সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : কেন্দ্রীয় বাজেট ঘিরে দেশজুড়ে যখন প্রতীক্ষা তুঙ্গে, তখন এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে ভারতের সংসদ। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হবে ১ ফেব্রুয়ারি, আর সেই দিনটি এ বার রবিবার। সাধারণত রবিবার সংসদের কাজকর্ম বন্ধ থাকে। ফলে শুরুতে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, নির্ধারিত দিনে আদৌ বাজেট পেশ হবে কি না। সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘রীতি মেনেই ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ হবে, দিনটি রবিবার হলেও কোনও ব্যতিক্রম করা হচ্ছে না’। তাঁর এই ঘোষণার পরেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, আড়াই দশক পর আবার রবিবাসরীয় বাজেটের সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) ইতিমধ্যেই সংসদের উভয় কক্ষের বাজেট অধিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি সূচী অনুযায়ী, আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে বাজেট অধিবেশন এবং তা চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। এই দীর্ঘ অধিবেশনের মধ্যেই পেশ হবে দেশের অর্থনীতির দিকনির্দেশক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি, কেন্দ্রীয় বাজেট। রবিবার বাজেট পেশের সিদ্ধান্ত সংসদীয় ইতিহাসে যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, ২৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তার পরের দিন, ২৯ জানুয়ারি পেশ করা হবে আর্থিক সমীক্ষা, যেখানে গত অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি, বৃদ্ধি, ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি সার্বিক ছবি তুলে ধরা হবে। এই আর্থিক সমীক্ষাই অনেকাংশে ইঙ্গিত দেয় আসন্ন বাজেটের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলবে ২৮ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তার পরে বিরতির পর ৯ মার্চ থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব, যা শেষ হবে ২ এপ্রিল। রবিবার সংসদের অধিবেশন হওয়া বিরল হলেও, একেবারে নজিরবিহীন নয়। ভারতের সংসদীয় ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এর আগেও বিশেষ পরিস্থিতিতে রবিবার অধিবেশন বসেছে। সব থেকে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ১৯৯৯ সাল। সে বছর রবিবারই বাজেট পেশ করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিন্হা (Yashwant Sinha)। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)। সেই সময় অবশ্য বাজেট পেশের রীতি ছিল ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার পড়ায় ওই দিনই বাজেট পেশ করা হয়েছিল। তারপর প্রায় আড়াই দশক কেটে গিয়েছে, ফের রবিবাসরীয় বাজেট দেখতে চলেছে দেশ।
২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরেই ফেব্রুয়ারির শেষ দিন বাজেট পেশের রীতি চালু ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন সরকার সেই রীতিতে পরিবর্তন আনে। প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে নয়, বরং প্রথম দিনেই বাজেট পেশ করা হবে। সেই পরিবর্তনের ফলেই গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করা হচ্ছে। এ বছর সেই দিনটি রবিবার হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সংসদীয় ইতিহাসে রবিবার অধিবেশনের আরও কিছু নজির রয়েছে। ২০১২ সালের ১৩ মে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ (Manmohan Singh) -এর আমলে সংসদের প্রথম অধিবেশনের হীরক জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন বসেছিল রবিবার। আবার ২০২০ সালে করোনা অতিমারির সময় জরুরি পরিস্থিতিতে রবিবার সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে বিশেষ কারণ থাকলে রবিবার সংসদ বসতে পারে, এই নজির আগেও রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন সংসদীয় বিশেষজ্ঞরা।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট এমন এক সময়ে পেশ হতে চলেছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা, এই সব ইস্যু বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman) তাঁর বাজেট বক্তৃতায় কোন খাতে কতটা জোর দেন, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে শিল্পমহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবিবার বাজেট পেশ হলেও তার প্রভাব কোনও অংশে কম হবে না; বরং ব্যতিক্রমী দিন হওয়ার কারণে আগ্রহ আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বাজেট পেশের সিদ্ধান্ত শুধু ক্যালেন্ডারের একটি ব্যতিক্রম নয়, বরং ভারতের সংসদীয় ঐতিহ্য ও সমসাময়িক বাস্তবতার এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ। আড়াই দশক পর আবার রবিবার বাজেট পেশ হওয়া সেই ইতিহাসকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে। অর্থনীতির অঙ্কের পাশাপাশি এই দিনটি সংসদীয় ইতিহাসের পাতায় আলাদা ভাবে জায়গা করে নিতে চলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nirmala Sitharaman | অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে সাক্ষাতে সিকিমের মন্ত্রী সোনম লামা, উন্নয়ন ও জলসম্পদে নতুন সহযোগিতার বার্তা




