের মূল স্রষ্টা একজন মানুষ, একজন গায়িকা, একজন যোদ্ধা, পলক মুচ্ছল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee D.Litt, Yokohama University Honorary Degree | জাপানের ইয়োকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডিলিট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে, জানালেন আগামী বছরই জাপান সফরে যাবেন



