SSKM Hospital bone transplant | ‘বোন ব্যাঙ্ক’ থেকে অস্থি প্রতিস্থাপন, ১০ বছরের শিশুর শরীরে নতুন আশা, নজির গড়ল এসএসকেএম হাসপাতাল

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : কলকাতার চিকিৎসা জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রথমবারের মতো ‘বোন ব্যাঙ্ক’ থেকে সংগৃহীত অস্থি ব্যবহার করে সফল প্রতিস্থাপন করা হল এক নাবালক রোগীর শরীরে (SSKM Hospital bone transplant)। এই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু এসএসকেএম হাসপাতাল, যেখানে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন দিগন্ত খুলে গেল রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ১০ বছরের বালক ওয়াসিম রাজা (Wasim Raja) দীর্ঘদিন ধরে কাঁধের নিচে একটি জটিল টিউমারের সমস্যায় ভুগছিল। ক্রমশ সেই টিউমারের আকার বাড়তে থাকায় চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, অপারেশন ছাড়া অন্য কোনও উপায় খোলা ছিল না। তবে অস্ত্রোপচারের পর শরীরে যে অস্থির ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণ করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার

চিকিৎসকেরা জানান, প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত শরীরের অন্য অংশ, যেমন কোমর বা পায়ের হাড় থেকে প্রয়োজনীয় অংশ সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় বসানো হয়। কিন্তু ওয়াসিমের বয়স কম হওয়ায় তার শরীর থেকে অতিরিক্ত অস্থি সংগ্রহ করা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ফলে চিকিৎসকদের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল কৃত্রিম অস্থি ব্যবহার অথবা বোন ব্যাঙ্কের সহায়তা নেওয়া। এই পরিস্থিতিতে ভরসা হয়ে ওঠে হাসপাতালের সদ্য চালু হওয়া বোন ব্যাঙ্ক। এখানে মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে সংগৃহীত অস্থি বা অস্ত্রোপচারের সময় বাদ পড়া হাড় বিশেষ প্রক্রিয়ায় জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণ করা হয়। সেখান থেকেই প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা একটি অস্থি সংগ্রহ করা হয় ওয়াসিমের চিকিৎসার জন্য।

গত ১১ মার্চ সেই অস্থি প্রতিস্থাপন করা হয় ওয়াসিমের শরীরে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই পদ্ধতিকে ‘অ্যালোগ্রাফ্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট’ বলা হয়। অপারেশনটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সম্পন্ন হয় এবং চিকিৎসক দল জানান, প্রতিস্থাপনের পর আপাতত কোনও জটিলতা দেখা যায়নি। চিকিৎসক তন্ময় দত্ত (Tanmoy Dutta) জানান, ‘অস্ত্রোপচারের পরে ওই অংশে কোনও সংক্রমণ হয়নি। বর্তমানে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।’ তাঁর মতে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বহু জটিল অস্থি সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসা সহজ হবে। এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল। এতদিন এই ধরনের চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকেই রাজ্যের বাইরে যেতে হত বা ব্যয়বহুল কৃত্রিম অস্থির উপর নির্ভর করতে হত। এখন বোন ব্যাঙ্কের সাহায্যে সেই চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন চিকিৎসক মহল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বোন ব্যাঙ্কের ধারণা আন্তর্জাতিক স্তরে বহুদিন ধরেই প্রচলিত থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এটি কার্যকরভাবে চালু হওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা, ক্যান্সার বা জন্মগত ত্রুটিজনিত অস্থির সমস্যা, সব ক্ষেত্রেই নতুন চিকিৎসার রাস্তা খুলছে।

ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যরাও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, ‘আমরা ভেবেছিলাম ছেলেকে হয়তো বড় শহরে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু এখানেই এমন চিকিৎসা সম্ভব হবে ভাবিনি।’ বর্তমানে শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসা পরিকাঠামোয় এই অগ্রগতি শুধু একটি সফল অপারেশন নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন পথের সূচনা। বোন ব্যাঙ্কের ব্যবহার বাড়লে বহু রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সাফল্যের হারও বাড়তে পারে।

ওয়াকিবহাল মহলের মত, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সঠিক প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক এবং আধুনিক পরিকাঠামো মিললে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালেও বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব। কলকাতার এই সাফল্য এখন অন্য হাসপাতালগুলির কাছেও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে চলেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Union Budget 2026 Textile Initiatives | কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় পরামর্শ বৈঠক, শিল্প ও রাজ্যগুলির মতামত নিল কেন্দ্র

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন