সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা (West Bengal Legislative Assembly) -এর গুরুত্বপূর্ণ চারটি নির্বাচিত কমিটিকে ঘিরে তৈরি হল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শাসক ও বিরোধী, কোনও পক্ষই মনোনয়ন জমা দিতে না পারায় প্রক্রিয়াই থমকে গেল। ফলে বাধ্য হয়ে বিধানসভা সচিবালয় সময়সীমা বাড়িয়ে দিল ২১ জুলাই পর্যন্ত। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন : UCC West Bengal, Suvendu Adhikari UCC | বাংলায় ইউসিসি চালুর পথে, বিধানসভায় বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
বিধানসভা সূত্রে খবর, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (Public Accounts Committee) বা পিএসি-সহ মোট চারটি কমিটির জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ৩০ জুন। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যে একটি মনোনয়নপত্রও জমা পড়েনি। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির জেরে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ২১ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। এরপর ২২ জুলাই মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি, ২৩ জুলাই প্রত্যাহারের দিন এবং ২৫ জুলাই নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ধার্য করা হয়েছে। এই চারটি কমিটির মধ্যে রয়েছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (Public Accounts Committee), কমিটি অন পাবলিক আন্ডারটেকিংস (Committee on Public Undertakings), এস্টিমেট কমিটি (Estimates Committee) এবং লোকাল ফান্ড কমিটি (Local Fund Committee)। সাধারণত এই কমিটিগুলিতে ভোটাভুটি খুব কম ক্ষেত্রেই হয়। শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সদস্য নির্বাচন হয়ে থাকে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, শাসকদল ১৪ জন ও বিরোধী শিবির ৬ জন বিধায়কের নাম প্রস্তাব করে। পরে বিরোধী পক্ষের একজন সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেন স্পিকার।
কিন্তু, এবারের পরিস্থিতি সেই চেনা ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা। কোনও পক্ষই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন এই বিলম্ব, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসছে। সূত্রের খবর, সদ্য শেষ হওয়া বাজেট অধিবেশন নিয়ে শাসক শিবিরের ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। নতুন সরকারের বাজেট পেশ ও বিধানসভার কার্যক্রম পরিচালনায় মনোনিবেশ করার কারণে কমিটির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সময় দেওয়া যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবির বিজেপি (Bharatiya Janata Party) -এর ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা গিয়েছে। প্রয়োজনীয় বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় সময়মতো মনোনয়ন জমা দেওয়া যায়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিশেষ সূত্রে খবর, ১৭ জুলাই বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলে বিজেপি বিধায়করা প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিটি কমিটিতে দলের তরফে ১৪ জন বিধায়কের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠেছে। পরিষদীয় দলের ভিতরে বিভাজনের প্রভাব পড়েছে এই মনোনয়ন প্রক্রিয়াতেও। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) বর্তমানে দলীয় প্রতীক এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সময়মতো মনোনয়ন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে একাংশের তরফে। এছাড়াও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay) -এর নেতৃত্বে থাকা তৃণমূলের অন্য অংশও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বলে জানা যাচ্ছে। ফলে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। বাস্তবে দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হলেও বিধানসভা সচিবালয়ের নথিতে এখনও একটিই পরিষদীয় দল হিসেবে স্বীকৃত রয়েছে তৃণমূল। সেই কারণে পৃথক ভাবে মনোনয়ন জমা দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে আপাতত অপেক্ষার কৌশল নিয়েছে দুই পক্ষই। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলির গঠন পিছিয়ে গেল। এর ফলে প্রশাসনিক কাজের গতিতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই চারটি কমিটি আর্থিক এবং প্রশাসনিক তদারকির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি সরকারের ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার দায়িত্বে থাকে। তাই এই কমিটিগুলির গঠন বিলম্বিত হওয়ায় নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও। অন্যদিকে, বাকি ৩৭টি স্থায়ী ও অন্যান্য বিধানসভা কমিটির ক্ষেত্রে আলাদা করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। সেখানে মোট ২৫০ জন বিধায়কের মধ্যে সদস্যপদ বণ্টন করা হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিরোধী দলনেতা এবং উভয় পক্ষের মুখ্য সচেতককে এই বণ্টনের বাইরে রাখা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ২১ জুলাইয়ের মধ্যে আদৌ কি মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে, নাকি আরও বিলম্ব ঘটবে। রাজনৈতিক অন্দরের সমীকরণ এবং দলীয় সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষই একই সমস্যায় পড়েছে। এখন দেখার, নতুন সময়সীমার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় কি না।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari, Mamata Banerjee | শুভেন্দুর তোপে মমতা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ধ্বংসের অভিযোগে তোলপাড় বাংলা



