পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে ২০২৫ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (ICC T20 World Cup 2025)। অবশেষে চূড়ান্ত হল এবারের টুর্নামেন্টের ২০ দলের তালিকা। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ওমানের মাটিতে অনুষ্ঠিত এশিয়া/ইস্ট এশিয়া-প্যাসিফিক কোয়ালিফায়ারে জাপানকে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates – UAE)। এর মধ্য দিয়ে ক্রিকেট দুনিয়া দেখল এক নতুন অধ্যায়, যেখানে বৈচিত্র্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনার রঙে রাঙাবে আগামীর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ভারত (India) ও শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ। আয়োজক দুই দেশ আগেই মূলপর্বে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তান (Pakistan) তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত বিষয়। এবারের আসরের নিয়ম অনুসারে, গত বছরের (২০২৪) বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে থাকা শীর্ষ সাত দল সরাসরি স্থান পেয়েছে। সেই দলে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (Australia), ইংল্যান্ড (England), দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa), বাংলাদেশ (Bangladesh), আফগানিস্তান (Afghanistan), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies) এবং যুক্তরাষ্ট্র (United States of America – USA)।
এছাড়াও আইসিসির বর্তমান টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অনুসারে সরাসরি যোগ দিয়েছে আরও তিন দল, পাকিস্তান (Pakistan), নিউজিল্যান্ড (New Zealand) এবং আয়ারল্যান্ড (Ireland)। অর্থাৎ, এই ১২টি দল কোনো কোয়ালিফায়ার খেলতে হয়নি। বাকি ৮টি জায়গার জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল চারটি গ্রুপের কোয়ালিফায়ার পর্ব, যেখানে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আমেরিকার গ্রুপ থেকে উঠে এসেছে কানাডা (Canada), ইউরোপ থেকে জায়গা করে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস (Netherlands) ও ইতালি (Italy)। আফ্রিকা অঞ্চল থেকে এসেছে নামিবিয়া (Namibia) ও জিম্বাবোয়ে (Zimbabwe)। আর এশিয়া-ইস্ট এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বাছাইপর্ব থেকে জায়গা করে নিয়েছে নেপাল (Nepal), ওমান (Oman) এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)।
https://x.com/Cricketracker/status/1978469521963774237
ওমানের কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বুধবারই নেপাল ও ওমান বিশ্বকাপে জায়গা পায়, ফলে বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি ছিল ‘শেষ টিকিট’-এর লড়াই। জাপানের (Japan) বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও ঠাণ্ডা মাথার ক্রিকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় আমিরশাহি। ফলে বিদায় নিতে হয় জাপান, কাতার (Qatar) এবং সামোয়া (Samoa)। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয় শুধু একটি দেশের নয়, বরং এশিয়ার ক্রিকেটের বিকাশের প্রতীক। প্রাক্তন আমিরশাহি অধিনায়ক রোহান মুস্তাফা (Rohan Mustafa) বলেছেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। এটি শুধু আমাদের দলের নয়, আমাদের দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরও গর্বের মুহূর্ত।”
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুরু হবে ৬ ফেব্রুয়ারি, আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৭ মার্চ। যদিও অফিসিয়াল সূচী এখনও প্রকাশিত হয়নি, ধারণা করা হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন শহরে সুপার টুয়েলভ ও নকআউট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, অন্যদিকে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো হবে কলম্বো (Colombo), ক্যান্ডি (Kandy) ও গলে (Galle)। উল্লেখ্য, এবারের আসরকে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে কয়েকটি বড় কারণে। প্রথমত, এই প্রথম ২০টি দল অংশ নিচ্ছে বিশ্বকাপে, যা আইসিসি (ICC)-এর “গ্লোবাল ক্রিকেট ভিশন”-এর অংশ। আইসিসি চেয়ারম্যান গ্রেগ বার্কলে (Greg Barclay) বলেন, “আমরা চাই ক্রিকেট সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক হোক। নতুন দেশগুলির অংশগ্রহণ আমাদের সেই লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
দ্বিতীয়ত, নতুন ও উদীয়মান দেশগুলির অংশগ্রহণ যেমন ইতালি, আমেরিকা, নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ক্রিকেটকে নতুন বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। এই দেশগুলিতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে, এবং বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ ক্রিকেটের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিস্তার ঘটাবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। বিশ্ব ক্রিকেট বিশ্লেষক সাইমন হিউজ (Simon Hughes) মন্তব্য করেন, “এই ফরম্যাটে ২০ দল মানে বেশি বৈচিত্র্য, বেশি উত্তেজনা, এবং যে কোনো দল যেকোনো দিন চমক দিতে পারে। এটি ক্রিকেটকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।”
ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের এই এক মাসের ক্রিকেট উৎসব শুধু ক্রিকেটই না সংস্কৃতি ও ক্রীড়া-ঐক্যের এক মেলবন্ধন হিসেবে দেখছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (SLC) ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, দুই দেশই এই টুর্নামেন্টকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রস্তুত। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন একটাই প্রশ্নে, “কে হবে বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি দল?” ২০টি দেশের এই বৈচিত্র্যময় আসরে চমক, নাটকীয়তা ও নতুন নায়কের জন্ম, সবই অপেক্ষা করছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে।
ছবি : সংগৃহীত




