সাশ্রয় নিউজ ★নতুন দিল্লি: আহমেদাবাদের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad Air Crash) পর একরাশ আতঙ্ক আর কান্নার ছায়া দেশের সর্বত্র। যাত্রীদের ছিন্নভিন্ন দেহ, ঝলসানো মুখ, চিনতে না পারা মৃতদেহ। এই ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দেহ শনাক্তকরণে জোর দিচ্ছে আধুনিক পদ্ধতির উপর। শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)জানান, ‘প্রতিটি দেহের DNA নমুনা নিয়ে সম্ভাব্য পরিবারদের নমুনার সঙ্গে মেলানো হচ্ছে। যাতে নিশ্চিত হওয়া যায়, কে কোথায়, কার দেহ।’ মুখ দেখে যখন কোনোভাবেই দেহ চেনার উপায় নেই। তখন বিজ্ঞানের ওপরই ভরসা রাখছে সরকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, “এই দুর্ঘটনায় গোটা দেশ শোকাহত। এমন ঘটনা কখনও কাম্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকার, গুজরাট সরকার ও আমাদের প্রধানমন্ত্রী সকলেই মৃতদের পরিবারের পাশে আছেন। উদ্ধার কাজে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করছে।”
এই মুহূর্তে সবচেয়ে জটিল কাজ দেহ শনাক্তকরণ। কারণ, দুর্ঘটনার তীব্রতায় প্রায় প্রতিটি দেহ এমনভাবে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে যে পরিবার-পরিজনও নিশ্চিত হতে পারছেন না কে বেঁচে আছে আর কে নেই! এই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্র দ্রুততার সঙ্গে শুরু করেছে DNA পরীক্ষা। শাহ বলেন, “দেহের নমুনা সংগ্রহের কাজ মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করছেন চিকিৎসকেরা। বিদেশে থাকা পরিবার-পরিজনদেরও আবেদন জানানো হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব এসে নমুনা দিন। বাকি কাজ সরকারই সামলাবে।”
সোশ্যাল মিডিয়া ইতিমধ্যেই ভরে গিয়েছে দুর্ঘটনার বিভীষিকাময় চিত্রে। বিমানের ভাঙা ককপিট, ছিন্নভিন্ন সিট, আগুনে ঝলসে যাওয়া যাত্রী এইসব ছবি দেখে শিউরে উঠছে মানুষ। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, উদ্ধারকারীরা বডি ব্যাগে দেহের অংশ সংগ্রহ করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই পুরো দেহ মেলেনি, পাওয়া গিয়েছে কেবল হাত, মুখ কিংবা পোড়া হাড়ের অংশ। এই পরিস্থিতিতে, সাধারণ পদ্ধতিতে শনাক্তকরণ অসম্ভব বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। “আমরা মুখ দেখে নয়, বিজ্ঞান দেখে এখন দেহ চিহ্নিত করছি। একমাত্র DNA পরীক্ষাই সত্যি বলে মেনে নেওয়া যায়,” বলেন একজন সরকারি চিকিৎসক, যিনি সরাসরি এই কাজে যুক্ত।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। তদন্তে ইতিমধ্যেই নামিয়েছে AAIB (Aircraft Accident Investigation Bureau)। দেশের মধ্যে যে-কোনও বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে এই সংস্থা নিযুক্ত হয়। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নায়ডু (Ram Mohan Naidu) জানিয়েছেন, “গত রাতেই আমাদের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বিমানের ব্ল্যাকবক্স সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের কাজ চলছে।” তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, বিমানটি হঠাৎ করেই উচ্চতা হারিয়ে গিয়েছিল। পাইলট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেন। তবু মাটিতে আছড়ে পড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করে নেয় গোটা কেবিন। গুজরাট সরকারের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, আহতদের জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল (Bhupendra Patel) বলেন, “আমরা আহতদের সবরকম চিকিৎসা দিচ্ছি। পাশাপাশি পরিবারদের প্রয়োজনীয় সমস্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মৃতদের পরিবারদের ক্ষতিপূরণের ঘোষণা হতে পারে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার মিলিয়ে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা দেশ শোকস্তব্ধ। দেশের নানা প্রান্তে চলছে প্রার্থনা, মোমবাতি মিছিল, পরিবারদের প্রতি সহানুভূতির বার্তা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) টুইট করে লিখেছেন, “এই দুঃখের সময়ে আমরা পরিবারের পাশে আছি। মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
এখন দেশের চোখ শুধু দুটি জায়গায়। এক, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী? দুই, প্রত্যেক মৃতদেহ যেন ঠিকঠাক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া যায়। কারণ অচেনা মুখের থেকেও বেশি যন্ত্রণার কিছু নেই। এ যেন পরিচয়েরও মৃত্যু।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Dr. Komi Vyas | আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় একসঙ্গে নিঃশেষ গোটা পরিবারের




