প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই: ৩ মার্চকে ঘিরে এখন তুমুল চর্চা। কারণ, সেই দিনই বসতে চলেছে অর্জুন তেন্ডুলকর ও সানিয়া চান্দ্রক -এর বিয়ের আসর। সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)-এর পুত্রের বিয়ে বলে কথা নিমন্ত্রণের তালিকায় রাজনীতি, ক্রীড়া, শিল্প-সংস্কৃতি সর্বত্রই তারকারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সকলেই নিমন্ত্রিত বলে জানা গিয়েছে। এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের আবহেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে আর একটি বিয়ের গল্প। ১৯৯৫ সালের ২৪ মে’র সেই দিন, যখন সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন সচিন ও অঞ্জলি (Anjali Tendulkar)।

ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সচিন মানেই রেকর্ডের পাহাড়, শত সেঞ্চুরির কিংবদন্তী। কিন্তু এক সময় তিনি ছিলেন ১৭ বছরের একজন কিশোর, সদ্য ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়া এক ‘বিস্ময় বালক’। ১৯৯০ সালের কথা। পাকিস্তান সফরে নজর কেড়েছেন, দেশের ক্রিকেটমহলে নাম ছড়াতে শুরু করেছে। ঠিক সেই সময় মুম্বই বিমানবন্দরে ঘটে যায় এক সিনেমাকেও হার মানানো মুহূর্ত। অঞ্জলি তখন ২২ বছরের এক ডাক্তারি ছাত্রী। মাকে ইংল্যান্ড থেকে রিসিভ করতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। ক্রিকেটে বিশেষ আগ্রহ ছিল না তাঁর। ভিড়ের মধ্যে কোঁকড়া চুলের, লাজুক একজন কিশোরকে দেখে হঠাৎ কৌতূহল জাগে। পাশে কেউ নাম বলেছিল, ‘সচিন’। নাম শুনেই নাকি ছুটে গিয়েছিলেন অঞ্জলি। পরে একটি সাক্ষাৎকারে অঞ্জলি বলেছিলেন, ‘আমি জানতামই না উনি কে। শুধু নামটা শুনে ডেকেছিলাম।’ পরদিন কলেজে গিয়ে জানতে পারেন, যাঁকে বিমানবন্দরে দেখেছিলেন, তিনি আর পাঁচজন নন, ভারতীয় দলের উদীয়মান তারকা সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। সেই মুহূর্ত থেকেই কৌতূহল বদলে যায় আগ্রহে। এক পরিচিত ক্রিকেটার বন্ধুর সাহায্যে জোগাড় করা হয় ফোন নম্বর। অঞ্জলি নাছোড়বান্দা। বারবার ফোন করেও সাড়া মিলছিল না। একদিন অবশেষে ওপার থেকে শোনা যায় নরম গলায় ‘হ্যালো’।

অঞ্জলি নিজেই পরে স্মৃতিচারণা করে বলেছিলেন, ‘আমি বলেছিলাম, আমার নাম অঞ্জলি। বিমানবন্দরে তোমাকে দেখেছিলাম। মনে আছে?’ সচিন নাকি হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘হ্যাঁ, মনে আছে।’ অঞ্জলি মজা করে প্রশ্ন করেন, ‘বল তো, আমি কী রঙের টি-শার্ট পরেছিলাম?’ সচিনের নির্ভুল জবাব, ‘অরেঞ্জ কালার।’ এই ছোট্ট উত্তরেই নাকি গলতে শুরু করে অঞ্জলির মন। এরপর শুরু হয় পাঁচ বছরের প্রেমপর্ব। জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় সচিনের পক্ষে প্রকাশ্যে দেখা করা সহজ ছিল না। তাই দু’জনের গোপন সাক্ষাতের জায়গা হয়ে ওঠে সিনেমা হল। ‘রোজা’ (Roja) ছবির শো-তে গিয়েছিলেন তাঁরা। সচিন নকল দাড়ি-গোঁফ লাগিয়ে, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা পরে হাজির হয়েছিলেন যাতে কেউ চিনতে না পারে। কিন্তু জনপ্রিয়তার ঝড়ে বেশিক্ষণ লুকোনো যায়নি। মাঝপথেই হল ছেড়ে বেরতে হয়েছিল বলে জানা যায়।

সচিন একবার বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট আমার প্রথম প্রেম, কিন্তু অঞ্জলি আমার জীবনের ভরসা।’ অন্যদিকে অঞ্জলির কথায়, ‘আমি ক্রিকেট বুঝতাম না, কিন্তু ওর স্বপ্নকে বুঝতাম।’ বয়সে পাঁচ বছরের বড় হয়েও অঞ্জলি কখনও সম্পর্কের সমীকরণকে জটিল হতে দেননি। একইভাবে সচিনের কেরিয়ারের চাপ, বিদেশ সফর, চোট সবকিছুর মধ্যেই অঞ্জলি ছিলেন নির্ভরতার জায়গা। ১৯৯৫ সালের ২৪ মে তাঁদের বিয়ে হয়। সেই সময়ও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ক্রিকেটার ও ডাক্তার দুই ভিন্ন জগতের মানুষের মিলন যেন এক রূপকথা। বিয়ের পর অঞ্জলি চিকিৎসা পেশা ছেড়ে সংসার ও সন্তানের দিকে বেশি মন দেন। সচিন বহুবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, ‘আমার সাফল্যের পিছনে অঞ্জলির ত্যাগ রয়েছে।’

এখন যখন অর্জুন তেন্ডুলকর (Arjun Tendulkar) -এর বিয়ে নিয়ে দেশজুড়ে উন্মাদনা, তখন স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসছে সেই পুরনো প্রেমের গল্প। অনেকেই বলছেন, সচিন-অঞ্জলির সম্পর্ক আজও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা। ক্রিকেট মাঠের শত রেকর্ডের বাইরে, এই প্রেমই যেন সচিনের জীবনের সবচেয়ে বড় ইনিংস। ৩ মার্চের বিয়ের মঞ্চে যখন দেশ-বিদেশের বিশিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন, তখন হয়ত কোথাও না কোথাও মনে পড়বে সেই ১৯৯০ সালের বিমানবন্দরের মুহূর্ত। এক ডাক্তারি ছাত্রী ছুটে গিয়ে ডেকেছিলেন ‘সচিন’ বলে। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটের একটি সোনালি প্রেমকাহিনি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Arjun Tendulkar Marriage | ব্যবসায়ী পরিবারের কন্যার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছেন অর্জুন তেন্ডুলকর! সচিনপুত্রের বয়স, আইপিএল যাত্রা ও নতুন জীবনের শুরু ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে




