সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, ইন্দোর : দেশের ক্রীড়াজগতে আরও এক গর্বের মুহূর্ত। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) অনূর্ধ্ব-১৪ (Under-14) বালক ও বালিকা ক্যারাটে দল (Karate Team) সফলভাবে ও নিরাপদে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর (Indore, Madhya Pradesh) শহরে পৌঁছেছে। তারা অংশ নিতে চলেছে স্কুল গেমস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া আয়োজিত (School Games Federation of India – SGFI) জাতীয় কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে (National Karate Championships)।

এই প্রতিযোগিতা দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সেরা প্রতিভাবান খুদে কারাতেকাদের এক মঞ্চে এনে দাঁড় করায়, যেখানে দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তার চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্যারাটে দল ইন্দোরে পৌঁছনোর খবর সামনে আসতেই রাজ্যের ক্রীড়া মহলে উৎসাহ ও প্রত্যাশার পারদ চড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন (West Bengal Karate Association) এবং স্কুল ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও বাছাই পর্বের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে এই দল। অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সে জাতীয় স্তরে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া মানেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করার একটি বড় মঞ্চ। দলের সঙ্গে থাকা কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, যাত্রাপথে সব ধরনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে খেলোয়াড়দের ইন্দোরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতার আগে খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলের এক আধিকারিক বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু পদক জেতা নয়, বরং জাতীয় স্তরের অভিজ্ঞতা অর্জন করে ভবিষ্যতের জন্য খেলোয়াড়দের তৈরি করা। এই বয়সে জাতীয় প্রতিযোগিতায় নামা মানেই আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায়।’

এসজিএফআই (SGFI) জাতীয় কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ স্কুল পর্যায়ের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত। এখানে অংশ নেয় দেশের প্রায় সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সেরা স্কুল পর্যায়ের কারাতেকারা। প্রতিযোগিতায় কাতা (Kata) ও কুমিতে (Kumite) উভয় বিভাগেই কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয় খেলোয়াড়দের। পশ্চিমবঙ্গ দলের প্রস্তুতিও সেই অনুযায়ী হয়েছে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।দলের একজন কোচ জানান, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে শৃঙ্খলা, ফিটনেস ও টেকনিক্যাল দক্ষতার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সে চাপ সামলানোটা বড় চ্যালেঞ্জ, তাই মানসিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতার আগের দিনগুলোতে হালকা অনুশীলন, স্ট্রেচিং ও কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছেও এই খবর নিঃসন্দেহে আনন্দের। অতীতে রাজ্যের ক্যারাটে খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক সাফল্য এনে দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই অনূর্ধ্ব-১৪ দলকে তৈরি করা হয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানের জাতীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে গর্বিত। এক অভিভাবক বলেন, ‘এটা শুধু পদকের লড়াই নয়, জীবনের বড় শিক্ষা। শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা আর আত্মবিশ্বাস সবকিছুই এখান থেকে শিখবে ওরা।’ ইন্দোর শহরও ক্রীড়া আয়োজনের জন্য পরিচিত। উন্নত পরিকাঠামো ও অনুকূল পরিবেশ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আয়োজক সংস্থা এসজিএফআই (SGFI) সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিযোগিতার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে আবাসন, নিরাপত্তা, মেডিক্যাল সাপোর্ট থেকে শুরু করে ম্যাচ পরিচালনা পর্যন্ত।

পশ্চিমবঙ্গ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব সম্পর্কে খেলোয়াড়রা সম্পূর্ণ সচেতন। তারা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা নিয়েই ম্যাটে নামবে। দলের একজন সদস্যের কথায়, ‘আমরা সবাই খুব উত্তেজিত। বাংলার জার্সি গায়ে জাতীয় মঞ্চে লড়াই করার অনুভূতিটাই আলাদা।’ উল্লেখ্য, ইন্দোরে পৌঁছে পশ্চিমবঙ্গ অনূর্ধ্ব-১৪ বালক ও বালিকা কারাতে দলের যাত্রা শুধু একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ ক্রীড়া প্রতিভা গড়ে তোলার পথে আর এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখন নজর জাতীয় ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে, যেখানে বাংলার খুদে যোদ্ধারা নিজেদের দক্ষতা ও সাহসের পরিচয় দিতে প্রস্তুত।




