Saayoni Ghosh Tripura visit : আগরতলায় তৃণমূলের পদযাত্রা: বিজেপির ‘গণতন্ত্রহীনতা’ নিয়ে সায়নী ঘোষের তোপ, বললেন “আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য”

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ৮ অক্টোবর ২০২৫: তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) ফের রাজ্য রাজনীতির সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় প্রেক্ষাপটে সক্রিয় হচ্ছে। বুধবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় দলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন করে তৃণমূলের সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগরতলা সফরের প্রাক্কালে যুব তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh) আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ‘গণতন্ত্রের অবনতি’ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।

উল্লেখ্য এদিন, সংবাদমাধ্যমের সামনে সায়নী বলেন, “খগেন মুর্মু (Khagen Murmu)-র সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটা ঠিক হয়নি। কিন্তু কেউ যদি শুধুমাত্র ফটোশুট করতে যান, তাহলে তাঁকে জনরোষের মুখে পড়তে হতে পারে। রাজনীতি প্রচারের জন্য নয়, রাজনীতি জনতার জন্য।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা রাজনীতি মঞ্চে অভিনয়ের জায়গা নয়, বরং মানুষের সঙ্গে প্রকৃত সংযোগ তৈরির মাধ্যম। সায়নীর বক্তব্যে উঠে আসে তৃণমূলের নতুন রাজনৈতিক অবস্থান: ‘মাঠে-ঘাটে, মানুষের পাশে’। তিনি বলেন, “তৃণমূল কাউকে ভয় পায় না। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। আগরতলায় আমাদের এই সফর গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য কেবল আগরতলা সফরকেই প্রাসঙ্গিক করেনি, তা জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। সায়নীর কণ্ঠে সেই আক্রমণাত্মক আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট “আমরা যেখানে অন্যায় দেখব, সেখানে আওয়াজ তুলব। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ২০২১ সালের ত্রিপুরা নির্বাচনে তৃণমূলের সীমিত উপস্থিতির পর আবারও রাজ্যটিতে সক্রিয় হতে চাইছে দল। আগরতলায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতীকী উপস্থিতি নয়, বরং ভবিষ্যৎ সংগঠন গঠনের প্রস্তুতি বলেই ধরা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : India own space station | PM Narendra Modi : ভারত তৈরি করবে নিজস্ব স্পেস স্টেশন, ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

কলকাতা বিমানবন্দরে সায়নী ঘোষ বলেন, “ত্রিপুরায় গণতন্ত্রের পরিবেশ আজ বিপন্ন। বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে, কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। আমরা চাই মানুষ ভয়মুক্তভাবে রাজনীতি করুক। আমাদের এই সফর সেই বার্তাই দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “খগেন মুর্মু-র ঘটনার মধ্যে রাজনৈতিক কৌশলের বিষয়ও আছে। কেউ যদি শুধুই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ফটো তোলেন, কিন্তু মানুষের সঙ্গে কাজ না করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া আসবেই। রাজনীতি হল মানুষের হৃদয় ছোঁয়ার শিল্প, প্রচারের ফ্রেম নয়।” সায়নীর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর বক্তব্যে রাজনীতির ‘শুদ্ধতা’ এবং জনসম্পৃক্ততার বার্তা রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করার অভিযোগে সরব হয়ে তিনি বলেন, “আজ দেশের অনেক রাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এখনো গণতন্ত্র বেঁচে আছে, কারণ এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারে।তাঁর এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য গভীর। একদিকে যেমন তিনি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ‘অধিকার হরণের’ অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ‘গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি’কে সামনে এনে তৃণমূলের ভাবমূর্তি আরও জোরদার করার চেষ্টা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগরতলায় তৃণমূলের এই সফর একপ্রকার পরীক্ষামূলক অভিযান। এর মাধ্যমে দলটি বুঝতে চাইছে, উত্তর-পূর্ব ভারতে তাদের সংগঠন সম্প্রসারণের কতটা সুযোগ রয়েছে। গত বছর মেঘালয় ও মণিপুরে দল সংগঠন বৃদ্ধির চেষ্টা করেছিল, এবার লক্ষ্য ত্রিপুরা। তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, আগরতলায় পৌঁছেই প্রতিনিধি দলটি স্থানীয় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবে এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণ করবে। দলের অন্যতম লক্ষ্য আগামী পৌরসভা নির্বাচনের আগে সংগঠন মজবুত করা এবং বিজেপির ‘একদলীয় শাসন’-এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন। একইসঙ্গে, সায়নী ঘোষ বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে বলেন, “আজ বিজেপি এমন এক রাজনীতি করছে যেখানে ভয়, বিভাজন আর বিদ্বেষই অস্ত্র। কিন্তু মানুষ এখন পরিবর্তনের অপেক্ষায়। আমরা সেই পরিবর্তনের শক্তিতে বিশ্বাস করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “ত্রিপুরা, আসাম, এমনকি দেশের অন্যান্য প্রান্তেও আমরা সংগঠন গড়ব। গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত, অন্যদিকে তৃণমূলের সম্প্রসারিত জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি শোনা গেল। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন আগরতলার মাটিতে তৃণমূলের এই পদক্ষেপ আদৌ কতটা প্রভাব ফেলবে? যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব আশাবাদী। তাঁদের মতে, মানুষের আস্থা ও সমর্থনই দলকে আবারও নতুন রাজ্যে শক্ত ভিত তৈরি করতে সাহায্য করবে।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Tripura Government Jobs 2025 | রাজ্য সরকারের নিয়োগে চাকরিপ্রার্থীদের মুখে হাসি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন