সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। চলতি বছরের শেষেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আমেরিকা সফরে যেতে পারেন বলে জানালেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর (Sergio Gor)। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে আমেরিকায় আয়োজিত হতে চলা জি২০ (G20) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সম্মেলন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়। রাষ্ট্রদূত গোর জানান, আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো (Marco Rubio) সম্প্রতি ভারত সফরে এসে এই আমন্ত্রণ জানান। গত ২৩ মে তিন দিনের সফরে ভারতে এসে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।
রাষ্ট্রদূত গোর বলেন, ‘জি২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, তিনি সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।’ তাঁর এই মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, বছরের শেষদিকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও জল্পনা চলছিল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল, বছরের শেষের দিকেই তিনি ভারতে আসতে পারেন। তবে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘মিডটার্মসের সময় নয়। এটা আগামী বছরের কোনও একটা সময়ে হতে পারে।’ অর্থাৎ, নভেম্বর মাসে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন (US Midterms)-এর কারণে চলতি বছরে সেই সফর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই ঘোষণার ফলে কূটনৈতিক ক্যালেন্ডারে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানদের সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এই ধরনের সফর প্রভাব ফেলে।
গত কয়েক সপ্তাহে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত গোর। তিনি বলেন, ‘এই আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশেরই লাভ হবে।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘কোয়াড’ (Quad) জোট। ভারত, আমেরিকা, জাপান (Japan) ও অস্ট্রেলিয়া (Australia)-কে নিয়ে গঠিত এই জোট ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করে। রাষ্ট্রদূত গোর জানিয়েছেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে ফিলিপিনস (Philippines)-এ কোয়াডের বিদেশমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠককে ঘিরেও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও আমেরিকা উভয় দেশই এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ায় তাদের পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সম্ভাব্য আমেরিকা সফর এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর দু’টি ঘটনাই আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জি২০ সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদীর উপস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণে ভারতের ভূমিকা আরও তুলে ধরতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ভারত সফর পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, তা বাতিল হয়নি বলেই ইঙ্গিত মিলছে। বরং আগামী বছরে আরও সুপরিকল্পিত সফরের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময়, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে উচ্চপর্যায়ের সফরগুলির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই দুই দেশের সমন্বয় ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। ডিসেম্বরে মোদীর সম্ভাব্য আমেরিকা সফর সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে চলেছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : মোদী ট্রাম্প বৈঠকে নতুন বাণিজ্য সমঝোতার ইঙ্গিত, দ্রুত ‘ব্যালান্সড ডিল’-এর পথে এগোতে নির্দেশ




