সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ খাম্মাম, তেলঙ্গানা: বিবাহিত জীবনের অন্দরে জমে ওঠা সন্দেহ এক সময় ভয়াবহ মোড় নিল। স্ত্রীর মোবাইল ফোনে হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট দেখে নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হলেন এক যুবক। অভিযোগ, স্ত্রী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ঘটনাটি তেলঙ্গানার (Telangana) খাম্মাম গ্রামীণ থানা এলাকায়, যা ইতিমধ্যেই স্থানীয় মহলে তীব্র আলোড়ন ফেলেছে।
অভিযোগকারী জি রাজেশ্বর রাও (G Rajeshwar Rao), পেশায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী। তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ভবানীর (Bhavani) সঙ্গে স্থানীয় যুবক সাইদুলুর (Saidulu) বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং তাঁদের দুই কন্যাসন্তানও রয়েছে। প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে স্ত্রীর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন রাজেশ্বর। সেই থেকেই সন্দেহের সূত্রপাত। রাজেশ্বরের দাবি, স্ত্রীর গতিবিধি নজরে রাখার সময়ই তাঁর হাতে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। একদিন সুযোগ পেয়ে স্ত্রীর ফোনে থাকা হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট পড়ে তিনি চমকে ওঠেন। ওই চ্যাটে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে বলে অভিযোগ। রাজেশ্বর জানান, এক জায়গায় লেখা ছিল, ‘তুমি যদি ওকে না মারতে পারো, তা হলে আমাকেই করতে হবে।’ এই ধরনের একাধিক বার্তা দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন : Gleeden App | গোপনে পরকীয়া করার অ্যাপ নিয়ে তোলপাড়! লাখো মানুষ যোগ দিচ্ছেন প্রতিদিন
অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু খুনের পরিকল্পনাই নয়, কী ভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। রাজেশ্বরের বক্তব্য, তাঁকে এমনভাবে সরানোর ছক কষা হয়েছিল যাতে তা বাইরে থেকে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। এই তথ্য সামনে আসতেই তিনি আর ঝুঁকি নিতে চাননি। সঙ্গে সঙ্গে চ্যাটের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে খাম্মাম গ্রামীণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে। খাম্মাম গ্রামীণ থানার ইনস্পেক্টর এম রাজু (M Raju) জানিয়েছেন, ‘অভিযোগকারীর দেওয়া স্ক্রিনশটগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ভবানী এবং সাইদুলু বর্তমানে পলাতক। তাঁদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনা সামনে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তিগত কথোপকথন এখন অপরাধের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠছে। রাজেশ্বরের মতো সাধারণ এক ব্যক্তি যে ভাবে সম্ভাব্য বিপদের আগে পুলিশের সাহায্য নিয়েছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। রাজেশ্বরের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তিনি বর্তমানে চরম মানসিক চাপে রয়েছেন। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকায় তিনি পুলিশের কাছে সুরক্ষার আবেদনও জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে আসে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা এবং তার সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিণতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এমন অভিযোগে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, কারণ এতে প্রাণহানির সম্ভাবনা থেকে যায়। বর্তমানে তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের অন্যান্য দিক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন কেন এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারে অপরাধের পরিকল্পনা কতটা সহজ হয়ে উঠছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। রাজেশ্বরের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলাটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত প্রমাণ যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পরই জানা যাবে, এই অভিযোগের পেছনে কতটা সত্যতা রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | মোদীর পর কে? ২০৩৪-এর ভারত, বিজেপির উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা, যুব নেতৃত্ব বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই




