Saudi Arabia Floating Stadium, Neom Sky Stadium | ভাসমান স্টেডিয়ামে ২০৩৪ বিশ্বকাপ! সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বিস্মিত ফুটবল বিশ্ব

SHARE:

সৌদি আরব (Saudi Arabia) পরিকল্পনা করছে বিশ্বের প্রথম ‘ভাসমান’ স্টেডিয়াম, যেখানে ২০৩৪ বিশ্বকাপের ম্যাচ হতে পারে। মরুভূমির ৩৫০ মিটার উপরে তৈরি হবে নিওম স্কাই স্টেডিয়াম (Neom Sky Stadium)।

সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ফুটবল মানে আবেগ, ইতিহাস আর প্রযুক্তির মেলবন্ধন। কিন্তু এবার সেই খেলার মঞ্চই হতে চলেছে ইতিহাসের অনন্য সৃষ্টি। সৌদি আরব (Saudi Arabia) ঘোষণা করেছে এমন এক স্টেডিয়ামের পরিকল্পনা, যা হবে পৃথিবীর প্রথম ‘ভাসমান’ ফুটবল স্টেডিয়াম, মরুভূমির পৃষ্ঠ থেকে ৩৫০ মিটার উপরে! ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2034) এই স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হতে পারে কয়েকটি ম্যাচ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেই প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের ছবি ও ভিডিও, যা দেখে বিস্মিত বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা, এমনকী ভারতীয় শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েন্‌কাও (Sanjiv Goenka) মন্তব্য করেছেন, “এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য! ভবিষ্যতের খেলা এমনই হবে মনে হয়।”

সৌদি আরবের এই ‘নিওম স্কাই স্টেডিয়াম (Neom Sky Stadium)’ হচ্ছে দেশের স্বপ্নের প্রকল্প ‘দ্য লাইন (The Line)’ -এর অংশ, যা একটি স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব নগরী তৈরির পরিকল্পনা। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রকল্পের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌদি আরব শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এক নতুন যুগের স্থাপত্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করতে চায়।সৌদি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘নিওম স্কাই স্টেডিয়াম’-এর নকশা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্থপতিদের কাছ থেকে একাধিক প্রস্তাব এসেছে, যার মধ্যে থেকে সেরা নকশাটি বেছে নেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তা প্রস্তাবিত ডিজাইন মাত্র; আসল স্টেডিয়ামের সঙ্গে সেটির মিল নাও থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে শুরু হবে নির্মাণকাজ এবং ২০৩২ সালের মধ্যেই স্টেডিয়াম প্রস্তুত হয়ে যাবে। এই স্টেডিয়াম তৈরি হবে নিওম স্মার্ট সিটির (Neom Smart City) মধ্যে, যা পুরোপুরি টেকনোলজি নির্ভর এবং পরিবেশ-বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, শহরটি ১৭০ কিলোমিটার লম্বা একটি সরল রেখায় তৈরি হবে, যেখানে যানবাহন বা কার্বন নির্গমন থাকবে না। প্রকল্পটির সমাপ্তি ঘটবে ২০৪৫ সালের মধ্যে।

এই ‘ভাসমান স্টেডিয়াম’-এর মূল আকর্ষণ হবে এর অবস্থান মরুভূমির পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,০০০ ফুট উঁচুতে! স্টেডিয়ামটি হবে সম্পূর্ণভাবে শূন্য নির্গমন (Zero Emission) প্রযুক্তিতে নির্মিত। এতে ব্যবহৃত হবে সৌর শক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। দর্শকরা দেখতে পাবেন এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যেখানে পৃথিবীর বুকে ‘আকাশে ঝুলে থাকা’ এক স্টেডিয়ামেই গর্জন করবে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ আয়োজনে সৌদি আরবের আরও বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ১৫টি অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে ২০৩৪ বিশ্বকাপের জন্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ রিয়াধের (Riyadh) ‘কিং সলমন ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম (King Salman International Stadium)’, যার দর্শকাসন ক্ষমতা হবে ৯২,৭৬০ জন, যা সৌদি আরবের সবচেয়ে বৃহৎ স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে উঠছে। ধারণা করা হচ্ছে,এই স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে ২০৩৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ।

সৌদি সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রকের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, “আমরা শুধু একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাই না, বিশ্বের সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও টেকসই স্পোর্টস ইভেন্ট তৈরি করতে চাই।” অন্যদিকে, শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েন্‌কা (Sanjiv Goenka) সৌদি আরবের এই পরিকল্পনা দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেছেন, “এই ভাসমান স্টেডিয়ামের কনসেপ্ট শুনে মনে হয় যেন ভবিষ্যতের পৃথিবীতে ঢুকে পড়েছি। প্রযুক্তির এমন ব্যবহার ভারতেও হওয়া উচিত। ক্রীড়াঙ্গনে এমন দৃষ্টান্ত সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।” প্রসঙ্গত, ফুটবল বিশ্বে এই ঘোষণা যে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কোনও সন্দেহ নেই। স্থাপত্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “নিওম স্কাই স্টেডিয়াম শুধু একটি খেলার মাঠ নয়, এটি মানব সভ্যতার স্থাপত্যশিল্পের এক বিশাল লাফ।” সৌদি আরব যে আগামী দশকে বিশ্ব ক্রীড়ার রাজধানী হতে চায়, তা এই প্রকল্প থেকেই স্পষ্ট।

সৌদি আরব ইতিমধ্যেই এশিয়ান কাপ (AFC Asian Cup) আয়োজনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলের ক্ষেত্রেও দেশটি বিপুল বিনিয়োগ করেছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) -এর আল নাসর (Al Nassr)-এ যোগদান থেকে শুরু করে করিম বেঞ্জেমা (Karim Benzema), নেইমার (Neymar)-এর আগমন সব মিলিয়ে সৌদি ফুটবলের রেনেসাঁ চলছে। ফুটবল সমালোচকরা বলছেন, “এই ‘ভাসমান’ স্টেডিয়াম শুধু প্রযুক্তির বিস্ময় নয়, এটি সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০ (Vision 2030)’ প্রকল্পের বাস্তব প্রতিফলন।” সব মিলিয়ে, মরুভূমির দেশে ‘আকাশে ঝুলে থাকা’ এক ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরির এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০৩৪ সালে সেই স্বপ্নের মাঠে বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে কি না, তা সময়ই বলবে, তবে সৌদি আরব ইতিমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে, অসম্ভব এখন তাদের অভিধানে নেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit Sharma ICC ranking, Rohit Sharma No.1 ODI batsman | ৩৮ বছর বয়সেও বিশ্ব এক নম্বর! শুভমনকে পিছনে ফেলে নতুন নজির গড়লেন রোহিত শর্মা

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন