সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি, ৩০ অক্টোবর: দেশের অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নের নয়া অধ্যায় রচনার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের (Nirmala Sitharaman) সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিকিম সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, জলসম্পদ ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রী সোনম লামা (Sonam Lama)। অর্থমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে সিকিম রাজ্যের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন প্রকল্পে বিশেষ জোর দিয়ে আসছেন। তিনি বারবার বলেছেন, “ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি কেবল সীমান্ত নয়, আমাদের কৌশলগত, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্র।” সেই ধারাবাহিকতাতেই সিকিম সরকারের প্রতিনিধি দল এবং অর্থমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোনম লামা (Sonam Lama) রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন, পাহাড়ি অঞ্চলে পানীয় জলের টেকসই সরবরাহ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলিতে আরও আর্থিক সহায়তা ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের গতি বাড়ানোর অনুরোধ জানান। সোনম লামা বলেন, “সিকিম একটি পরিবেশবান্ধব রাজ্য, এখানে জলসম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
অর্থমন্ত্রী সীতারামন (Nirmala Sitharaman) তাঁর বক্তব্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের টেকসই উন্নয়নের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি জানান, “কেন্দ্র সরকার সব রাজ্যের উন্নয়নের জন্য সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাহাড়ি রাজ্যগুলির জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ও জলসম্পদ সংরক্ষণ প্রকল্পের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।” উল্লেখ্য যে, সিকিমের জলসম্পদ এবং ধর্মীয় পর্যটনকে যুক্ত করে রাজ্যের নতুন উন্নয়ন মডেল তৈরির পরিকল্পনাও আলোচনায় উঠে আসে। জানা গিয়েছে, সোনম লামা সীতারামনকে রাজ্যের ধর্মীয় স্থানগুলির পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাব দেন, যাতে জলসম্পদ ব্যবস্থার সঙ্গে পরিবেশ ও পর্যটনের ভারসাম্য বজায় থাকে।

এই সাক্ষাতের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে মত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিকিমের মতো ক্ষুদ্র অথচ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের উন্নয়ন যদি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের সার্বিক আর্থিক ও পরিবেশগত স্থিতি আরও সুসংহত হবে। বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক পোস্টে বলা হয়েছে, “Shri Sonam Lama, Minister for Public Health Engineering, Water Resources, and Ecclesiastical Department – Govt of Sikkim, calls on Smt. @nsitharaman.” এই সংক্ষিপ্ত পোস্টই ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেন্দ্র-রাজ্যের সম্পর্ক ও আলোচনার ফোকাস ছিল উন্নয়ন, পরিকাঠামো, এবং টেকসই নীতি বাস্তবায়নের উপর।
রাজনৈতিক কূটনৈতিকরা মনে করছেন, এই বৈঠক শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের নতুন অর্থনৈতিক কূটনীতির আরও একটি ধাপ। সিকিমের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পাহাড়ি অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি অন্য উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির জন্যও একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রীর অফিস সূত্রে জানা যায়, সোনম লামার (Sonam Lama) সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও পর্যালোচনা বৈঠক হবে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলবে। বিশেষ করে ‘গঙ্গা রিজুভেনেশন’ এবং ‘নর্থ ইস্টার্ন ডেভেলপমেন্ট স্কিম’-এর আওতায় সিকিমের প্রকল্পগুলিতে নতুন বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।
কেন্দ্রের দৃষ্টিতে, পাহাড়ি রাজ্যগুলির উন্নয়ন ভারতের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য। ফলে আজকের এই সাক্ষাৎকে অনেকেই “উন্নয়নের ধারাবাহিকতার নীরব প্রতিশ্রুতি” বলে অভিহিত করছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, জলসম্পদ সংরক্ষণ, পানীয় জলের নিরাপদ সরবরাহ, এবং পাহাড়ি অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সিকিম সরকারের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রের সমর্থন পেলে রাজ্যটি আগামী কয়েক বছরে উত্তর-পূর্বের অন্যতম মডেল রাজ্যে পরিণত হতে পারে। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ‘Act East Policy’-এর অন্যতম ভিত্তি হল উত্তর-পূর্ব ভারতের সমন্বিত উন্নয়ন। সোনম লামা ও নির্মলা সীতারামনের বৈঠক সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা।
ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া / সংগৃহীত




