সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ আমেরিকা: ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, সেই মহাতারকাকে নিয়েই এবার তীব্র বিতর্ক ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026)-এর মাঝপথে। ৪১ বছর বয়সে শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন রোনাল্ডো, কিন্তু প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন, তিনি কি এখনও পর্তুগাল (Portugal)-এর শক্তি, নাকি হয়ে উঠছেন দলের উপর অতিরিক্ত চাপ? বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনাল্ডোর উপস্থিতি নতুন নয়। ২০০৬ সালে প্রথমবার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর থেকে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলে তাঁর অভিষেক হয়েছিল ২০০৩ সালের ২০ অগাস্ট, কাজাখস্তান (Kazakhstan)-এর বিরুদ্ধে এক প্রীতি ম্যাচে। ছোট্ট স্টেডিয়াম, সীমিত দর্শক, সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এক কিংবদন্তির পথচলা। সেই পথ পেরিয়ে আজ তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় মুখ।
তবে বর্তমান বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠছে জোরালোভাবে। প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তুলনায় তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি (Lionel Messi) দুরন্ত ফর্মে থাকায় সেই আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। অনেক সমর্থকই বলছেন, ‘দল এগোতে চাইলে তরুণদের দিকে তাকাতে হবে।’ এই বিতর্ক নতুন নয়। কাতার বিশ্বকাপ (Qatar World Cup)-এর পর থেকেই রোনাল্ডোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান পর্তুগাল দলে একাধিক প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার রয়েছে, যারা দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম। তাঁদের মতে, ‘রোনাল্ডো ছাড়াও দল জিততে পারে।’
প্রাক্তন পর্তুগিজ তারকা আন্তোনিও সিমোয়েস (Antonio Simoes) এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রোনাল্ডো অনেক সময় নিজের খেলাকে বেশি গুরুত্ব দেন, দলের প্রয়োজনের চেয়ে।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দেশের ফুটবল মহলে মতভেদ আরও বেড়েছে। অন্যদিকে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ (Roberto Martinez) রোনাল্ডোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘গত ৩১ ম্যাচে জাতীয় দলে ২৫টি গোল করেছে রোনাল্ডো। এই পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে কেন সে এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।’ কোচের এই মন্তব্যে বোঝা যায়, অন্তত টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও রোনাল্ডোর উপর আস্থা রাখছে। পরিসংখ্যানও এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে লুক্সেমবার্গ (Luxembourg)-এর বিরুদ্ধে ৯-০ এবং আর্মেনিয়া (Armenia)-র বিরুদ্ধে ৯-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল, যেখানে রোনাল্ডো মাঠে ছিলেন না। ফলে অনেকেই যুক্তি দিচ্ছেন, ‘রোনাল্ডো ছাড়াও দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারে।’
কিন্তু, এটাও অস্বীকার করা যায় না যে রোনাল্ডো এখনও দলের মানসিক শক্তির অন্যতম উৎস। তাঁর অভিজ্ঞতা, বড় ম্যাচে খেলার ক্ষমতা এবং গোল করার দক্ষতা আজও পর্তুগাল দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বয়স বাড়লেও তাঁর ফিটনেস ও পেশাদারিত্ব এখনও বহু তরুণ ফুটবলারের কাছে উদাহরণ। বর্তমান বিশ্বকাপ রোনাল্ডোর কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে। ফলে প্রত্যাশার চাপও অনেক বেশি। সমর্থকরা চান, তিনি যেন এই শেষ মঞ্চে নিজের ছাপ রেখে যেতে পারেন। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, ‘সময় এসেছে নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার।’
ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। যদিও দলের ভিতরে কোনও প্রকাশ্য বিরোধের খবর নেই, তবুও বাইরে থেকে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স, তাঁর মাঠে অবস্থান এবং ম্যাচে ভূমিকা, সব কিছু নিয়েই বিশ্লেষণ চলছে। বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে পর্তুগালের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দল কি অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রাখবে, নাকি তরুণদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেবে? রোনাল্ডোর উপস্থিতি সেই সিদ্ধান্তকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তবে ফুটবল ইতিহাসে রোনাল্ডোর অবদান অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। তাঁর রেকর্ড, সাফল্য এবং ধারাবাহিকতা তাঁকে এক আলাদা জায়গায় নিয়ে গেছে। এখন দেখার, এই বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি কি শেষবারের মতো নিজের জাদু দেখাতে পারেন, নাকি বিতর্কই তাঁর শেষ অধ্যায়কে ঘিরে রাখবে। রোনাল্ডোর সামনে এখনও সুযোগ রয়েছে নিজের সমালোচকদের জবাব দেওয়ার। যদি তিনি দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে পারেন, তাহলে এই বিতর্ক অন্য খাতে মোড় নিতে পারে। আর যদি তা না হয়, তাহলে হয়তো এই প্রশ্নই থেকে যাবে, ৪১ বছরের রোনাল্ডো কি সত্যিই দলের জন্য উপযোগী ছিলেন?
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mbappe top scorer prediction | ‘আমি-ই সর্বাধিক গোল করব’! বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসে টগবগ এমবাপে, মেসি-রোনাল্ডো-কেনকে নিয়ে বড় মন্তব্য



