সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence- AI) এখন কোনও কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং বর্তমান ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষিতেই Union Budget 2026 -কে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) সংসদে যে বাজেট পেশ করবেন, তাতে এআই নির্ভর ডিজিটাল শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছরে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তর দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। কোভিড পরবর্তী সময়ে অনলাইন ক্লাস, হাইব্রিড শিক্ষা এবং স্কিল বেসড লার্নিং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিক্ষা প্ল্যাটফর্মগুলিও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষত আঞ্চলিক ভাষাভিত্তিক শিক্ষা এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে এআই কার্যত গেমচেঞ্জারের ভূমিকা নিচ্ছে।।SpeakX.ai -এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অর্পিত মিত্তল (Arpit Mittal) মনে করছেন, ‘২০২৫ সালেই আমরা দেখেছি, তেলুগু, তামিল, মারাঠি এবং বাংলাভাষী অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষা শেখার জন্য এআই টুল ব্যবহার করেছেন। এতে শুধু ভাষাজ্ঞান নয়, আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।’ তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা থেকেই স্পষ্ট যে এআই–ভিত্তিক ভাষা শিক্ষা আগামী দিনে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠবে।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এবারের বাজেটে ডিজিটাল শিক্ষার তিনটি মূল স্তম্ভে জোর দেওয়া হতে পারে। প্রথমত, আঞ্চলিক ভাষাভিত্তিক মানসম্মত ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি। দ্বিতীয়ত, গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর বিস্তার। তৃতীয়ত, এআই নির্ভর স্কিল বিল্ডিং প্ল্যাটফর্মে সরকারি সহায়তা। এই তিনটি দিক একসঙ্গে এগোলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যে ‘স্কিল গ্যাপ’ রয়েছে, তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে তাঁরা মনে করছেন।
বর্তমানে দেশের বহু যুবক-যুবতী ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও কাজ পাচ্ছেন না, আবার শিল্পক্ষেত্র দক্ষ কর্মীর অভাবে সমস্যায় পড়ছে। এই দ্বন্দ্ব মেটাতে ডিজিটাল স্কিল-বিল্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এআই নির্ভর লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ দেয়, যা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় সম্ভব নয়। সেই কারণেই বাজেটে এই খাতে করছাড়, স্টার্টআপ ইনসেনটিভ বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর দাবি উঠছে। শুধু শিক্ষা নয়, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ও অনলাইন পরিষেবা ক্ষেত্রেও বাজেটের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কর কাঠামো যদি আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা যায় এবং মধ্যবিত্তের হাতে খরচযোগ্য অর্থ বাড়ে, তা হলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খরচও বাড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ই–কমার্স, এডটেক, হেলথটেক এবং লোকাল সার্ভিস ভিত্তিক অ্যাপগুলির উপর।
একজন ডিজিটাল অর্থনীতি বিশ্লেষকের কথায়, ‘ডিজিটাল শিক্ষা এবং ডিজিটাল বাজার পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। মানুষ যত বেশি ডিজিটালি দক্ষ হবে, অনলাইন পরিষেবা ব্যবহারের প্রবণতাও তত বাড়বে।’ ফলে বাজেটে যদি এআই ভিত্তিক শিক্ষা ও পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানো হয়, তা দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারের তরফে আগেও ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ এবং ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। তবে Union Budget 2026 -এ যদি এই দুই উদ্যোগকে এআই -এর সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করা যায়, তা হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বিশ্ব জুড়ে এখন এআই- দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। উল্লেখ্য যে, এবারের বাজেট থেকে প্রত্যাশা একটাই, ডিজিটাল শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির ভিত আরও শক্ত করা। বাজেট ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে, এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Union Budget 2026-27, Nirmala Sitharaman Budget | রবিবারেই বাজেটের অঙ্ককষা: আড়াই দশক পর সংসদের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী ১ ফেব্রুয়ারি




