বঙ্গ বিজেপিতে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে কার হাতে উঠবে ‘রাজতিলক’? শীর্ষে Suvendu Adhikari-সহ আরও চার হেভিওয়েট নাম ঘিরে জোর জল্পনা (West Bengal CM Race 2026)
সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ফলাফলের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন কে হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? সরকার গঠনের পথে এগিয়ে থাকা বিজেপির অন্দরমহলে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য একাধিক হেভিওয়েট নাম ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা, বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক অঙ্ক কষা (West Bengal BJP CM Face)।
এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে Suvendu Adhikari-কে। নন্দীগ্রাম জয়ের পর ভবানীপুরের মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে Mamata Banerjee-কে পরাজিত করার দাবি তাঁকে ‘জায়েন্ট কিলার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্য তাঁকে এই রেসে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে। দ্বিতীয় ধরা হয়েছে Mithun Chakraborty মিঠুন চক্রবর্তী-র নাম উঠে আসছে অনেকের মনে। এই বাংলার ছেলে, বাংলা মিডিয়ামে লেখাপড়া। বিনোদন জগতে সেরাদের উন্নতম। দেশের ও বাঙালির গর্ব তিনি। সৎ ও নিষ্ঠাবান। পরিবর্তনে তার উপস্থিতি ও বক্তব্যের ভূমিকা উন্নতম। যা বাঙালির মনকে নারা দিয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি Samik Bhattacharya-র নামও জোরালোভাবে উঠে আসছে। শান্ত স্বভাব, সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পুরনো-নতুন কর্মীদের একসূত্রে গাঁথার ক্ষমতা তাঁকে দলের ভিতরে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। দলের একাংশ মনে করছে, সংঘাতমুক্ত প্রশাসনের জন্য এমন একটি ‘সমন্বয়কারী মুখ’ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই তালিকায় চতুর্থ উল্লেখযোগ্য নাম Utpal Brahmachari, যিনি ‘উৎপল মহারাজ’ নামেই বেশি পরিচিত। আরএসএস ঘনিষ্ঠ এই নেতার সংগঠনভিত্তিক প্রভাব এবং কালিয়াগঞ্জ থেকে তাঁর উল্লেখযোগ্য জয় দলের ভিতরে তাঁর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। বিশেষ করে আদর্শগত দিক থেকে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে উঠে আসছে Swapan Dasgupta-র। জাতীয় স্তরে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী অভিজ্ঞতা, নীতি নির্ধারণে দক্ষতা এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষমতা তাঁকে একটি আলাদা মাত্রা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি দল প্রশাসনিক ও নীতিগত ভারসাম্যকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে তাঁর নামও গুরুত্ব পেতে পারে। এছাড়াও যার নাম সম্ভাব্য খাতায় উড়ছে তিনি আর কেউ নন এই বাংলার অমিত শাহ এর বক্তব্যের প্রতিটি শব্দের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে ন্যায় বিচারক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় – এর নাম।
যদিও এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই Amit Shah ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলার ‘ভূমিপুত্র’-কেই মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনা বেড়েছে । কার দিকে ঝুঁকবে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব? দলের অন্দরমহলের গুঞ্জন অনুযায়ী, আগামী ৯ মে, যা রবীন্দ্রজয়ন্তী (Rabindra Jayanti)-র দিন, সেই শুভ লগ্নেই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে বলে জানিয়েছেন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি, তবে রাজনৈতিকভাবে এই দিনটিকে প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন শুধুমাত্র ব্যক্তির নির্বাচন নয়, বরং আগামী পাঁচ বছরের প্রশাসনিক দিকনির্দেশ, রাজনৈতিক কৌশল এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। একদিকে অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে সংগঠন এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বিজেপি কাকে বেছে নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।রাজনৈতিক মহলে এখন জল্পনার পারদ তুঙ্গে। পাঁচ হেভিওয়েট নামের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত ‘রাজতিলক’ পাবেন, সেই উত্তর মিলতে পারে খুব শিগগিরই। গোটা বাংলা এখন তাকিয়ে রয়েছে সেই ঘোষণার দিকে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। এই টান টান উত্তেজনার মধ্যেই এক স্বস্ত্বীর নিশ্বাস পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে মন্ত্রীর মুখ হতে পারেন রূপা গাঙ্গুলিও-এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।



