সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : ভোটপর্ব শেষ হতেই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক অন্দরে প্রথম বড়সড় বদলির ছবি সামনে এল। গণনা প্রক্রিয়া মিটতেই রাজ্যপাল আরএন রবি (R N Ravi)-এর দফতরে নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হল ২০০২ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক সৌমিত্র মোহনকে (Soumitra Mohan)। এতদিন তিনি রাজ্যের পরিবহণ দফতরের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এবার তাঁকেই পাঠানো হচ্ছে লোকভবনে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবহণ দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন সৌমিত্র মোহন। ভোটের আগে ও চলাকালীন বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক পরিবর্তন হলেও তাঁকে সেই পদে বহাল রাখা হয়েছিল। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই তাঁর এই বদলি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের অন্দরে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানান ব্যাখ্যা উঠে আসছে।
আরও পড়ুন : ভবানীপুরে ঐতিহাসিক পালাবদল! শুভেন্দুর ঝড়ে পরাজিত মমতা, উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি
গত ১২ মার্চ কলকাতার লোকভবনে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেন আরএন রবি (R N Ravi)। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি রাজ্য সরকারের কাছে সচিব নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়। ‘দায়িত্ব গ্রহণের কিছু দিনের মধ্যেই সচিব পদে উপযুক্ত আধিকারিক চেয়ে রাজ্যকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল’, এমনটাই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। সেই প্রেক্ষিতেই সৌমিত্র মোহনের নাম সামনে আসে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজভবনের সচীব পদটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। এর আগে সিভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose) রাজ্যপাল থাকাকালীন আইএএস নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty) ওই পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নিয়োগ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় রাজভবনের অন্দরে নানা ব্যাখ্যা সামনে এসেছিল। ‘রাজনৈতিক পরিচিতির কারণে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁকে সরানো হয়’, এমন কথাও শোনা গিয়েছিল প্রশাসনিক মহলে। পরে অবশ্য নন্দিনী চক্রবর্তীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যায়। তিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব হন এবং পরবর্তীতে মুখ্যসচিব পদেও দায়িত্ব পালন করেন। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যপালের সচিব পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য বা অন্য ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন রাজ্যপাল আনন্দ বোস (C V Ananda Bose) তাঁর প্রধান সচিবের পদে পরিবর্তন আনেন। সেই সময় থেকেই এই পদে কোনও আইএএস আধিকারিকের নিয়োগ হয়নি বলে জানা যায়। প্রায় তিন বছর পর আবার কোনও আইএএস আধিকারিককে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হল। ফলে প্রশাসনিক স্তরে এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার ক্ষেত্রে সচিব পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই জায়গায় একজন অভিজ্ঞ আধিকারিককে বসানোয় ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। ঘটনাচক্রে, এই বদলির সময়টিও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। সোমবারই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে ভারতীয় জনতা পার্টি, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তার ঠিক পরের দিনই রাজ্যপালের সচিব পদে এই নিয়োগ সামনে আসায় তা নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ‘ভোটের ফলের পর প্রশাসনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই বদলি দেখা যেতে পারে’। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, রাজ্যপালের দফতরকে আরও সক্রিয় করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সৌমিত্র মোহন (Soumitra Mohan) -এর কর্মজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। পরিবহণ দফতরে তাঁর কাজ প্রশাসনিক দিক থেকে উল্লেখযোগ্য বলেই ধরা হয়। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে নতুন দায়িত্বে এগিয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, লোকভবনে নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কীভাবে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে কাজের সমন্বয় বজায় রাখেন। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই নিয়োগ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও নজর থাকবে সকলের।
ছবি : সংগৃহীত



