SBI Data Leak: RBI নিয়মে জালিয়াতির দায় কার, কী করবেন গ্রাহক?

SHARE:

SBI ডেটা লিক ও RBI-এর ব্যাঙ্কিং জালিয়াতি সংক্রান্ত নিয়ম, অননুমোদিত লেনদেনে গ্রাহকের দায় ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (State Bank of India বা SBI) গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘিরে দেশের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে নতুন করে সাইবার নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার রেকর্ডের প্রাথমিক পরীক্ষায় ৩,৮৯৭টি রেকর্ডে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য শনাক্ত হয়েছে। নাম, মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, ইমেল ঠিকানা, বসবাসের ঠিকানা ও ঋণসংক্রান্ত নথির কিছু তথ্য এই রেকর্ডগুলির মধ্যে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। ঘটনাটির উৎস ও ব্যাপ্তি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক। SBI জানিয়েছে, এই ঘটনার জেরে ব্যাঙ্কের মূল কাজকর্ম, আর্থিক ফলাফল কিংবা পরিষেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। তবে গ্রাহকদের উদ্বেগের বিষয় হল, ব্যক্তিগত তথ্য অপরাধীদের হাতে পৌঁছলে তা ব্যবহার করে অনলাইন ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির চেষ্টা হতে পারে।

আরও পড়ুন : Kiss of Love Movement | সৌদি আরবে চুম্বনের কারণে মৃত্যুদণ্ডের দাবি, ফের আলোচনায় ‘কিস অব লাভ’ আন্দোলন

ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়া আর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা এক নয়। সূত্রের খবর, প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের পাসওয়ার্ড, পিন বা লেনদেনের গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে কিংবা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। SBI-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের সত্যতা, সম্পূর্ণতা ও কীভাবে তা বাইরে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, কোনও গ্রাহক OTP (ওটিপি) না দেওয়া সত্ত্বেও তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হলে সেই ক্ষতির দায় কার? ব্যাঙ্কের, গ্রাহকের, নাকি তৃতীয় কোনও পক্ষের? এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (Reserve Bank of India বা RBI) গ্রাহক সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়মগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। RBI-এর ২০১৭ সালের ৬ জুলাই জারি করা নির্দেশিকায় অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের দায় নির্ধারণের নিয়ম রয়েছে। সেই কাঠামো অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের গাফিলতি, প্রতারণা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে গ্রাহকের ক্ষতি হলে সাধারণভাবে গ্রাহকের আর্থিক দায় শূন্য হতে পারে। অর্থাৎ, ব্যাঙ্কের ত্রুটির কারণে অননুমোদিত লেনদেন ঘটলে গ্রাহককে সেই ক্ষতির টাকা বহন করতে হয় না। একই ভাবে, গ্রাহক বা ব্যাঙ্কের কোনও গাফিলতি ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জালিয়াতি ঘটলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাঙ্ককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। লেনদেনের বিষয়ে ব্যাঙ্কের কাছ থেকে পাওয়া যোগাযোগের তিন কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগ জানালে নির্দিষ্ট শর্তে গ্রাহক শূন্য দায়ের সুবিধা পেতে পারেন।

কিন্তু সব ধরনের জালিয়াতির ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হয় না। RBI-এর বিদ্যমান নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রাহক নিজে অসাবধানতাবশত OTP, পিন, পাসওয়ার্ড বা অন্যান্য গোপন লেনদেনের তথ্য প্রতারকের হাতে তুলে দিলে, ব্যাঙ্কে অভিযোগ জানানোর আগ পর্যন্ত ক্ষতির দায় গ্রাহকের উপর পড়তে পারে। অভিযোগ জানানোর পরে আরও কোনও অননুমোদিত ক্ষতি হলে তার দায় সাধারণত ব্যাঙ্কের উপর বর্তায়। অন্যদিকে, গ্রাহক বা ব্যাঙ্কের গাফিলতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রতারণা হলে চার থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আর্থিক দায় বহনের নিয়ম রয়েছে। সাত কার্যদিবসের পরে অভিযোগ জানালে ব্যাঙ্কের অনুমোদিত নীতি অনুযায়ী দায় নির্ধারিত হতে পারে। তাই প্রতারণার ধরন এবং অভিযোগ জানানোর সময়, দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন : Bengali Bridal Nath, Durga Puja Jewellery | দেবীবরণে বাঙালি বধূর নথ, ভারতের ৫ রাজ্যে নাকের গয়নার বৈচিত্র্য

এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের নতুন RBI নির্দেশিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘Commercial Banks- Responsible Business Conduct (Third Amendment) Directions, 2026’ নামে একটি সংশোধিত নির্দেশিকা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে জালিয়াতির অভিযোগ জানানোর সময়সীমা তিন দিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ ক্যালেন্ডার দিন করা ও চুরি যাওয়া পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে সংঘটিত কিছু প্রতারণার ক্ষেত্রেও সুরক্ষার পরিধি বাড়ানো। গ্রাহকের দায় প্রমাণের দায়িত্ব ব্যাঙ্কের উপর রাখার বিষয়টিও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন নির্দেশিকার চূড়ান্ত সরকারি নথি ও কার্যকর হওয়ার শর্ত যাচাই না করে এই পরিবর্তনগুলিকে ইতিমধ্যে চালু নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য RBI নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের অভিযোগ নিষ্পত্তির নীতি মেনেই পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। কোনও গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অপরিচিত লেনদেনের মাধ্যমে টাকা কেটে নেওয়া হলে প্রথম কাজ হল দ্রুত ব্যাঙ্ককে জানানো। SBI-এর গ্রাহক হলে ব্যাঙ্কের সরকারি অ্যাপ, অনুমোদিত হেল্পলাইন অথবা নিকটবর্তী শাখার মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি অনুযায়ী ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, UPI ও নেট ব্যাঙ্কিংয়ের সংশ্লিষ্ট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে আরও টাকা কেটে নেওয়ার আশঙ্কা কমানো যায়। অভিযোগ জানানোর সময়, তারিখ ও রেফারেন্স নম্বর লিখে রাখা জরুরি। মৌখিক অভিযোগের পাশাপাশি লিখিত অভিযোগের স্বীকৃতি সংগ্রহ করলে ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ বা অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে।

আরও পড়ুন : SpaceX Starlink India | PM Narendra Modi Elon Musk : স্টারলিংক নিয়ে মোদী সরকারের নতুন পরিকল্পনা, ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে নজরদারির উদ্যোগ

সাইবার প্রতারণার ঘটনায় দ্রুত সরকারি ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়াও জরুরি। ভারতে অনলাইন আর্থিক জালিয়াতির শিকার হলে ১৯৩০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যায়। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সাইবার অপরাধ প্রতিবেদন পোর্টাল (National Cyber Crime Reporting Portal)-এর সরকারি ঠিকানা cybercrime.gov.in-এ অভিযোগ নথিভুক্ত করা যায়। দ্রুত অভিযোগ জানালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রতারণার অর্থের গতিবিধি শনাক্ত করা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে টাকা আটকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সহজ হতে পারে। তবে টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। প্রতারণার মেসেজ, সন্দেহজনক ফোন নম্বর, লেনদেনের বিবরণ, ব্যাঙ্কের এসএমএস, ইমেল ও অভিযোগের নথি সংরক্ষণ করা উচিত। উল্লেখ্য, SBI-এর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টিও স্বয়ংক্রিয় নয়। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে বলেই প্রত্যেক গ্রাহক নির্দিষ্ট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাবেন, এমন কোনও সাধারণ নিয়ম ধরে নেওয়া যায় না। তথ্য ফাঁসের সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির সম্পর্ক, অননুমোদিত লেনদেনের ধরন, গ্রাহক কীভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন ও ব্যাঙ্কের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, এসব বিষয় বিবেচ্য হতে পারে বলে উল্লেখ। RBI-এর নিয়মে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গ্রাহকের দায় শূন্য বা সীমিত হতে পারে ও অভিযোগের নিষ্পত্তি ও টাকা ফেরতের নির্দিষ্ট ব্যবস্থাও রয়েছে। ২০১৭ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শূন্য বা সীমিত দায়ের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ককে অভিযোগ জানানোর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অর্থ সাময়িক ভাবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফেরত জমা করার ব্যবস্থা করতে হয়, প্রযোজ্য শর্ত সাপেক্ষে।

গ্রাহকদের নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলা জরুরি। ব্যাঙ্কের নামে ফোন করে কেউ OTP, পিন, পাসওয়ার্ড কিংবা কার্ডের গোপন তথ্য চাইলে তা দেওয়া যাবে না। অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করা বা সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। ব্যাঙ্কিং পরিষেবার পাসওয়ার্ড নিয়মিত বদলানো, লেনদেনের সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি চালু রাখা ও অ্যাকাউন্টের বিবরণ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। কোনও ফোনকারী গ্রাহকের নাম, ঠিকানা বা ঋণের তথ্য জানেন বলেই তাঁকে ব্যাঙ্কের কর্মী বলে বিশ্বাস করা নিরাপদ নয়। SBI-এর তথ্য ফাঁসের তদন্তের ফল প্রকাশ্যে এলে ঘটনার প্রকৃত ব্যাপ্তি সম্পর্কে আরও ধারণা পাওয়া যাবে। তার আগে গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অ্যাকাউন্টে অচেনা লেনদেন দেখা মাত্র অভিযোগ জানানো এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা। OTP না দিলেও জালিয়াতির আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তথ্য ফাঁসের খবর মানেই ব্যাঙ্কের টাকা চুরি হয়েছে, এমনটাও নয়। বর্তমান RBI নিয়ম সম্পর্কে ধারণা রাখা, সরকারি নির্দেশ অনুসরণ করা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই অনলাইন ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির ঝুঁকি কমানোর কার্যকর উপায়।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : Ranbir Kapoor Yash | Suvendu Adhikari : রাবণ দহনের মঞ্চে রাম-রাবণ একসঙ্গে! সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রণবীর-যশের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি’

Sasraya News
Author: Sasraya News