সংবেদন শীল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ভারতের নারী ক্রিকেটে আনন্দ আর আবেগের জোয়ার। বিশ্বকাপ জয়ের সেই উত্তেজনা এখনও কমেনি। নভি মুম্বইয়ের মাঠে ইতিহাস গড়ে ভারতের মেয়েরা যখন বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলে নেয়, তখন লাখো ক্রিকেটপ্রেমীর চোখে জল ছিল। আর সেই চোখের জল এবার দেখা গেল ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana) -এর চোখেও। এমন এক দৃশ্য যা ক্রিকেট দুনিয়ায় বিরল মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপ জয়ের পর বোর্ড প্রকাশ করেছে এক হৃদয়স্পর্শী ভিডিও, সেখানে স্মৃতি নিজেই জানিয়েছেন তাঁর আবেগের কারণ। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রফি পাশে রেখে মাঠে বসে নিজের দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনের নানা স্মৃতি মনে করছেন তিনি।
বারবার চোখ মুছছেন, কিন্তু মুখে একটাই কথা, “এই জার্সিতে ‘চ্যাম্পিয়নস’ লেখা দেখতে পাওয়ার স্বপ্নটাই ছিল সবথেকে বড় অনুপ্রেরণা।” স্মৃতি বলেন, “প্রায় এক দশক হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। এত দিনে কত হার দেখেছি তার হিসেব নেই। ২০১৭ ও ২০২০ সালের হার ছিল জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক মুহূর্ত। তার পরে আরও দু’টো সেমিফাইনালে হেরেছি, যেগুলো আমরা জিততে পারতাম বলে এখনও মনে হয়।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি হারই আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। প্রত্যেকবারই নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, একদিন না একদিন আমরা ট্রফিটা জিতবই। আর এবার সেই দিনটা এসে গেল। এই দলের প্রতিটি মেয়ে অবিশ্বাস্য লড়াই করেছে।”

বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তে নিজের চোখের জল নিয়ে স্মৃতি জানান, “আজ হয়ত মাঠে জীবনের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ দিন কাটালাম। কারণ, এর আগে যতবার হেরেছি, কেউ কেউ কেঁদেছে, কিন্তু আমার চোখে কখনও জল আসেনি। আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। কিন্তু এবার মনে হয়েছিল, জিতে গেলে কাঁদব। সেটাই হয়েছে। মনে হচ্ছিল, এত বছরের সব কষ্ট, পরিশ্রম আর অপূর্ণতা যেন একসঙ্গে ভেসে যাচ্ছে সেই চোখের জলে।”
ভারতের সহ-অধিনায়ক আরও বলেন, “গত ৩৫-৪০ দিন আমরা এমন একটা পরিবেশে ছিলাম যেখানে সবাই একে অপরকে বিশ্বাস করেছে। ম্যাচের পর যখন সতীর্থদের হাসতে দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল ওরা পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। এমন দৃশ্য দেখলে যে কারও চোখে জল আসবে।” স্মৃতি আরও জানান, বিশ্বকাপের এই জয় শুধুমাত্র একটি ট্রফি জেতা নয়, এটা এক দশকের পরিশ্রমের ফল। তাঁর কথায়, “ছোটবেলায় ক্রিকেট শুরু করার সময়ই একটা স্বপ্ন ছিল, একদিন ভারতকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে চাই। আজ সেটা সত্যি হল। নিজের দেশের মাঠে ৫০ হাজার দর্শকের সামনে খেলে বিশ্বকাপ জেতার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।”

এই জয়কে উৎসর্গ করেছেন স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana) ভারতীয় নারী দলের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের। “যারা আমাদের আগে খেলেছেন, যাদের হাত ধরে আমরা এগিয়েছি, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আজকের এই জয় তাঁদেরও প্রাপ্য,” বলেন স্মৃতি। অন্যদিকে, বোর্ডের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, স্মৃতি মন্ধানা এই দলের অন্যতম স্তম্ভ। তাঁর ব্যাটিংয়ের ধার এবং নেতৃত্বের গুণাবলী ভারতের নারী ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ক্রিকেট সমালোচকরা বলছেন, স্মৃতির এই আবেগ ক্রিকেটকে আরও মানবিক করে তুলেছে। মাঠে যিনি এতটা দৃঢ়, তিনিও আসলে হৃদয়ের মানুষ। আসলে, ভারতের নারী ক্রিকেট ইতিহাসে এই জয় এক নতুন অধ্যায় লিখে দিয়েছে। সারা দেশে এখন উদযাপন চলছে ভারতের উইমেন্স ব্লু’র বিশ্বকাপ জয়। লক্ষ লক্ষ ভক্ত লিখছেন, ‘তোমার চোখের জলই ভারতের গর্ব।’

অন্যদিকে, স্মৃতি মন্ধানাও জানিয়েছেন, এই জয় তাঁকে আরও দায়বদ্ধ করেছে। “এই ট্রফি শুধু আমাদের নয়, দেশের প্রতিটি মেয়ের। যারা কখনও ব্যাট হাতে মাঠে নামতে চায়, তাদের কাছে এই জয় হোক অনুপ্রেরণা।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ভারতের নারী ক্রিকেটের এই সাফল্যে এখন শুধু আনন্দ নয়, আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে বহুগুণ। এই জয় হয়ত ভবিষ্যতের জন্য পথ দেখাবে নতুন প্রজন্মকে, যেখানে স্মৃতি মন্ধানার মতো ক্রিকেটারদের চোখের জলও হয়ে উঠবে অনুপ্রেরণা।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana wedding | বিশ্বজয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন ইনিংস! বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন স্মৃতি মান্ধানা, প্রেমিক পলাশ মুছলের সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন ‘উইমেন ইন ব্লু’ তারকা




