সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কী তবে আসন্ন? প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে থমকে থাকা হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচন নিয়ে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি জানান, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া এবং বালি পুরসভার (Bally Municipality) নির্বাচিত বোর্ড গঠন করা সম্ভব হবে। এই ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। উল্লেখ্য, হাওড়া পুরভোট শেষ হয়েছিল ২০১৩ সালে। তারপর থেকে নানা আইনি জট, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং হাওড়া-বালি সংযুক্তিকরণ ও পৃথকীকরণ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে নির্বাচন বারবার পিছিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এই নগর সংস্থা। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই এই অচলাবস্থা কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, ‘ওয়ার্ড বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করে নির্বাচনের পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তাঁর বক্তব্য, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব না থাকলে প্রকৃত অর্থে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত বোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’ প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই আসনবিন্যাস এবং ওয়ার্ড পুনর্গঠনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বহুদিন ধরে স্থগিত থাকা এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে হাওড়ার সাধারণ মানুষও।
শুধু নির্বাচন নয়, শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়াবাসীর জন্য পরিশ্রুত পানীয় জল, উন্নত সাফাই ব্যবস্থা, নিকাশি পরিকাঠামো, পার্ক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং শিক্ষাকেন্দ্রের মানোন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘হাওড়াকে দীর্ঘমেয়াদে একটি উন্নত নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।’ এই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন জেলাশাসক এবং রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের (Urban Development Department) সচিব এর তত্ত্বাবধানে কাজ চলবে। প্রশাসনের মতে, এই ব্যবস্থার ফলে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে।
রেলের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রেল ছাড়া হাওড়ার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।’ তাই রাজ্য ও রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। হাওড়া স্টেশন (Howrah Station) এবং আশপাশের এলাকার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ও উঠে আসে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, ‘যাঁরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় পড়েন না, তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পুলিশের পাশাপাশি আরপিএফ (RPF)-কেও এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের আমলে রাজনৈতিক হিংসা ও মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগগুলির তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘পুলিশকে নতুন করে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।’ প্রশাসনের তরফে এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ নিয়েও একটি তদন্তকারী দল গঠনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁরা এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপ শহরের পরিকল্পিত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল নেতা অরূপ রায় (Arup Roy) -এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, ‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Bishwajit Basu) এবং আইপিএস অফিসার জয়রমন (Joyraman) -এর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।’ আগামী ১ জুন থেকে এই কমিশন কাজ শুরু করবে এবং জনসাধারণের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন, পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের ভূমিকা। তাঁর দাবি, প্রায় ১৭০০ অস্থায়ী কর্মীর মধ্যে কয়েকশো কর্মী নিয়মিত কাজ না করেও বেতন পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কাজ না করলে কোনওভাবেই তা বরদাস্ত করা হবে না।’ প্রশাসনের তরফে পরিষেবা প্রদানে দায়বদ্ধতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুরভোটের সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঘোষণা ঘিরে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা এই ঘোষণার পর আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত বোর্ড গঠনের সম্ভাবনা শহরের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এখন নজর ওয়ার্ড বিন্যাস এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari CM: বাংলার নব মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী | ঐতিহাসিক দিন



