সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা : ২০২৬ সালের ICC Women’s T20 World Cup ঘিরে বিশ্ব ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই উন্মাদনা শুরু হয়েছে। মহিলা ক্রিকেটের দ্রুত জনপ্রিয়তা এই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট ক্রিকেট বিশ্বে বিপ্লবের নাম। আগামী আসর অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী ভূখণ্ড England-এ, ১২ জুন থেকে ৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে বসবে ক্রিকেটের মহারণ, যেখানে বিশ্বের সেরা দলগুলো শিরোপার লড়াইয়ে নামবে। এই টুর্নামেন্টের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে ক্রিকেটের ঐতিহাসিক ভেন্যুগুলি। উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে Edgbaston-এ। গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলির একটি অনুষ্ঠিত হবে Old Trafford-এ, সেখানে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও Headingley, The Oval এবং Lord’s-এ অনুষ্ঠিত হবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও ফাইনাল।
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল এই আসরে বিশেষভাবে আলোচনায়। অতীতে ফাইনালে পৌঁছলেও টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনও অপূর্ণ। ফলে ২০২৬ সালের এই আসর ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৪ জুন ভারত মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। যা নিঃসন্দেহে গ্রুপ পর্বের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। ২৮ জুন লর্ডস-এ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে, কারণ অস্ট্রেলিয়া মহিলা টি২০ ক্রিকেটের অন্যতম সফল দল।
টি২০ বিশ্বকাপে মোট ১২টি দল অংশগ্রহণ করবে এবং গ্রুপ পর্বের পর সেরা চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। ৩০ জুন ও ২ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল দু’টি, আর ৫ জুলাই লর্ডস-এ বসবে মহা ফাইনাল। মহিলা ক্রিকেটে দর্শকসংখ্যা ও সম্প্রচারের দিক থেকে এই আসর একটি নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে ধারণা ক্রিকেট দুনিয়ার। মহিলা ক্রিকেটের বিকাশে এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব অপরিসীম। বিগত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল নারীদের ক্রিকেটে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছে। টি২০ ফরম্যাটের দ্রুততা ও উত্তেজনা তরুণ প্রজন্মকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। ফলে ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপকে মহিলা ক্রীড়া শক্তির একটি বৈশ্বিক উৎসব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের জন্য এই আসর একটি মানসিক লড়াইও বটে। অতীতের ফাইনাল হারের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে নামতে হবে। দলের ব্যাটিং-বোলিং ভারসাম্য, ফিল্ডিং দক্ষতা এবং কৌশলগত পরিকল্পনাই নির্ধারণ করবে তাদের সাফল্য। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে সুইং ও পেস বোলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রস্তুতি পর্বে সঠিক পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, ইতিহাস ও গৌরবের গল্প। লর্ডস -এর সবুজ গ্যালারি, ওভালের ঐতিহ্য, এজবাস্টনের গর্জন সব মিলিয়ে একটি অনন্য পরিবেশ তৈরি হবে। এই মঞ্চে নতুন নায়িকার জন্ম হতে পারে, ভাঙতে পারে রেকর্ড, সৃষ্টি হতে পারে নতুন ইতিহাস। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ICC Women’s T20 World Cup বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন কিছু সূচনা করবে বলেই মত ক্রীড়া সমালোচকদের। ভারতীয় সমর্থকদের চোখ এখন সেই স্বপ্নের দিকেই। লর্ডসের মঞ্চে হাতে ট্রফি উঠবে কি না সময়ই দেবে তার উত্তর, তবে প্রত্যাশার পারদ ইতিমধ্যেই চরমে।
-ফাইল ছবি
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra contract signed but removed | চুক্তি সই করেও ছবি হাতছাড়া! নেপোটিজম-এর তিক্ত স্মৃতি উগরে দিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া




