সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বলিউডের প্রাক্তন ‘বোল্ড’ ডিভা সেলিনা জেটলি (Celina Jaitly) এতদিন সংসারের ভাঙন, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, অস্বাভাবিক যৌনচারের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৩ বছরের বিবাহিত জীবনে ঘটে যাওয়া অন্ধকার সত্যগুলো তিনি আর চাপা রাখতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়া নিবাসী স্বামী পিটার হগ (Peter Haag) -এর বিরুদ্ধে ডিভোর্স পিটিশনে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, বিয়ের প্রথম দিন থেকেই স্বামীর নির্যাতনের শিকার ছিলেন তিনি, এবং ধীরে ধীরে সেই নির্যাতন এমন চরমে পৌঁছায় যে তাকে একদিকে পণের জন্য চাপ, অন্যদিকে শারীরিক অত্যাচার, শুধু তা-ই নয়, অস্বাভাবিক যৌনচারে বাধ্য করা, সবকিছুই সহ্য করতে হত।

২০১১ সালে পিটার হগকে বিয়ে করেন সেলিনা। দেখতে সুন্দর, সফল হোটেল ব্যবসায়ী, আন্তর্জাতিক জীবন সব মিলিয়ে বাইরে থেকে নিখুঁত লাগলেও বাস্তব ছিল একেবারে উল্টো। তিন সন্তানের জন্ম হলেও সংসারের শান্তি পাননি অভিনেত্রী। বরং অভিযোগ অনুযায়ী, সন্তানদের উপস্থিতিতেও তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো। সেলিনা জানান, “পিটার প্রথম দিন থেকেই আমাকে পণের জন্য চাপ দিত। বলত, অন্য ভারতীয় জামাইরা নাকি দীর্ঘ তালিকা পায় : গয়না, ব্যয়বহুল পোশাক, দামি উপহার। আমার পরিবার তাই সাত লক্ষ টাকার গয়না-কাফলিঙ্ক দিতে বাধ্য হয়েছিল।” অভিযোগ এখানেই থেমে নেই। ইতালিতে হানিমুনে যাওয়ার সময় ঋতুস্রাবজনিত তীব্র ব্যথায় ভুগলে তিনি স্বামীকে ডাক্তার দেখাতে বলেছিলেন। কিন্তু পিটারের আচরণে হতবাক হন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “ও চেঁচিয়ে ওঠে, গালিগালাজ করে, আর আমার দিকে ওয়াইনের গ্লাস ছুঁড়ে ভেঙে দেয়। সেই মুহূর্তে আমি বুঝে যাই, আমি কোন মানুষটিকে বিয়ে করেছি।” নির্যাতনের মাত্রা ধীরে ধীরে চরমে পৌঁছায়। সেলিনা ডিভোর্স পিটিশনে লিখেছেন, যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি তখনও সন্তানদের স্তন্যপান করাচ্ছিলেন। “এক প্রতিবেশী না আসলে আমি সেদিন কী করতাম জানি না,” বলেন সেলিনা।
আরও ভয়াবহ অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী, দিল্লির নির্ভয়া গণধর্ষণের কথা তুলে পিটার নাকি তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন, “তোমার গোপনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেব।” শুধু তাই নয়, দাবি করেছেন, ২০১৪-১৫ থেকে পিটার তাঁকে তার অফিসের সিনিয়র কর্মীদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন, নিজের পদমর্যাদা বাড়ানোর জন্য। রাত হলেই সেলিনাকে ‘উপরের ঘরে’ ডেকে অকথ্য যৌন নিপীড়ন করতেন বলে অভিযোগ। “প্রতিদিনই আমাকে অ্যানাল সেক্সে বাধ্য করত। আমাকে মানুষ নয়, একটা যৌনপুতুল বানিয়ে রেখেছিল,” বলেন সেলিনা।এছাড়াও পিটারের বিরুদ্ধে নগ্ন ছবি তুলে রেখে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, স্বামী অত্যন্ত ‘নির্মম’ এবং ‘নিয়ন্ত্রণপাগল’। এর ফলে তিন সন্তানকেও তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ায় আছে, এবং সেলিনাকে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
সেলিনা আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, সন্তানদের সঙ্গে যেন তাঁর মৌখিক যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি খোরপোশ হিসেবে স্বামীর থেকে তিনি ৫০ কোটি টাকা দাবি করেছেন। ইতিমধ্যেই মুম্বাই আদালত অস্ট্রেলিয়ায় থাকা পিটার হগকে নোটিশ পাঠিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ ডিসেম্বর। উল্লেখ্য, বলিউডের অন্দরে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র আলোচনা চলছে। অনেকেই সেলিনার পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং তাঁর সাহসের প্রশংসা করছেন, কারণ এই ধরনের গার্হস্থ্য হিংসা ও যৌন নির্যাতনের কথা সাধারণত পরিচিত মুখেরা প্রকাশ করেন না। বিশেষত যখন বিদেশে বসবাসরত স্বামী এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে। সেলিনা জেটলির এই সাহসী পদক্ষেপ অন্য নারীদেরও অনুপ্রেরণা দেবে বলে মনে করছেন অনেকে। সমাজের অন্ধকার কোণে বন্দী থাকা গার্হস্থ্য হিংসার বহু গল্প হয়তো এই ঘটনায় আবার সামনে আসবে। আর বলিউডের এই অভিনেত্রী প্রমাণ করলেন, একসময় যাকে ‘গ্ল্যামার ডল’ ভাবা হতো, তিনি আসলে অনেক বেশি দৃঢ়, সচেতন এবং সংগ্রামী।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ranveer Singh Deepika Padukone Relationship News | দীপিকার এক গুণেই শান্ত রণবীর বিপরীত স্বভাব কি সত্যিই সম্পর্কে সমস্যা তৈরি করছে? মুখ খুললেন বলি-তারকা




