Work from home West Bengal government | জ্বালানি সাশ্রয়ে বিকাশ ভবনে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নতুন নির্দেশিকা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কার আবহে প্রশাসনিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য। প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ বার বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশিকা জারি করা হল বিকাশ ভবনে (Bikash Bhavan)। পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগে প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এতে জ্বালানি সাশ্রয় যেমন হবে, তেমনই অফিস ব্যবস্থাপনাতেও আসবে নতুন ছন্দ। মে মাসের শুরুতেই হায়দরাবাদে (Hyderabad) এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বলেছিলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেখানে সম্ভব, সেখানে বাড়ি থেকে কাজের অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনা উচিত।’ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার দিকে, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে পড়তে পারে। সেই প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Best Honeymoon Places in India in Bengali | বিয়ের পর ঘুরতে যাবেন কোথায়? ভারতের ৫ স্বপ্নময় মধুচন্দ্রিমা গন্তব্য

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিকাশ ভবনের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্কুল শিক্ষা কমিশনার (School Education Commissioner) সহ শিক্ষা দফতরের (School Education Department) একাধিক শীর্ষ আধিকারিক পর্যায়ক্রমে বাড়ি থেকে কাজ করবেন। পুরো বিষয়টি সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে। কোন দিনে কে অফিসে আসবেন এবং কোন সময়ে কোন গাড়ি ব্যবহৃত হবে, তার বিস্তারিত তালিকাও প্রস্তুত রয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল অপ্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবহার কমানো। ফলে জ্বালানি খরচ কমবে এবং একই সঙ্গে পরিবেশের উপর চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে অফিসে উপস্থিতির হার কমানো হচ্ছে, যাতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই সাশ্রয়ের লক্ষ্য পূরণ করা যায়।’

এই নির্দেশিকার আওতায় শুধু বাড়ি থেকে কাজ নয়, অফিসের কাজের ধরনেও কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আধিকারিকদের জানানো হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। বেশির ভাগ প্রশাসনিক কাজ ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলি হবে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে। এর ফলে সময় বাঁচবে এবং যাতায়াতের প্রয়োজনও কমে যাবে। নথিপত্র ব্যবস্থাপনাতেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। ফোটোকপি বা অকারণে নথি ছাপানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ফাইল ব্যবহারের দিকে ঝোঁক বাড়ানো হচ্ছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিকাশ ভবনের ভিতরে অপ্রয়োজনীয় আলো বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার পর অতিরিক্ত আলো জ্বালিয়ে না রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে নির্দেশিকায়। লিফ্‌ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সংযমের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব হয়।

কিন্তু, আপাতত এই নিয়ম সকল কর্মীর জন্য প্রযোজ্য করা হচ্ছে না। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক কর্তার কথায়, ‘এখনই সব স্তরের কর্মীদের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে না। প্রথমে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে তার ফলাফল দেখা হবে।’ প্রয়োজনে তাঁদের অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রশাসনিক কাঠামোয় কী পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। করোনা অতিমারি (COVID-19 Pandemic) চলাকালীন বাড়ি থেকে কাজের যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, তা অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে এই ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশগত দিক থেকেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কম যানবাহন চলাচল মানে দূষণও কম। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের পদক্ষেপ রাজ্যের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের দিকে এগোনোর ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে এই সিদ্ধান্তে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজের পরিমাণ বাড়লে প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রেই এর সফলতা নির্ভর করবে।

রাজ্য প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এখন নজরে রয়েছে অন্যান্য দফতরেরও। ভবিষ্যতে একই ধরনের নির্দেশিকা আরও দফতরে জারি হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে বিকাশ ভবনের এই উদ্যোগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি নতুন পরীক্ষার সূচনা করল। এর ফলাফল কেমন হয়, তা আগামী দিনে পরিষ্কার হবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Matsya Sampada Yojana, fish farming subsidy India | মাছ চাষে ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় বড় সুযোগ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন