উত্তরবঙ্গের ৪২টি আসনে কোন নেতা কোথায় শক্তিশালী পূর্ণ রাজনৈতিক মানচিত্র
সাশ্রয় নিউজ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তরবঙ্গ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল। উত্তরবঙ্গ নির্বাচন রাজ্যের একটি নির্ণয়ক ভূমিকা রাখে। মূলত আমরা সাত টি জেলা নিয়ে বলবো জেলা গুলি হল –Darjeeling, Kalimpong, Jalpaiguri, Alipurduar, Cooch Behar, Uttar Dinajpur এবং Dakshin Dinajpur এই সাতটি জেলা মিলিয়ে প্রায় ৪২টি বিধানসভা আসন রয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই অঞ্চলে ভালো ফল করতে পারলে যে কোনও দল রাজ্য রাজনীতিতে বড় সুবিধা পেতে পারে। এই অঞ্চলে গত এক দশকে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে Bharatiya Janata Party। অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দল All India Trinamool Congres ও এখানে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাহাড়ি অঞ্চল: দার্জিলিং ও কালিম্পং,পাহাড়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে Gorkha Janmukti Morcha। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতা Bimal Gurung পাহাড়ি রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ।বর্তমানে পাহাড়ের প্রশাসনিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন Anit Thapa, যিনি Gorkhaland Territorial Administration–এর সঙ্গে যুক্ত নেতৃত্বের অন্যতম মুখ।
দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ Raju Bista উত্তরবঙ্গে বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যকলাপ বিজেপির অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে বলে অনেক পর্যবেক্ষকের মত।
জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার এই দুই জেলায় চা-বাগান শ্রমিক ও আদিবাসী ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এখানে বিজেপির হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি Dilip Ghosh এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী John Barla। চা-বাগান শ্রমিকদের উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের বিষয় তুলে ধরে বিজেপি এই অঞ্চলে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
কুচবিহার Cooch Behar জেলার রাজনীতি বরাবরই সীমান্ত ইস্যু, নাগরিকত্ব এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের দাবিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। এই অঞ্চলে বিজেপির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিতিশ প্রামাণিক ( Nisith Pramanik)। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর Uttar Dinajpur এবং Dakshin Dinajpur জেলার রাজনীতিতে সীমান্ত রাজনীতি, কৃষি অর্থনীতি এবং সংখ্যালঘু ভোট একটি বড় ভূমিকা নেয়। বিজেপি এখানে সংগঠন বিস্তার করার চেষ্টা করছে এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে সামনে আনছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য সক্রিয় রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের তরুণ নেতৃত্বের মুখ হিসেবে রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
সম্ভাব্য আসন সমীকরণ (রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে)
দার্জিলিং – ৫
বিজেপি – ৩ থেকে ৪
কালিম্পং – ১
বিজেপি – ১
জলপাইগুড়ি – ৭
বিজেপি – ৪ থেকে ৫
আলিপুরদুয়ার – ৫
বিজেপি – ৩ থেকে ৪
কুচবিহার – ৯
বিজেপি – ৫ থেকে ৬
উত্তর দিনাজপুর – ৯
বিজেপি – ৪ থেকে ৫
দক্ষিণ দিনাজপুর – ৬
বিজেপি – ৩ থেকে ৪
এই হিসাব অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি প্রায় ২৩ থেকে ২৯টি আসনে এগিয়ে থাকতে পারে- এমন ধারণা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের।তবে নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী নির্বাচন, রাজনৈতিক প্রচার এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। উত্তরবঙ্গের রাজনীতি প্রায়ই দ্রুত পরিবর্তিত হয়, তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।প্রতিবেদন: উত্তরবঙ্গের ৪২টি আসনে কোন নেতা কোথায় শক্তিশালী, পূর্ণ রাজনৈতিক মানচিত্র। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তরবঙ্গ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল। Darjeeling, Kalimpong, Jalpaiguri, Alipurduar, Cooch Behar, Uttar Dinajpur এবং Dakshin Dinajpur এই সাতটি জেলা মিলিয়ে প্রায় ৪২টি বিধানসভা আসন রয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই অঞ্চলে ভালো ফল করতে পারলে যে কোনও দল রাজ্য রাজনীতিতে বড় সুবিধা পেতে পারে। এই অঞ্চলে গত এক দশকে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে Bharatiya Janata Party। অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দল All India Trinamool Congress–ও এখানে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাহাড়ি অঞ্চল: দার্জিলিং ও কালিম্পং
পাহাড়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে Gorkha Janmukti Morcha। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতা Bimal Gurung পাহাড়ি রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ।
বর্তমানে পাহাড়ের প্রশাসনিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন Anit Thapa, যিনি Gorkhaland Territorial Administration–এর সঙ্গে যুক্ত নেতৃত্বের অন্যতম মুখ। দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ Raju Bista উত্তরবঙ্গে বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যকলাপ বিজেপির অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে বলে অনেক পর্যবেক্ষকের মত। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার এই দুই জেলায় চা-বাগান শ্রমিক ও আদিবাসী ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এখানে বিজেপির হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি Dilip Ghosh এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জন বার্লা। চা-বাগান শ্রমিকদের উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের বিষয় তুলে ধরে বিজেপি এই অঞ্চলে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কুচবিহার জেলার রাজনীতি বরাবরই সীমান্ত ইস্যু, নাগরিকত্ব এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের দাবিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। এই অঞ্চলে বিজেপির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী Nisith Pramanik।
উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং Dakshin Dinajpur জেলার রাজনীতিতে সীমান্ত রাজনীতি, কৃষি অর্থনীতি এবং সংখ্যালঘু ভোট একটি বড় ভূমিকা নেয়। বিজেপি এখানে সংগঠন বিস্তার করার চেষ্টা করছে এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে সামনে আনছে।
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতির লড়াই-কে এগিয়ে? (আজ দ্বিতীয় কিস্তি)
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য সক্রিয় রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তৃণমূলের তরুণ নেতৃত্বের মুখ হিসেবে রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন Abhishek Banerjee।
তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
সম্ভাব্য আসন সমীকরণ (রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে)
দার্জিলিং – ৫
বিজেপি – ৩ থেকে ৪
কালিম্পং – ১
বিজেপি – ১
জলপাইগুড়ি – ৭
বিজেপি – ৪ থেকে ৫
আলিপুরদুয়ার – ৫
বিজেপি – ৩ থেকে ৪
কুচবিহার – ৯
বিজেপি – ৫ থেকে ৬
উত্তর দিনাজপুর – ৯
বিজেপি – ৪ থেকে ৫
দক্ষিণ দিনাজপুর – ৬
বিজেপি – ৩ থেকে ৪
এই হিসাব অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি প্রায় ২৩ থেকে ২৯টি আসনে এগিয়ে থাকতে পারে এমন ধারণা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের।
তবে নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী নির্বাচন, রাজনৈতিক প্রচার এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। উত্তরবঙ্গের রাজনীতি প্রায়ই দ্রুত পরিবর্তিত হয়, তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।




