সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে আগামী শনিবার। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে চলেছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি (BJP) মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই অনুষ্ঠান শুধু রাজ্যের সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, একে জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনে রূপ দিতে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব। সেই কারণেই কলকাতার ব্রিগেডে নজিরবিহীন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দলের অন্দরের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তো থাকছেনই, পাশাপাশি উপস্থিত থাকতে পারেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ (Rajnath Singh), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী (Nitin Gadkari), বিজেপির শীর্ষ নেতা জেপি নাড্ডা (JP Nadda) এবং দলের বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Naveen)। শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নয়, বিজেপি ও এনডিএ (NDA) শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয়কে দল কেবল রাজ্য জয় হিসেবে দেখছে না। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাংলায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকে জাতীয় রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। সেই কারণেই ব্রিগেডের শপথ অনুষ্ঠানকে জাতীয় কর্মসূচির রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার, ৮ মে নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রথম বৈঠক হবে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হবেন পরিষদীয় দলনেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অমিত শাহ। সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকতে পারেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি (Mohan Charan Majhi)। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে এখনও জল্পনা তুঙ্গে, দলীয় নেতৃত্ব এখনই কোনও নাম প্রকাশ্যে আনতে নারাজ। রাজনৈতিক মহলে একাধিক নাম ঘুরছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নেবে।
পরের দিন অর্থাৎ শনিবার পঁচিশে বৈশাখে ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত হবে শপথ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা থেকে কর্মসূচী শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। অনুষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয়, ওই মঞ্চ থেকে দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও শপথ নিতে পারেন বলে দলের একাংশের ধারণা। যদিও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা সেই দিন শপথ নেবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা পুলিশ প্রায় তিন হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করার পরিকল্পনা করেছে। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে। ব্রিগেড ও আশপাশের এলাকা একাধিক সেক্টরে ভাগ করে নজরদারি চালানো হবে। আকাশপথ থেকেও নজরদারির ব্যবস্থা থাকছে। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
কলকাতার পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার এবং যুগ্ম কমিশনার পর্যায়ের আধিকারিকরাও মাঠে থাকবেন। কারণ, প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হচ্ছে। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠান হবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আবহের মিশ্রণ। যেহেতু দিনটি রবীন্দ্রজয়ন্তী, তাই অনুষ্ঠানস্থলে রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। মূল মঞ্চের পাশাপাশি আলাদা সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরি করার চিন্তাভাবনা চলছে। ভিভিআইপি অতিথিদের জন্য বিশেষ আসনের ব্যবস্থা থাকবে। সাধারণ মানুষের জন্যও বিপুল সংখ্যক চেয়ার বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দলের অভ্যন্তরে এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রতিটি বিধায়ককে অন্তত এক হাজার কর্মী-সমর্থক আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু জয়ী আসন নয়, যেখানে বিজেপি পরাজিত হয়েছে, সেখান থেকেও কর্মীদের ব্রিগেডে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, বাংলায় বিজেপির শক্তির প্রকাশ। দলের এক নেতার কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গের জয় বিজেপির কাছে শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, এটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ।’ সেই কারণেই এই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে জাতীয় স্তরে প্রচারেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath), মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস (Devendra Fadnavis), উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামী (Pushkar Singh Dhami), হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিংহ সৈনী (Nayab Singh Saini), মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব (Mohan Yadav)-সহ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। এঁদের অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ব্রিগেডের এই শপথ অনুষ্ঠান আসলে বিজেপির তরফে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। দীর্ঘদিনের বাম ও তৃণমূল রাজনীতির পর বাংলায় গেরুয়া শাসনের সূচনাকে জাতীয় আবেগের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে দল। ফলে আগামী শনিবার জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Chandranath Rath, Madhyamgram murder case | শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ চন্দ্রনাথ রথ খুনে সিট গঠন, তদন্তে একসঙ্গে রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি, মধ্যমগ্রামে বাড়ানো হল নিরাপত্তা



