সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত দর্শনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যের এক বিশেষ রূপবদলের সময় আগামী ‘২৬ যা এক নতুন যুগের সূচনা ঘটতে চলেছে। কে হবে এই রাজ্যের মুখ্য মুখ। জনগণ কি চাইছে সমস্ত কিছু নিয়ে রাজনৈতিক কলমে কলম ধরলেন–
দেবব্রত সরকার
(আজ বাইশ-তম কিস্তি)

২০২৬-এর নির্বাচন: আগ্রাসী অ্যাপ্রোচে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party – BJP) কি বাংলার আসন গণনায় ছাপিয়ে যাবে? বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য স্কোর
বছর ২০২৬-এর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চ আগের চেয়ে বেশি উত্তেজনায় ভরছে। বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা TMC ( All India Trinamool Congress) এবং প্রতিদ্বন্দ্বী BJP-এর সঙ্গে সঙ্গে সিপিআই (এম) (CPI-M) ও Indian National Congress (INC) সহ অন্যান্য দলগুলোও ভোট রাজনীতির নতুন রূপচর্চায় ব্যস্ত। “সাশ্রয় নিউজ”-এ এই পর্বে আমরা বিজেপিকে একটু এগিয়ে ধরে বাংলা বিধানসভা (২৯৪ আসন)-এর সম্ভাব্য ফলাফলের একটা রূপরেখা দিচ্ছি। যদিও এটাই অনুমান, রাজনৈতিক হাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবার রূপ পাল্টালেও পাল্টাতে পারে।
বিজেপির পরিকল্পনা শক্তিশালী। নরেন্দ্র মোদী -এর (Narendra Modi) আগমনে রাজ্যে পাশ কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এক চার-পথীয় স্ট্র্যাটেজি, ডেমোগ্রাফি, অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় সহায়তা ও দুর্নীতি সেন্সরশিপ। রাজনৈতিক কূটনৈতিকরা বলছেন, “বিজেপি-ভিত্তিক চার-পদক্ষেপ বাংলা সভার আগ্রাসী দণ্ডবিন্যাস তৈরি করেছে”। বর্তমান পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, ২০২১-এ TMC পেয়েছিল ২১৩ আসন, বিজেপি পেয়েছিল ৭৭ আসন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে TMC-র জয় ২৯ আসন ও বিজেপি-র ১২ আসন পায়।

এই চালচিত্রে যদি আমরা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে দেখি, তাহলে বিজেপি সামনে এসেছে বলেই অনেকের মনে হয়। অর্থাৎ, যদি বিজেপি উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, সীমান্ত জেলা ও বৃহত্তর কলকাতা এলাকায় ঠিকভাবে প্রতিফলন হয়, সেখান থেকে আসন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু টিএমসি-এর গ্রাউন্ড ওয়ার্ক, সাংগঠনিক শক্তি ও মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর জনপ্রিয়তা সহজভাবে অবমূল্যায়ন করা যাবে না।
আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, বিজেপি এই দৌড়ে নেতৃত্ব নিতে পারে, তবে সম্পূর্ণ জয় এখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে একটু কঠিন। আমরা নিচের রূপে আসনচিত্র অনুমান করছিঃ
- বিজেপি: আনুমানিক ১৩০–১৪০ আসন
- TMC: আনুমানিক ১৪০–১৫০ আসন
- CPI-M ও INC-সহ অন্যরা: আপেক্ষিকভাবে ২২–২৫ আসন
এই স্কোর কেনই বা যুক্তিসঙ্গত? বিজেপির গত সম্পৃক্ততা উত্তর ও সীমান্তাঞ্চলে বেড়েছে। সেখানকার নির্বাচন ক্ষেত্র তাঁরা ভালো ধরেছে। কিন্তু সমস্যাও আছে, উত্তর বাংলা ছাড়াও দক্ষিণ ও পশ্চিম রুরাল এলাকা, ক্লাব নেটওয়ার্ক, মহিলা ভোটারদের ট্রাম্পেট TMC শক্তিশালী। পাশাপাশি বাম-কংগ্রেস (Left-INC) জোট যদিও খুব বড় নয়, তবু ২০-২৫ আসনের মধ্যে এরা স্থান পেতে পারে, বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য বাংলায় তাঁদের আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ভোট প্রক্রিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নজর রাখা জরুরি: ভোটার তালিকা সংশোধনকে (SIR) TMC “নির্বাচক বাছাই” বলছে, যা ভোটার মনস্তাত্ত্বিক বা আইনগত প্রভাব ফেলতে পারে। বিজেপি যদি কেন্দ্রীয় শক্তি, বড় নাম ও অর্থসাহায্য কাজে লাগায়, তাহলে রূপান্তর সম্ভাব্য। তবে রাজনৈতিক কূটনৈতিকরা মনে করছেন, বাংলায় শুধুই নাম বা রেশাল শক্তি দিয়ে জেতা কঠিন, “ভোট শুধু প্রতিক্রিয়া নয়, সে সঙ্গে পরিচয়, ভাষা, সভ্যতা ও গ্রাউন্ড লিংকও আছে”। যদি TMC-র মতে চলে, আগামী ভোট বাঙালি সংবেদনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ নিয়ে হবে, তাহলে বিজেপির দাবি কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভেঙে পড়ার আগে হতে পারে। সংসদীয় পরিমাণে TMC -এর টার্গেট ইতিমধ্যেই ২১৫+ আসন নির্ধারণ করেছে।
প্রসঙ্গত বলতে গেলে, ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। বিজেপি দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, কিন্তু TMC-র প্রতিষ্ঠিত শেকড়, বলিষ্ঠ গ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক ও পরিচয়-ভিত্তিক ভোট ব্যাংক এখনও শক্তিশালী। যদি বিজেপি ঠিকভাবে মাঠে না নামে, তাহলে TMC পুনরায় শাসন ধরে রাখতে পারে। অন্যদিকে বাম-কংগ্রেস (Left-INC) জোট যেন পরিবর্তনের ভোট ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি করতে পারে। এখানে ভবিষ্যতমূলক সতর্কতা হিসেবে বলা যায়, “আসন সংখ্যা অনুমান মাত্র; রাজনৈতিক আবহাওয়া বদলে দিতে পারে হঠাৎ কোনও ঘটনা, জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বা স্নায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন।” তবে এখনকার হাওয়া অনুযায়ী, বিজেপি স্বচ্ছভাবে এগিয়ে থাকলেও TMC -এর বিপরীতমুখী নজির সহজভাবে ভেঙে পড়ার নয়।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত




