সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের উত্তেজনা চরমে পৌঁছল পর্তুগাল (Portugal) বনাম ক্রোয়েশিয়া (Croatia) ম্যাচে। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) ও লুকা মদ্রিচ (Luka Modrić) -এর দিকে। দীর্ঘদিনের ক্লাব সতীর্থ, এখন জাতীয় দলের হয়ে মুখোমুখি লড়াই। শুক্রবারের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল পর্তুগাল। তবে ম্যাচের নাটকীয়তা, একাধিক অফসাইড সিদ্ধান্ত এবং দুই তারকার ছন্দহীন পারফরম্যান্স নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই আবেগঘন পরিবেশ। পর্তুগালের ফুটবলাররা তাদের প্রয়াত সতীর্থ দিয়েগো জোতাকে (Diogo Jota) স্মরণ করে মাঠে নামেন। জয়ের মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জানানোই ছিল দলের লক্ষ্য। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় রবার্তো মার্তিনেজ় (Roberto Martínez)-এর দলকে। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি হয়। রাফায়েল লিয়াও (Rafael Leão)-র তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোলের দিকে পরপর দুটি শট নেন ব্রুনো ফের্নান্দেস (Bruno Fernandes), কিন্তু দু’বারই বাধা হয়ে দাঁড়ান ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ (Dominik Livaković)।
প্রথমার্ধে দুই দলই মাঝমাঠে লড়াই চালালেও গোলের দেখা মেলেনি। রোনাল্ডো ও মদ্রিচ দু’জনের কাছ থেকেই দর্শকেরা বিশেষ কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ম্যাচের গতি থাকলেও ফাইনাল থার্ডে গিয়ে আটকে যায় আক্রমণ। ফলে বিরতিতে স্কোরলাইন থাকে ০-০। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইয়োসিপ স্তানিশিচ (Josip Stanišić) -এর পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ইভান পেরিসিচ (Ivan Perišić)। পিছিয়ে পড়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ৫৮ মিনিটে লিয়াওয়ের শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ঠিক তার দু’মিনিট পর গোল করেন রোনাল্ডো, কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। রিপ্লেতে দেখা যায়, তাঁর শরীরের উপরের অংশ ডিফেন্ডারের থেকে এগিয়ে ছিল। গোল বাতিল হলেও পর্তুগালের আক্রমণ থামেনি। ৬৮ মিনিটে রেনাতো ভেগা (Renato Veiga)-কে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি রোনাল্ডো। ম্যাচে সমতা ফেরালেও তাঁর খেলার মধ্যে পরিচিত ধার দেখা যায়নি। ৮১ মিনিটে তাঁকে তুলে নিয়ে রুবেন নেভেসকে (Rúben Neves) নামান কোচ।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার কাছে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আসে। মাতেয়ো কোভাচিচ (Mateo Kovačić) মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে শট নেন, কিন্তু বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৮৫ মিনিটে সুচিচ (Luka Sučić)-এর একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এই ম্যাচে অফসাইডের সিদ্ধান্তই বারবার প্রভাব ফেলেছে ফলাফলে। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই আসে মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। সংযুক্ত সময়ে রাফায়েল লিয়াওয়ের পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন গন্সালো রামোস (Gonçalo Ramos)। তাঁর এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালায়। পেরিসিচের পাস থেকে একটি গোলও হয়, কিন্তু সেটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) -এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বল রেনাতো ভেগার মাথায় লাগলেও সেটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। ফলে অফসাইডের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফুটবল মহলে।
পুরো ম্যাচে তিনটি গোল বাতিল হওয়া এবং নাটকীয় মুহূর্তের ঘনঘটা ম্যাচটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। তবে দুই কিংবদন্তি ফুটবলারের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা হতাশা থেকেই গিয়েছে দর্শকদের মধ্যে। রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid) -এর হয়ে একসঙ্গে খেলার স্মৃতি থাকলেও এই ম্যাচে সেই বোঝাপড়ার কোনও ছাপ দেখা যায়নি। পর্তুগালের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও সামনে আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার জন্য এই হার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দিল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Cristiano Ronaldo controversy 2026, Portugal World Cup news | ‘৪১-এ রোনাল্ডো, দলের ভরসা নাকি বোঝা?’ বিশ্বকাপের মাঝপথেই তুঙ্গে বিতর্ক, চাপে পর্তুগাল শিবির



