গাজোলে ভুয়ো জন্মসনদ বিতর্কে তোলপাড় মালদা, ‘রুল ২০০০’ উল্লেখ ১৯৯৬ সালের নথিতে- তদন্তের দাবি বিজেপির

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মালদা : মালদা জেলার গাজোল ব্লককে ঘিরে ভুয়ো জন্মসনদ (Birth Certificates) ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। তাদের দাবি, ব্লকে একাধিক জন্মসনদ ইস্যু করা হয়েছে যেখানে জন্মতারিখ ১৯৯৬ সাল দেখানো হলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথস রুলস, ২০০০’ -এর ৯ নম্বর বিধি। অর্থাৎ যে বিধি ২০০০ সালে কার্যকর হয়েছে, তা ১৯৯৬ সালের নথিতে থাকা “অসম্ভব ও সন্দেহজনক” এমনই দাবি গেরুয়া শিবিরের।

আরও পড়ুন : West Bengal elections, BJP strategy | বিধানসভা ভোটের আগে আরএসএস-ভিত্তিক বিজেপি কৌশল: রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ বৈঠক

বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, “এটি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং সুপরিকল্পিত জালিয়াতির ইঙ্গিত।” তাদের অভিযোগ, ভুয়ো পরিচয় তৈরি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বিশেষ পর্যালোচনা (SIR) বা ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের জন্মসনদ ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, বিষয়টি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের নজরে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। বিজেপির তরফে আরও বলা হয়েছে, “১৯৯৬ সালের জন্মসনদে ২০০০ সালের বিধির উল্লেখ থাকলে তা স্পষ্ট অসঙ্গতি। এটি কেবল নথিগত ভুল বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” তাদের দাবি, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতার সীমা ছাড়িয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও উদ্বেগজনক বার্তা বহন করবে।

অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, “ভোটের আগে ইস্যু তৈরির জন্য বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। প্রশাসন নিয়ম মেনেই নথি ইস্যু করে থাকে।” তাঁদের দাবি, তথ্য যাচাই না করেই বিরোধীরা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, জন্মসনদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, সরকারি চাকরি, পাসপোর্ট, আধার সংক্রান্ত কাজ বা বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে সুবিধা পেতে এই নথির প্রয়োজন হয়। ফলে এই নথি ঘিরে কোনও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যুর নথিভুক্তিকরণে তথ্যের নির্ভুলতা অত্যন্ত জরুরি; সামান্য অসঙ্গতিও ভবিষ্যতে বড় আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে।প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে যেতে পারে। তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ কতটা বাস্তব, আর কতটা নির্বাচনী কৌশল, তা স্পষ্ট হবে প্রশাসনিক অনুসন্ধানের পরেই।গাজোলের এই বিতর্ক এখন রাজ্য রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। নজর এখন প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতির দিকে।

ছবি : প্রতীকী

আরও পড়ুন : Bihar hospital condition, Maithili Thakur BJP MLA | সরকারি নথির সঙ্গে মিলছে না বাস্তব চিত্র, আলিনগরের হাসপাতালের দুরবস্থা তুলে ধরে বিধানসভায় সরব বিজেপি বিধায়ক মৈথিলি ঠাকুর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন