Ujjal Biswas arrest news, Krishnanagar relief materials case | কৃষ্ণনগরে ত্রাণসামগ্রী বিতর্কে উত্তেজনা, প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস গ্রেফতার! বাড়িতে হামলা, ডিম ছোড়া ঘিরে চাঞ্চল্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কৃষ্ণনগর : নদীয়ার কৃষ্ণনগর (Krishnanagar) শহরে মঙ্গলবার রাত থেকে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল ত্রাণসামগ্রী ঘিরে অভিযোগকে কেন্দ্র করে। প্রাক্তন মন্ত্রী ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাসকে (Ujjal Biswas) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে, পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। ঘটনার সূত্রপাত কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকায়। অভিযোগ, ত্রিপল-সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী চুরির অভিযোগ তুলে একদল মানুষ উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়িতে হানা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাড়ির ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয় এবং প্রাক্তন মন্ত্রীর দিকে ডিম ছোড়া হয়। শুধু তাই নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সময় এলাকায় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে।

আরও পড়ুন : Meenakshi Seshadri comeback Bollywood | ৩০ বছর পর মুম্বইয়ে ফেরা, নতুন করে কাজের খোঁজে প্রাক্তন তারকা মীনাক্ষী শেষাদ্রি

উজ্জ্বল বিশ্বাসের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার পিছনে বিজেপি-এর (Bharatiya Janata Party) কর্মী-সমর্থকরা যুক্ত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এর পিছনে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং হেনস্থা চালায়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকায় স্থানীয়দের একাংশ উজ্জ্বল বিশ্বাসকে গ্রেফতারের দাবি জানাতে শুরু করে। সেই দাবির জেরে শেষ পর্যন্ত কোতোয়ালি থানার (Kotwali Police Station) পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে রাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়, বেআইনি ভাবে ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর এক সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে উজ্জ্বল বিশ্বাসের পরিবার। তাঁর ভাগ্নে, পেশায় চক্ষুচিকিৎসক সৌম্যনারায়ণ খাটুয়া (Soumyanarayan Khatua) জানিয়েছেন, ‘ত্রাণসামগ্রী চুরির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।’ তাঁর বক্তব্য, ‘মামা যখন বিধায়ক ছিলেন, তখন নিজের কোটার ত্রাণসামগ্রী পেয়েছিলেন। সেই সব সামগ্রী ত্রিপল, ধুতি, শাড়ি, জামা, লেগিংস—বিলি না-হওয়ায় বাড়িতেই রাখা ছিল।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘সম্প্রতি জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে ওই ত্রাণসামগ্রী ফেরত নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। বুধবার বিকেলে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (BDO) কার্যালয় থেকে কর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেই সামগ্রী সংগ্রহ করতে আসেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে থাকা কিছু বিজেপি কর্মী আচমকা হামলা চালায়।’ এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। অন্য দিকে বিজেপির তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ত্রাণসামগ্রী নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়, কিন্তু প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় তা আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে প্রশ্ন উঠছে, কী ভাবে এই সামগ্রী এত দিন ধরে ব্যক্তিগত হেফাজতে ছিল এবং কেন তা বিতরণ করা হয়নি। একই সঙ্গে, হামলার ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। কৃষ্ণনগরের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একদিকে ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগ, অন্য দিকে বাড়িতে হামলা, এই দুই দিকই সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী দিনে তদন্তের অগ্রগতি এবং আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেটাই এখন নজরে। বর্তমানে উজ্জ্বল বিশ্বাস পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আদালতে তাঁকে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। ত্রাণসামগ্রী বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত এই গ্রেফতার এবং হামলার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Dev statement | তৃণমূল ছাড়ছেন না দেব, ‘দিদির সঙ্গেই আছি’! শুভেন্দুর বৈঠকের পর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বড় বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন