Bihar Election 2025, RJD reaction | বিহার ভোটে ধাক্কা খেয়ে প্রথমবার মুখ খুলল আরজেডি ও জন সুরাজ, পরাজয়ের ব্যাখ্যায় কী বলল তেজস্বী যাদব ও পিকে -এর দল

SHARE:

তেজস্বী যাদবই হচ্ছেন বিহারে ইন্ডিয়া ব্লকের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী। অশোক গেহলট ও লালু যাদবের বৈঠকে মিলল সমাধান। বৃহস্পতিবার হতে পারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫ -এর ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক হাওয়া যেন হঠাৎ করেই বদলে গেল। প্রবল প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও শোচনীয় ফল করল দুই উল্লেখযোগ্য শক্তি তেজস্বী যাদবের (Tejashwi Yadav) আরজেডি (RJD) ও প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) জন সুরাজ। রাজ্যের ২৪৩ আসনের নির্বাচনে এনডিএ -এর ঝড়ের সামনে ভেঙে পড়েছে বিরোধী শিবির। আর সেই ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দিতে অবশেষে মুখ খুলেছে দুই বিরোধী দলই।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Bihar message, NDA victory Bihar | বিহারের ঐতিহাসিক রায়: জয় নিশ্চিত হতেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর অভিনন্দনবার্তা, উচ্ছ্বাসে শাসকজোট

পাঁচ বছর আগে, অর্থাৎ ২০২০ সালে, রাজ্যে একক বৃহত্তম দল হয়েছিল আরজেডি। সেই নির্বাচনে ৭৫টি আসন দখল করে তেজস্বী যাদব নিজেকে রাজনীতির ‘উদীয়মান তারকা’ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ -এ ছবিটা বদলে গেল। এ বার ১৪৩টি আসনে লড়াই করে আরজেডি পেয়েছে মাত্র ২৫টি আসন, যা আগের তুলনায় প্রায় এক তৃতীয়াংশ কম। এই ফল নিঃসন্দেহে তেজস্বীর ভবিষ্যৎ কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই অবস্থাতেই গত শনিবার দুপুর ১টা ৮ মিনিটে আরজেডি তাদের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, “মানুষের সেবা একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। এখানে উত্থান-পতন অনিবার্য। পরাজয়ে কোনও দুঃখ নেই, আর বিজয়ে কোনও অহংকার নেই।” আরও বলেছে, “রাষ্ট্রীয় জনতা দল গরিবের দল। গরিবের অধিকার রক্ষায় আমরা সবসময় সোচ্চার থাকব।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বার্তায় আরজেডি পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা সংগঠনকে আবার শক্তিশালী করতে চাইছে এবং তৃণমূল স্তরে পুনর্গঠনের পথে হাঁটবে। তবে রাজনীতির ময়দানে প্রশ্ন উঠছে, গরিবের দল বলে দাবি করা আরজেডি প্রকৃতপক্ষে কেন বৃহৎ ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে ব্যর্থ হল?

অন্যদিকে, প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor), যিনি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে একাধিক সাফল্য পেয়েছেন, তিনি নিজে যে রাজনৈতিক পরীক্ষায় নেমেছিলেন, সেখানে এবার শূন্য হাতে ফিরেছেন। তাঁর দল জন সুরাজ একটিও আসন দখল করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জন সুরাজ। দলের জাতীয় সভাপতি উদয় সিং (Uday Singh) সেখানে স্পষ্ট বলেন, “ফলাফলে আমরা হতাশ ঠিকই, তবে হতোদ্যম নই। আমরা কোনও আসন না পেলেও এনডিএ -এর বিরোধিতা চালিয়ে যাব।” তিনি আরও দাবি করেন, “মুসলিম ভোটারদের কাছে আমরা পৌঁছতে পারিনি। আর ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে, রাজ্যের মানুষ আরজেডি’র বিরুদ্ধে একটি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।” তাছাড়া ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’ নিয়ে তাঁর বক্তব্য আরও রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি করেছে। উদয় সিংয়ের অভিযোগ, নির্বাচনের ঠিক আগেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ফলে এই প্রকল্প বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে ভোটে। তাঁর কথায়, “সরকার নির্বাচনের আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢেলে ভোটে প্রভাব ফেলেছে। এর ফল ভোগ করতে হয়েছে বিরোধী শিবিরকে।”

জন সুরাজ শিবিরের আরেক নেতা বলেন, “আমাদের প্রচারে কোনও ঘাটতি ছিল না। তবে সংগঠনগত দুর্বলতা এবং ধর্মীয় ভোটের পালাবদল আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি।” পিকে -এর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পরেও তার নিজের দলের এই ব্যর্থতা রাজনৈতিক মহলে বিস্তর প্রশ্ন তুলেছে। যদিও এনডিএ ২০২টি আসন পেয়ে বিপুল ব্যবধানে সরকার গঠন করেছে, বিরোধীদের এই ব্যাখ্যা থেকে পরিষ্কার ২০২৫ -এর ফলাফল বিহারের রাজনীতিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে সকলকেই। বিশেষ করে আরজেডি ও জন সুরাজের মতো দলগুলোকে আগামী দিনে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে নতুন স্ট্র্যাটেজি গড়তে হবে। বিহারের এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, রাজনীতিতে কোনও অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়। উত্থান আছে, পতনও আছে। তেজস্বী যাদবের শান্ত বার্তা এবং পিকে -এর দলের আত্মসমালোচনা দুটোই এখন নজরে দেশের রাজনৈতিক মহলের। আগামী দিনে এই দুই দলের রাজনৈতিক পুনর্গঠন বিহারের রাজনীতির চেহারা কতটা পাল্টাবে, তা দেখাই এখন সময়ের অপেক্ষা।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Bihar Assembly Election | বিহার ভোটে ক্ষুদ্র ব্যবধানের নাটক, কয়েক ভোটেই নির্ধারিত জয়ের হাসি-কান্না

 

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন