Suvendu Adhikari, Mamata Banerjee | শুভেন্দুর তোপে মমতা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ধ্বংসের অভিযোগে তোলপাড় বাংলা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, বুধবার: জাতীয় চিকিৎসক দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সুর তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) ও জ্যোতি বসু (Jyoti Basu) -এর কাজের উল্লেখ করে তিনি পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই শুধু ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি।’ এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোরালো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi US visit 2026, Trump India visit timing | ডিসেম্বরে আমেরিকায় মোদী, ট্রাম্পের ভারত সফর কবে? ইঙ্গিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রখ্যাত চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ বিধানচন্দ্র রায়ের অবদান স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বামফ্রন্ট আমলের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও তোলেন। শুভেন্দু জানান, ‘আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের বয়স এখনও দু’মাসও হয়নি। এই সময় দাঁড়িয়ে জ্যোতিবাবুর একটি কথা মনে পড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘জ্যোতিবাবু দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন, তিনি যেখানে কাজ শুরু করেছেন, সেখানেই দেখেছেন বিধানচন্দ্র রায় আগেই ভিত্তি তৈরি করে গিয়েছেন।’ সেই প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, ‘আজ আমাকে বলতে হচ্ছে, আমি যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ভেঙে পড়া কাঠামো দেখতে পাচ্ছি।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে পূর্বতন প্রশাসনের প্রতি তাঁর অসন্তোষের মাত্রা। স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য রাজ্যে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ দেশের নানা প্রান্তে এবং বিদেশেও এই রাজ্যের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘বিরোধপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ‘এখানকার মানুষ বাইরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের চিকিৎসকরাই অন্যত্র সুনাম কুড়োচ্ছেন।’

‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্প নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘দীর্ঘদিন এই রাজ্যের মানুষ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা পাননি। কিন্তু আমাদের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় মাসের মধ্যেই যৌথ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং পরিষেবা চালু হয়েছে।’ তাঁর দাবি, এর ফলে বহু সাধারণ মানুষ চিকিৎসার আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পাবেন। পাশাপাশি হাসপাতালগুলির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গাতেই পরিষেবার মান সন্তোষজনক নয়। স্বাস্থ্য ভবন থেকে মেডিক্যাল কলেজ, সব জায়গাতেই উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।’ এদিন বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘বিধাননগর মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল’ (Bidhannagar Multi Speciality Hospital) করা হয়। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিষেবার মানোন্নয়নের উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে তিনি একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

রাজ্যবাসীর জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার কথা মাথায় রেখে ২০০টি নতুন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সূচনা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘১০২ নম্বরে ফোন করলেই এই অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যাবে।’ মূলত অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও নবজাতকদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এই পরিষেবার প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকার মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে প্রশাসনের আশা। সরকারি হাসপাতালগুলিতে শয্যা সংকটের কথা মাথায় রেখে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীরা যাতে দ্রুত চিকিৎসা পান, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর নজরদারি জোরদার করতে স্বাস্থ্য ভবনে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের পরিষেবা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নদিয়ায় নতুন ড্রাগ কন্ট্রোল অফিস চালু হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman), হাওড়া (Howrah South) এবং পূর্ব মেদিনীপুরের রানিচক (Ranichak)-এ চালু হয়েছে তিনটি ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ (Ayushman Arogya Mandir)। এছাড়া পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে (Khandaghosh) একটি নতুন পাবলিক হেলথ ইউনিট উদ্বোধন করা হয়েছে। মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে ‘জননী পোর্টাল’ (Janani Portal) চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনা’ (Pradhan Mantri Matru Vandana Yojana)-এর আনুষ্ঠানিক সূচনাও করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে মাতৃস্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সুসংহত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় চিকিৎসক দিবসে এইসব ঘোষণা ও প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যখাতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যু রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India women squad Asian Games, Harmanpreet Kaur captain | এশিয়ান গেমসে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল ঘোষণা, অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন