শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar)। দীর্ঘদিনের অভিনয় ও নৃত্যের যাত্রায় তিনি যেমন সম্মান পেয়েছেন, তেমনই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজের মন্তব্যের জেরে বারবার বিতর্কের মুখেও পড়েছেন। শাড়ির আঁচল বিতর্ক থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে মন্তব্য, কয়েক মাস পরপরই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবু নিজের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ মমতা। এবার ‘মি টু’ আন্দোলন নিয়ে তাঁর নতুন মতামত ফের তোলপাড় ফেলল ইন্ডাস্ট্রি মহলে।সম্প্রতি এক বাংলা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মি টু’ আন্দোলন সম্পর্কে তাঁর অবস্থান আজও বদলায়নি। তাঁর কথায়, “একজন নারী যেমন নিজের সম্মান নিজেই তৈরি করেন, আবার নিজের ভুল প্রয়াসে তা হারাতেও পারেন। কোনও অনৈতিক কাজের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের দিকেই আঙুল তোলা উচিত নয়; অনেক সময় মহিলারাও সেসব পরিস্থিতির অংশ হন।”
তাঁর দাবি, ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রস্তাব গ্রহণ করেন, আর যখন কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না মেলে, তখন সেটাই মি টু অভিযোগে পরিণত হয়। মমতার দেওয়া এই বক্তব্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে, এবং এর স্বপক্ষে-বিপক্ষে মত দিচ্ছেন নেটিজেনরা।
এ বিষয়ে মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar) আরও বলেন, “অনৈতিক প্রস্তাব বা দুর্ব্যবহারকে প্রশ্রয় দেওয়া আর জোরপূর্বক শারীরিক হেনস্তা- দুটো সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। অনেক ক্ষেত্রে নিজের বিচক্ষণতাতেই এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় খারাপ কিছু বুঝলে দূরে সরে যাই।” তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তিনি মনে করেন, আত্মসম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তির নিজের উপরই নির্ভর করে। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, “আমি ছোট বয়স থেকে নাচ শিখেছি। বিনোদনজগতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহু বছরের। অথচ আমাকে কোনওদিন কেউ কুপ্রস্তাব দেয়নি বা কোনও কুমন্তব্য করেনি। আমি সবার সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রেখেছি, আর যেখানে ভুল বা খারাপ কিছু বুঝেছি, সেখান থেকে নিজেই দূরে থেকেছি।” ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞদের কাছে এই বক্তব্য হয়ত স্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু নতুন প্রজন্মের অনেক অভিনেত্রী তাঁর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ।
আরও পড়ুন : Filmfare Awards 2025: ‘লাপাতা লেডিস’-এর দাপট, শাহরুখ আবারও সেরার মঞ্চে, ঝলমলে রাত জিতল হৃদয় ও ট্রফি!
অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করে বলেছেন, প্রতিটি নারী একই অভিজ্ঞতা পাবেন না। কেউ কেউ লিখেছেন, ক্ষমতার ভারসাম্যহীন অবস্থানে দাঁড়িয়ে সৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। অন্যদিকে, মমতা শঙ্করের সমর্থকরা মনে করেন, তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, এবং তাঁর বক্তব্যে বাস্তবতার ছাপ রয়েছে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদল বলছেন, “মমতা শঙ্কর সাহস করে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের অস্বস্তিকর সত্যিটা বলেছেন।” আরেকদল বলছেন, “এই মন্তব্যে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতাকে ছোট করা হয়েছে।” যাই হোক, বিতর্ক যেন মমতার শ্যাডো হয়ে গিয়েছে। যতই সমালোচনা হোক, নিজের মত প্রকাশ করতে তিনি পিছিয়ে থাকেন না।
প্রসঙ্গত, অতীতেও নানাভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar)। কখনও শাড়ির আঁচল নিয়ে মন্তব্য, কখনও স্যানিটারি ন্যাপকিন সংক্রান্ত বক্তব্য, তাঁর কথা প্রায়ই জনমতকে দ্বিধাবিভক্ত করেছে। কিন্তু তিনি তাতে বিচলিত নন। তাঁর মতে, শিল্পীর দায়িত্ব সমাজের বাস্তব সমস্যাকে আলোচনায় আনা, আর নিজের সত্যি কথা নির্ভয়ে প্রকাশ করা। ওই সাক্ষাৎকারেও সেই একই দৃঢ়তা ফুটে উঠল। তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়; একইসঙ্গে নিজের সীমারেখা তৈরি করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও জরুরি। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি সদস্যেরই উচিত সম্পর্ক ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা, যাতে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা অপব্যবহার না ঘটে। এই নতুন মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যম আবারও সরগরম। কেউ বলছেন, তিনি কঠোর কিন্তু সত্য কথাই বলেছেন; কেউ আবার সন্দেহ প্রকাশ করছেন তাঁর মতামতের বাস্তবতা নিয়ে। তবে একথা বলা যায়, মমতা শঙ্কর যে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে, তা নিঃসন্দেহে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Deepika Padukone Kalki 2898 AD controversy | ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-তে দীপিকা পাড়ুকোনকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক! নেট দুনিয়ায় তোলপাড়, মুখ খুললেন অনুরাগীরা




