সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আইপিএলের (IPL) ছোট নিলাম হওয়ার আগেই সত্যি হল বহুদিনের জল্পনা। বাংলার তারকা পেসার মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) এবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad) ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন লখনউ সুপার জায়ান্টসে (Lucknow Super Giants)। সঞ্জীব গোয়েন্কা (Sanjiv Goenka)-র মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে তাকে দলে টেনে নিল বলে জানিয়েছে ‘ক্রিকইনফো’। এর ফলে ডিসেম্বরের নিলামে শামিকে নামাতে হচ্ছে না, অর্থাৎ তিনি সরাসরি দলবদল করে নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন।
এই দলবদল হচ্ছে একেবারে টাকার বিনিময়ে, কোনও ক্রিকেটারের সঙ্গে বিনিময় নয়। দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি ইতিমধ্যেই শামির বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে শামির মতামত নেওয়া হয়নি, কিন্তু দলের সূত্রে খব, এই সিদ্ধান্তে তাঁর আলাদা কোনও আপত্তি থাকার সম্ভাবনা নেই। আইপিএলের ছোট নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ১৬ ডিসেম্বর, সৌদি আরবে। তার আগে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি দলকে জানিয়ে দিতে হবে কাদের ধরে রাখা হবে। সেই রিটেনশন তালিকাতেই প্রকাশ্যে আসতে পারে এই বড়সড় পরিবর্তন। ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, হায়দরাবাদের জার্সি ছেড়ে লখনউয়ের হয়ে মাঠে নামলে শামির পারফরম্যান্সে কী পরিবর্তন দেখা যায়।
গত ওয়ান ডে বিশ্বকাপের পর চোটের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল শামিকে। তার পর থেকেই জাতীয় দলে তিনি নিয়মিত নন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়ে শিরোপা জিতলেও, পরবর্তী সিরিজগুলিতে তাঁকে দেখা যায়নি। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি ফর্মে ফিরেছেন বেশ শক্তভাবেই। বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে তিন ম্যাচে ১৫টি উইকেট তুলে নিয়ে নজর কাড়েন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। আইপিএলের গত মরসুমে শামির পারফরম্যান্স তুলে ধরলে দেখা যায়, হায়দরাবাদের হয়ে ১৪ ম্যাচের মধ্যে তিনি খেলেছেন মাত্র ৯টিতে। এই ৯ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে ছিল মাত্র ৬টি উইকেট। ওভারপ্রতি ১১.২৩ রান হজম করেছিলেন তিনি। সেই জায়গা থেকেই শামির দলে টিকে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল। প্রথম একাদশে নিয়মিত জায়গা না পাওয়ার কারণে দল তাঁকে ছাড়তে পারে, এমন জল্পনা তৈরি হয়েছিল শুরু থেকেই। এমনকী একসময় শোনা যাচ্ছিল, হয়ত কোনও দলই তাকে নিতে আগ্রহ দেখাবে না।
কিন্তু শেষমেশ পরিস্থিতি বদলে দিল লখনউ। তাদের টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, অভিজ্ঞ পেসার হিসেবে শামি এখনও ম্যাচউইনার হওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বিশেষ করে তাঁর নতুন বলে সুইং, লেট মুভমেন্ট এবং ডেথ ওভারে উইকেট তোলার ক্ষমতা লখনউয়ের পেস আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ফ্র্যাঞ্চাইজির একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানিয়েছেন, শামি দলে এলে তরুণ পেসারদের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ক্রিকেট মহলে আলোচনা, একইসঙ্গে মার্ক উড (Mark Wood)-এর অনুপস্থিতি এবং লখনউয়ের ডেথ বোলিং দুর্বলতা মেটাতে শামিকে আদর্শ পছন্দ বলেই মনে করছে দল। অন্যদিকে হায়দরাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে। গত বছর হায়দরাবাদের বোলিং আক্রমণ বেশ অনিয়মিত ছিল ঠিকই, কিন্তু অভিজ্ঞ বোলারকে পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে দলটির এক অংশের দাবি, শামির গত মরসুমের ব্যর্থতা ও চোটফিরতি পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন রোডম্যাপ তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। লখনউয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে শামির ভক্তদের আশা, মাঠে হয়ত আবার দেখা যেতে পারে সেই পুরনো ছন্দ, যেখান থেকে ব্যাটারদের কাঁপিয়ে দিয়েছেন তিনি বহুবার। উল্লেখ্য, একটি নতুন দলে, নতুন পরিবেশে এবং নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চলেছেন বাংলার তারকা পেসার। ১০ কোটি টাকার এই চুক্তি আইপিএল ২০২৫-এর অন্যতম বড় খবর হিসেবে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত




