তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি :দেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রমে সঞ্চিত অর্থ যাতে কোথাও আটকে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই নতুন পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। শনিবার গুজরাটের গান্ধীনগরে তিন মাসব্যাপী প্রচারাভিযান “আপকি পুঁজি, আপকা অধিকারের” (Apki Poonji, Apka Adhikar) উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) জানান, বর্তমানে প্রায় ১.৮৪ লক্ষ কোটি টাকা অদাবিকৃত অবস্থায় পড়ে আছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে। এই অর্থের প্রকৃত দাবিদারদের হাতে দ্রুত তুলে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।অর্থমন্ত্রী বলেন, “অদাবিকৃত টাকা ব্যাংক, রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) বা ইনভেস্টর এডুকেশন অ্যান্ড প্রোটেকশন ফান্ড (IEPF) -এর কাছে রয়েছে। আমাদের দায়িত্ব সেই টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।” তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, “এই অর্থ একেবারেই নিরাপদ আছে। সঠিক কাগজপত্র নিয়ে এলেই দাবিদারকে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সরকার এই অর্থের রক্ষক মাত্র।”
প্রচারের মূল বার্তা হল, প্রতিটি মানুষের সঞ্চয় শেষ পর্যন্ততাদের পরিবার বা উত্তরাধিকারের কাছে ফেরাতে হবে। নির্মলা সীতারামন বলেন, “অদাবিকৃত ডিপোজিট, বীমার টাকা, ডিভিডেন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ব্যালেন্স বা পেনশন, এগুলো শুধু হিসাবের খাতা নয়, এগুলো সাধারণ পরিবারের রক্ত-ঘামের সঞ্চয়, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার হতে পারে।” উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির ভিত্তি রাখা হয়েছে তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর, যথাক্রমে : Awareness (সচেতনতা), Accessibility (অ্যাক্সেসিবিলিটি) এবং Action (কর্মসূচী। সচেতনতার লক্ষ্য হল, প্রতিটি নাগরিককে জানানো যে তাঁদের সঞ্চিত অর্থ কোথায় রয়েছে এবং কীভাবে তা দাবি করতে হবে। অ্যাক্সেসিবিলিটি অংশে সহজ ডিজিটাল টুল ও জেলা পর্যায়ের সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে দাবি প্রক্রিয়াকে মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হবে। আর কর্মসূচির স্তম্ভে জোর দেওয়া হচ্ছে দ্রুত, স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ দাবি নিষ্পত্তির ওপর। নির্মলা সীতারামন জানান, “এই তিনটি স্তম্ভ মিলেই নাগরিকদের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেতুবন্ধন তৈরি করবে। প্রত্যেকটি পরিবার সম্মানের সঙ্গে তাদের প্রাপ্য সঞ্চয় ফিরে পাবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ব্যক্তিগতভাবে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বলেছেন। তাঁর নির্দেশেই আমরা এই ফাঁক পূরণ করার চেষ্টা করছি যাতে মানুষের অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায়।”
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মানুষ বীমার নথি, পুরনো ডিপোজিট রসিদ বা ছোট ছোট কাগজপত্র রেখে দেন, কিন্তু পরে সেগুলো আর দাবি করেন না। সেই কারণেই প্রচারের মূল লক্ষ্য “Awareness” বা সচেতনতা। অর্থমন্ত্রী বলেন, “মানুষকে জানাতে হবে যে আপনার টাকাটা সেখানে পড়ে আছে। সঠিক কাগজ নিয়ে এলে সহজেই তা ফেরত পেতে পারেন।” তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ধরনের অদাবিকৃত সম্পদ তাদের প্রকৃতি অনুসারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। যেমন ব্যাংকের ডিপোজিট চলে যায় আরবিআই -এর কাছে, আর শেয়ার বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত অর্থ যায় IEPF-এর অধীনে। অর্থমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আরবিআই-এর UDGAM (Unclaimed Deposits Gateway to Access Information) পোর্টালের কথা। তাঁর কথায়, “যখনই দাবিদার টাকা দাবি করবেন, তখনই তা হাতে পাবেন। তাই এখনই সময় এই প্রচারের মাধ্যমে মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়ার।”
প্রচারের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে অদাবিকৃত বীমা নীতি, ব্যাংক ডিপোজিট কিংবা অন্য বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য গ্রামে-গঞ্জে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি গুজরাট গ্রামীণ ব্যাংককে (Gujarat Gramin Bank) ধন্যবাদ জানান। এই ব্যাংক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা প্রত্যেক গ্রামে গিয়ে প্রকৃত দাবিদারদের খুঁজে বের করবে এবং তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগকে বিশেষজ্ঞরা দেশের আর্থিক খাতে এক বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে অদাবিকৃত অর্থের বিষয়ে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। ডিজিটাল টুল ও প্রচারাভিযানের মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত গেলে একদিকে যেমন মানুষের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিও মজবুত হবে। অন্যদিকে, নির্মলা সীতারামন পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “এটা শুধুমাত্র আর্থিক খাতের সংস্কার নয়, বরং মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। নাগরিকদের সঞ্চয় তাদের প্রাপ্য জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”