সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লির সংসদ চত্বর থেকে উত্তরবঙ্গের চা-বাগান রাজনীতি। লোকসভায় দাঁড়িয়ে বাংলাতেই সরাসরি আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman)। তাঁর অভিযোগের নিশানায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যের সরকার। চা-বাগানের শ্রমিকদের বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল চা বাগানের শ্রমিকের সঙ্গে অন্যায় করছে।’ উল্লেখ্য, বুধবার লোকসভায় অর্থ বিল ২০২৬ নিয়ে বিতর্কের জবাবি বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন নির্মলা সীতারমণ। সংসদের মেঝেতে দাঁড়িয়ে বাংলায় বক্তব্য রাখার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর কথায় উঠে আসে উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রশ্ন এবং সরকারি সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার চা-শ্রমিক এখনও সরকারি প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘দারিদ্র্যের প্রান্তে থাকা চা-শ্রমিকদের ন্যায়বিচার কেন দেওয়া হয়নি? বরাদ্দ প্রস্তুত ছিল, তা সত্ত্বেও কেন কার্যকর করা হল না?’ এই বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। এই ইস্যুটি যে শুধুই প্রশাসনিক নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণও। উত্তরবঙ্গের চা-বলয় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে চা-শ্রমিকদের ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা নেয়। সেই কারণেই ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস, দুই পক্ষই এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গ সফরের আবহেই সংসদে এই বক্তব্য উঠে এসেছে। ফলে বিষয়টি যে শুধুই অর্থনৈতিক আলোচনা নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ, এমন ধারণা জোরদার হয়েছে। চা-শ্রমিকদের কল্যাণে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নির্মলা সীতারমণ। তিনি জানান, ২০২১ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন’ প্রকল্পের জন্য অসম ও পশ্চিমবঙ্গের মহিলা শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের শিশুদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। চলতি বাজেটেও সেই প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ‘অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তা যদি মাটিতে না পৌঁছয়, তবে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হন।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
বক্তৃতার শেষাংশে নির্মলা সীতারামন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচীর কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ‘ভারত এখন সংস্কারের পথে দ্রুত এগোচ্ছে, এবং এই পদক্ষেপগুলি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।’ তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষক এবং সমবায় ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উল্লেখ্য, চা-বাগান শ্রমিকদের প্রসঙ্গটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, এই সব ক্ষেত্রেই নানা সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়। এই প্রেক্ষাপটে লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই মন্তব্যের কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই পাল্টা জবাব আসতে পারে। কারণ চা-বাগান অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ভোটের লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ে যে রাজনৈতিক লড়াই জমে উঠেছে, তা এই ঘটনাতেই পরিষ্কার হয়ে উঠছে। সংসদ থেকে রাজ্যের মাটিতে একই ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান ক্রমশ মুখোমুখি হচ্ছে। এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে কতটা পড়বে, তা সময়ই বলবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ একুশ-তম কিস্তি)




