সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোড়ন। সুখেন্দুশেখর রায়-এর পর ফের তৃণমূল কংগ্রেস-এ বড় ধাক্কা। রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়ে দিলেন সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। শুধু সাংসদ পদই নয়, দলীয় সমস্ত দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বুধবার দিল্লিতে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন (C. P. Radhakrishnan) -এর কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন সুস্মিতা। আর সেই দিনই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
দিল্লির এই ঘটনাপ্রবাহ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সুস্মিতা দেবের ইস্তফা নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে লেখা চিঠিতে তিনি দ্রুত ইস্তফা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। গত সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ছিল ১৩। সুখেন্দু এবং সুস্মিতার পদত্যাগের পর তা কমে দাঁড়াল ১১-এ। অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-র তিন জন সাংসদ বর্তমানে রাজ্যসভায় রয়েছেন। ইস্তফা দেওয়ার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুস্মিতা বলেন, ‘আমি এখন মুক্ত এবং স্বাধীন।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর কথায়, ‘আগামী দিনে কী করব, তা নিয়ে এখনই কিছু ভাবিনি।’ তৃণমূল নেতৃত্ব সম্পর্কে কোনও বিরূপ মন্তব্য করতেও দেখা যায়নি তাঁকে। বরং তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সুস্মিতা বলেন, ‘হিমন্তদার সঙ্গে বহু দিনের পরিচয়। সেই সূত্রেই দেখা করতে গিয়েছিলাম।’ যদিও রাজনৈতিক মহলে এই ব্যাখ্যা ঘিরে নানা ব্যাখ্যা ঘুরছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে দলবদলের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে এই সাক্ষাৎকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখছেন। সুস্মিতা দেবের রাজনৈতিক যাত্রাপথও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মূলত অসমের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। প্রখ্যাত রাজনীতিক ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেব (Santosh Mohan Dev)-এর কন্যা সুস্মিতা। কংগ্রেস (Indian National Congress)-এর টিকিটে অসমের শিলচর (Silchar) থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ২০২১ সালের অগস্টে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেন তিনি।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় দলের অন্যতম মুখ হিসেবেই দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ২০২১ সালে মানস ভুঁইয়া (Manas Bhunia) রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর ফাঁকা হওয়া রাজ্যসভার আসনে সুস্মিতাকে পাঠানো হয়। প্রথম দফার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবারও ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল। তাঁর সাংসদ পদে থাকার মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। কিন্তু সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই ইস্তফা যে চাপ তৈরি করবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, পরপর দুই সাংসদের পদত্যাগ দলীয় শক্তির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্য দিকে, বিজেপির সঙ্গে সুস্মিতা দেবের সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি নিজে এই বিষয়ে কোনও ঘোষণা করেননি।
দিল্লিতে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে হিমন্ত বিশ্বশর্মা একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর সঙ্গে সুস্মিতার বৈঠক ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আনতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে অনেকে বলছেন, সুস্মিতা দেবের এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, আর এখন সম্ভাব্য নতুন দলে যোগ, এই ধারাবাহিকতা তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ কিনা, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বর্তমানে সুস্মিতা নিজেকে ‘স্বাধীন’ হিসেবে বর্ণনা করলেও আগামী দিনে তাঁর পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই কৌতূহল বাড়ছে। তিনি কি বিজেপিতে যোগ দেবেন, না কি অন্য কোনও রাজনৈতিক পথ বেছে নেবেন, এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে সুস্মিতা দেবের এই পদত্যাগ নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গ, দুই ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে, যা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mbappe top scorer prediction | ‘আমি-ই সর্বাধিক গোল করব’! বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসে টগবগ এমবাপে, মেসি-রোনাল্ডো-কেনকে নিয়ে বড় মন্তব্য




