সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনৈতিক মানচিত্রে দ্রুত বদল আসার পর এবার নজর শপথগ্রহণের দিকে। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৯ মে পঁচিশে বৈশাখে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ফলে রাজনৈতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি জাতীয় স্তরেও এই অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। এর আগে ৮ মে শুক্রবার বিজেপি বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নাম ঘোষণা করেনি দলীয় নেতৃত্ব। বিভিন্ন মহলে একাধিক নাম ঘুরলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপরই নির্ভর করছে।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার নবান্নে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল (Sunil Bansal), রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতো (Jyotirmoy Mahato) এবং সাংসদ সৌমিত্র খাঁ (Soumitra Khan)। তাঁরা মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা (Dushmant Nariala)-এর সঙ্গে বৈঠক করে শপথগ্রহণের আয়োজন, নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। নবান্নে প্রবেশের আগে শমীক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে কড়া বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কেউ যদি তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর উপর আক্রমণ চালায়, তার দায় এই মুহূর্তে বিজেপি নেবে না, কারণ এখনও আমরা সরকার গঠন করিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগেই বলে এসেছি, ক্ষমতার পরিবর্তনের এই সময়টা খুব সংবেদনশীল। এখানে রাজ্যপাল এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
শমীকের দাবি, বর্তমানে যে অশান্তির ঘটনা সামনে আসছে, তার বড় অংশই ‘তৃণমূল বনাম তৃণমূল’-এর সংঘর্ষ। একই সঙ্গে তিনি দলবদল নিয়ে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর কথায়, ‘যাঁরা ক্ষমতার পরিবর্তন দেখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসতে চাইছেন, তাঁদের আমরা গ্রহণ করব না। বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ চলবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলকে গড়ে তুলেছেন যাঁরা, তাঁদের পরিশ্রমের মর্যাদা রাখতে হবে। ’৮০- ’৯০ দশক থেকে যাঁরা সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের অবদান ভুলে যাওয়া যাবে না।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দেন। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য আরও তীব্র হয়। শমীক বলেন, ‘রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার পথে রক্ত ঝরেছে আমাদের কর্মীদের। ইতিমধ্যেই দু’জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।’ পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন, ‘কেউ যদি হিংসায় জড়ায়, সে যত বড় নেতাই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘কোনও নেতা বা কর্মী যদি উস্কানি দেন বা হিংসায় যুক্ত থাকেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা পিছপা হব না। প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও করা হবে।’ আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি জানান, ‘যদি কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমি সভাপতির পদ ছেড়ে দেব।’
এই অবস্থানের মাধ্যমে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নতুন সরকার গঠনের আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় রাজ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার নজির রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্তও তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত রাজভবন বা সীমিত পরিসরে এই ধরনের অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু ব্রিগেডে আয়োজন করার অর্থ, বৃহত্তর জনসমাগমের মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের ঐতিহাসিক জয়কে আরও বড় করে তুলে ধরতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক দিক থেকেও এই আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নবান্নে বৈঠকে এই বিষয়গুলিই মূলত আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। এখন গোটা রাজ্যের নজর ৯ মে-র দিকে। কে হচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী, সেই ঘোষণা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ নতুন সরকারের প্রথম বার্তা। শপথ মঞ্চ থেকেই রাজ্যের আগামী দিনের রাজনৈতিক দিশা সম্পর্কে ইঙ্গিত মিলতে পারে।পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। ব্রিগেডের মঞ্চে শপথের মাধ্যমে সেই পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে, যা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসন, রাজনীতি এবং সামাজিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :




