Bihar hospital condition, Maithili Thakur BJP MLA | সরকারি নথির সঙ্গে মিলছে না বাস্তব চিত্র, আলিনগরের হাসপাতালের দুরবস্থা তুলে ধরে বিধানসভায় সরব বিজেপি বিধায়ক মৈথিলি ঠাকুর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ পাটনা : সরকারি রিপোর্টে যা লেখা আছে, বাস্তবের সঙ্গে তার ফারাক আকাশ-পাতাল, এই অভিযোগ তুলে বিহার বিধানসভায় সরব হলেন বিজেপি বিধায়ক মৈথিলি ঠাকুর (Maithili Thakur)। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র আলিনগরের সরকারি হাসপাতালের করুণ অবস্থার কথা প্রকাশ্যে এনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডে (Mangal Pandey) যে জবাব দিয়েছেন, তাতে তিনি মোটেই সন্তুষ্ট নন। সোমবার বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে দাঁড়িয়ে মৈথিলির বক্তব্য রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মৈথিলি ঠাকুরের অভিযোগ, সরকারি নথিতে আলিনগরের হাসপাতালকে যে ভাবে কার্যকর ও পরিষেবামুখী বলে দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে তার সঙ্গে কোনও মিল নেই। তিনি জানান, কেবল ফাইল দেখে নয়, নিজে সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরই তিনি এই কথা বলছেন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর কণ্ঠে আক্ষেপের সুর স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষ ঠিকমতো চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না। এটা শুধু কাগজে-কলমে ভালো দেখালেই চলবে না।’

আরও পড়ুন : Kolkata influencer molestation case | ২০ ঘণ্টা আটকে রেখে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: কলকাতার জনপ্রিয় নেটপ্রভাবী ঘিরে তোলপাড়, এফআইআর রুজু

বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মৈথিলি বারবার বলে এসেছেন, রাজনীতিতে তাঁর আসার উদ্দেশ্য সমাজের জন্য কাজ করা। গত বিধানসভা নির্বাচনে আলিনগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির (BJP) টিকিটে জিতে তিনি প্রথম বার বিধায়ক হন। সোমবার বিধানসভায় তাঁর বক্তব্যে সেই দায়বদ্ধতার ছাপ স্পষ্ট। তিনি জানান, হাসপাতালের পরিকাঠামো যেমন দুর্বল, তেমনই সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরও অভাব রয়েছে। আগে যেখানে দু’জন এমবিবিএস চিকিৎসক (MBBS Doctor) কর্মরত ছিলেন, এখন সেখানে মূলত আয়ুষ চিকিৎসকদের (AYUSH Doctors) দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। মৈথিলির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, বর্তমান হাসপাতাল তার ধারেকাছেও নেই। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের ভবনের অবস্থা খারাপ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে, এমনকি পরিচ্ছন্নতার অভাবও চোখে পড়ার মতো। এই পরিস্থিতিতে শুধু মেরামতের কথা বললে চলবে না, সার্বিক উন্নয়ন দরকার।’

এই প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডে বিধানসভায় দাবি করেন, আলিনগরের হাসপাতালের অবস্থা খুব একটা খারাপ নয়, তবে কিছু জায়গায় মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রীর এই বক্তব্যেই সন্তুষ্ট হননি মৈথিলি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘মন্ত্রী বলছেন, হাসপাতালের অবস্থা খুব খারাপ নয়। কিন্তু আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি। বাস্তব চিত্র একেবারেই আলাদা। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো খুবই দুর্বল। তাই এই জবাবে আমি সন্তুষ্ট নই।’ মৈথিলি আরও বলেন, তাঁর এই প্রশ্নকে যেন ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে দেখা না হয়। তিনি জানান, অল্প বয়স থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডের কাজ তিনি দেখে আসছেন এবং তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাও রয়েছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের হয়ে প্রশ্ন তোলা তাঁর কর্তব্য। তাঁর কথায়, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়। আমি আমার এলাকার সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলছি।’

বিহারের গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে এক দিকে উন্নতির ছবি তুলে ধরা হলেও, অন্য দিকে বাস্তবে বহু এলাকায় হাসপাতালগুলির অবস্থা এখনও শোচনীয়। মৈথিলির বক্তব্য সেই বিতর্ককেই আরও জোরালো করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, শাসক দলের বিধায়ক হয়েও প্রকাশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। আলিনগরের হাসপাতাল নিয়ে এই বিতর্ক শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিফলন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। করোনা পরবর্তী সময়ে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। অথচ সেই জায়গাতেই যদি চিকিৎসকের অভাব, পরিকাঠামোর দুর্বলতা ও পরিষেবার ঘাটতি থেকে যায়, তা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বেই।

মৈথিলি ঠাকুর বিধানসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, আলিনগরের হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করা হোক। তাঁর মতে, চিকিৎসক নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, হাসপাতাল ভবনের সংস্কার, এসব নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। তবেই এলাকার মানুষ প্রকৃত অর্থে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পাবেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিহার বিধানসভায় মৈথিলি ঠাকুরের এই বক্তব্য শাসক শিবিরের অন্দরেও যে অসন্তোষ ও প্রশ্ন রয়েছে, তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, তাঁর এই সরব অবস্থানের পর রাজ্য সরকার আলিনগরের হাসপাতাল নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : places to visit in Sasaram, Bihar travel destination | ইতিহাসের বুকছোঁয়া ডাক প্রকৃতির ছোঁয়া, উইকেন্ডে ঘুরে আসুন বিহারের লুকোনো রত্ন সাসারাম

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন