সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামী খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত সোনমকে ঘিরে ফের উত্তাল দেশ। মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশী (Raja Raghuvanshi) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রী সোনম (Sonam) -এর জামিন বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল মেঘালয় সরকার। বিষয়টি দ্রুত শুনানির জন্য উত্থাপন করা হলে আদালত তাতে সম্মতি দিয়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার অবসরকালীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে চলেছে, যেখানে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করবেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta)। এই মামলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই সোনম তাঁর স্বামীকে মেঘালয়ে নিয়ে যান এবং সেখানে তিন সহযোগীর সঙ্গে মিলে তাঁকে খুন করা হয়। পরে মৃতদেহ গোপন করারও চেষ্টা চলে। আদালতে তুষার মেহতা বলেন, ‘এই ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুতর অপরাধের উদাহরণ। অভিযুক্ত যদি জামিনে মুক্ত থাকেন, তা হলে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এর আগেও অভিযুক্তের জামিনের আবেদন দুইবার খারিজ হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি আইনি ত্রুটির কারণে সোনম জামিন পান। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে গিয়েছে মেঘালয় সরকার। আদালতে মেহতা দাবি করেন, গ্রেফতারির সময়ে প্রযোজ্য আইনের ধারার ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল হয়েছিল, যার ফলে পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাঁর কথায়, ‘যে ধারায় মামলা রুজু হওয়ার কথা ছিল, সেটি ভুল করে অন্য একটি ধারায় লেখা হয়। টাইপোগ্রাফিকাল ত্রুটির জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
সূত্রের খবর যে, তদন্তে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারি মেমোতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)-র ১০৩ (১) ধারার পরিবর্তে ৪০৩ (১) ধারা উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ ওই নতুন আইনে ৪০৩ (১) বলে কোনও ধারা নেই। ফলে আদালত এই ত্রুটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং জানায়, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি ভিত্তি তুলে ধরা হয়নি। এর জেরেই জামিন মঞ্জুর হয়। আদালত এ-ও পর্যবেক্ষণ করে যে, গ্রেফতারির কারণ যথাযথভাবে নথিবদ্ধ না-হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া আইনি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধির পরিবর্তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা চালু হওয়ার পর থেকেই নতুন ধারাগুলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি হয়ে উঠেছে। এই মামলায় সেই সতর্কতার অভাবই বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুরনো আইনে ৪০৩ ধারা থাকলেও তা সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, খুনের মতো গুরুতর অপরাধে নয়। ফলে এই বিভ্রান্তি মামলার গতিপথ বদলে দেয়।
মেঘালয় সরকারের বক্তব্য, এই ধরনের গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তকে জামিনে ছাড়া হলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত পলাতক হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই দ্রুত শুনানির মাধ্যমে জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি মেলার পর এখন নজর শুক্রবারের শুনানির দিকে। এই মামলার সূত্রপাত গত বছরের মে মাসে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাহের পর মধুচন্দ্রিমার অজুহাতে রাজা রঘুবংশীকে মেঘালয়ে নিয়ে যান সোনম। সেখানে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে খুনের ঘটনা ঘটে। তদন্তে উঠে আসে, এই ঘটনায় সোনমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির যোগ রয়েছে। গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
গত এপ্রিল মাসে নিম্ন আদালত সোনমের জামিন মঞ্জুর করে। সেই সময় আদালতে পুলিশের দেওয়া যুক্তি খারিজ করে বলা হয়, গ্রেফতারির প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। পুলিশ এই ভুলকে ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’ বলে ব্যাখ্যা করলেও আদালত তা মানতে রাজি হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, অভিযুক্তকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে, সেই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমানে এই মামলার আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে সোনমের ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান। একই সঙ্গে এই ঘটনা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম ভুল কীভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Male abuse India, men domestic violence | সম্পর্কের আড়ালেই পুরুষ নির্যাতন: ভারতে বাড়ছে অভিযোগ, কেন সামনে আসছে না ঘটনা



