সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ চেন্নাই: অভিনয়ের পর রাজনীতির মঞ্চে প্রবেশ করে প্রথম দিনেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলেন থলপতি বিজয় (Thalapathy Vijay)। তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তিনি রাজ্যে ৭১৭টি মদের দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সিদ্ধান্তটি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা, একদিকে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন দক্ষিণের আর এক প্রভাবশালী অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসান (Kamal Haasan)। সরকারি সূত্রে খবর, তামিলনাড়ুতে মোট অনুমোদিত মদের দোকানের সংখ্যা প্রায় ৪,৭৬৫। তার মধ্যে প্রথম দফায় ৭১৭টি দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, ধর্মীয় স্থান, স্কুল-কলেজ এবং বাসস্ট্যান্ডের আশেপাশে থাকা দোকানগুলিকে চিহ্নিত করে বন্ধ করা হচ্ছে। প্রশাসনিক তালিকা অনুযায়ী, ২৭৬টি দোকান ধর্মীয় স্থানের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এবং ২৫৫টি বাসস্ট্যান্ডের নিকটে অবস্থিত ছিল।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল সাড়া পড়ে। বহু মানুষ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরেই তামিলনাড়ুর রাজস্বের একটি বড় অংশ এসেছে মদ বিক্রি থেকে। ফলে হঠাৎ করে এতগুলি দোকান বন্ধ হলে রাজকোষে চাপ পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিতর্কের মধ্যেই কমল হাসানের প্রতিক্রিয়া নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাজ মদের টাকার উপর নির্ভর করে চলা নয়। বরং মদ বিক্রি এবং মদ্যপানের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি।’ তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল শুরু, ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘৭১৭-তে থামলে চলবে না, সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’ কমল হাসানের এই মন্তব্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজয়ের সিদ্ধান্তকে শুধু সমর্থনই করেননি, বরং আরও কঠোর নীতির ইঙ্গিতও দিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ দাবি করছে, সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্তটি প্রশংসনীয় হলেও অর্থনৈতিক দিকটি উপেক্ষা করা হচ্ছে। থলপতি বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু থেকেই নজরে ছিল। চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন অনেকেই তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে তিনি ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের একটি অংশ জানাচ্ছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধুমাত্র দোকান কমানো নয়, বরং নির্দিষ্ট সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে মদের সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণ করা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় স্থানের আশেপাশে মদের দোকান থাকার বিষয়টি বহুদিন ধরেই সমালোচিত হচ্ছিল। সামাজিক সংগঠনগুলির একাংশ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলছে। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে মদের দোকান থাকলে তরুণ প্রজন্মের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে ধর্মীয় স্থানের কাছে মদের দোকান থাকা নিয়েও আপত্তি ছিল বহু মানুষের। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ সতর্ক করে দিচ্ছেন, বিকল্প রাজস্বের পথ না খুঁজে এই ধরনের পদক্ষেপ নিলে রাজ্যের আর্থিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। যদিও সরকার এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই সিদ্ধান্ত একাধিক স্তরে প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে এটি জনমত গঠনে সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অবৈধ মদ বিক্রির সম্ভাবনা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তামিলনাড়ুর বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখও বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে এই ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।
শপথ নেওয়ার পর এত দ্রুত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া বিরল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এর ফলে বিজয়ের নেতৃত্বের ধরন সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে, তিনি দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং রাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী দাঁড়ায়। কমল হাসানের মন্তব্যের পর এই বিতর্ক আরও গতি পেয়েছে, এবং আগামী দিনে এই বিষয়টি তামিলনাড়ুর রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Thalapathy Vijay CM, Tamil Nadu free electricity scheme | ‘শপথের সঙ্গেই অ্যাকশন মোডে’ চন্দ্রশেখর জোসেফ ‘থলপতি’ বিজয় : বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স ও নারীসুরক্ষায় বিশেষ বাহিনী ঘোষণা




