সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই, বুধবার: আইপিএল (IPL) মরসুম শুরুর আগেই ট্রান্সফার বাজারে সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya)। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians) তাঁকে আর ধরে রাখবে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders) ও রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals) প্রথমেই আগ্রহ দেখালেও এখন সেই লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েকটি দল, যার মধ্যে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস (Chennai Super Kings)। সূত্রের খবর, আইপিএল নিলামের আগেই হার্দিককে দলে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি। ইতিমধ্যেই কেকেআর ও রাজস্থান মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চেন্নাই সুপার কিংসও এই দৌড়ে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজির শীর্ষ কর্তা কাশী বিশ্বনাথন (Kasi Viswanathan) মুম্বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে হার্দিকের সম্পর্ক গত মরসুমেই তলানিতে পৌঁছয়। অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়া, দলের ভিতরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ও চো মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, কিন্তু আইপিএল শেষ হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে ‘সম্মানজনক বিচ্ছেদ’ -এর ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই থেকেই শুরু হয় হার্দিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা। হার্দিক পাণ্ড্য ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার। ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই ম্যাচের মোড় ঘোরানোর ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। তবুও তাঁর ঘন ঘন চোট পাওয়ার ইতিহাস নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় রয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি। গত মরসুমে পিঠের চোটে ভুগেছেন তিনি। এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরা হয়নি। আফগানিস্তান (Afghanistan), আয়ারল্যান্ড (Ireland) এবং ইংল্যান্ড (England) -এর বিরুদ্ধে সিরিজেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবুও তাঁর অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা তাঁকে আইপিএলের বাজারে অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন ক্রিকেটারে পরিণত করেছে।
চেন্নাই সুপার কিংসের আগ্রহ থাকলেও শোনা যাচ্ছে, হার্দিক নিজে সেখানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী নন। কারণ, চেন্নাই দলে ইতিমধ্যেই রুতুরাজ গায়কোয়াড় (Ruturaj Gaikwad) ও সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) -এর মতো নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ রয়েছে। ফলে অধিনায়ক হওয়ার সুযোগ সেখানে সীমিত। অন্যদিকে কেকেআর ও রাজস্থান রয়্যালস তাঁকে অধিনায়ক হিসেবেই দলে নেওয়ার কথা ভাবছে। গুজরাত টাইটান্স (Gujarat Titans) ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দুই দলকেই নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় হার্দিকের ঝোঁকও সেই দিকেই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই অন্য দলগুলিও। লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants), দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals) ও পাঞ্জাব কিংস (Punjab Kings) হার্দিককে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এমনকী গুজরাত টাইটান্সও তাঁকে ফেরানোর সম্ভাবনা খারিজ করেনি। ফলে আইপিএলের আগেই একপ্রকার ‘বিডিং ওয়ার’ -এর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সব দল যে সমান আগ্রহ দেখাচ্ছে, তা নয়। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bangalore) এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad) এখনও পর্যন্ত হার্দিককে নিয়ে কোনও আগ্রহ প্রকাশ করেনি বলে সূত্র মারফৎ খবর। এতে বোঝা যাচ্ছে, দলগুলির কৌশল ভিন্ন ভিন্ন পথে এগোচ্ছে।
হার্দিক পাণ্ড্যকে ঘিরে এই আগ্রহের মূল কারণ তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতা। ভারতের জোরে বোলিং অলরাউন্ডারদের মধ্যে তিনি এখনও অন্যতম সেরা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যাট হাতে বড় রান করা বা বল হাতে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে দেয়। ফলে চোটের ঝুঁকি থাকলেও তাঁকে দলে নেওয়ার জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি। আইপিএল নিলামের আগেই তাঁকে দলে নেওয়ার জন্য দলগুলির এই আগ্রহ ট্রান্সফার মার্কেটকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। আগামী দিনে কোন দল শেষ পর্যন্ত হার্দিককে নিজেদের দলে টানতে সফল হয়, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে এটুকু পরিষ্কার, আইপিএলের পরবর্তী মরসুমে হার্দিক পাণ্ড্য অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র হতে চলেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Diet, Anushka Sharma Vegan | অনুষ্কার প্রভাবে বিরাট কোহলির ডায়েট বদল, আমিষ ছেড়ে এখন কী খান ক্রিকেট তারকা



