তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ইন্দোর : ভারতের ক্রীড়াজগতে স্কুল স্তরের প্রতিযোগিতাগুলির গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ইন্দোরে (Indore) অনুষ্ঠিত ৬৯তম ন্যাশনাল স্কুল গেমস প্রতিযোগিতায় (69th National School Games Competition) ক্যারাটেতে (Karate) বাংলার হয়ে বড় সাফল্য এনে দিল একজন খুদে প্রতিভা। অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে (Under 14 Years) ব্রোঞ্জ মেডেল জিতে দৃষ্টান্ত গড়ল জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) রবেন বার (Roben Bar)। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা শক্তিশালী প্রতিযোগীদের টপকে এই সাফল্য বাংলার ক্রীড়ামহলে নতুন আশার আলো জ্বালাল।

১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত (15th December to 19th December 2025) ইন্দোরের ঐতিহ্যবাহী ডেলি কলেজে (Daly College, Indore) আয়োজিত এই জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় ছেলে ও মেয়ে, দু’টি বিভাগেই ক্যারাটে ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক রাজ্য হিসেবে মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh) নিখুঁত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটিকে সফল করে তোলে।
দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আসা প্রতিযোগীরা অংশ নেয় এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে, ফলে প্রতিটি ম্যাচেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল ও পদক নির্ধারণী ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হয় ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে (19th December 2025)। অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে ক্যারাটেতে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করে মাঠে নামে রবেন বার (Roben Bar)। শুরু থেকেই তাঁর পারফরম্যান্স ছিল আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক। প্রতিটি রাউন্ডে কৌশল, গতি এবং নিখুঁত টাইমিংয়ের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন তিনি। ব্রোঞ্জ মেডেলের জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রবেন বার (Roben Bar) ৮-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেন, যা তাঁর দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তার স্পষ্ট প্রমাণ।

উল্লেখ্য যে, রবেন বার (Roben Bar) পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) জলপাইগুড়ি জেলার (Jalpaiguri) ধূপগুড়ি (Dhupguri) মহকুমার চামুরচি ভারতীয় পাঠশালা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল (CHAMURCHI BHARATIYA PATHSHALA HIGH SCHOOL (H.S.) -এর ছাত্র। সীমিত পরিকাঠামো ও সুযোগের মধ্যেও, তিনি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে জাতীয় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করেছেন। স্কুল, পরিবার এবং কোচের সহযোগিতাই তাঁর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।এই সাফল্যের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন কোচ উমেশ রায় (Umesh Roy)। দীর্ঘদিন ধরে ক্যারাটের সঙ্গে যুক্ত এই প্রশিক্ষক রবেনের প্রতিভাকে ছোটবেলা থেকেই লালন করেছেন। টিম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শ্যামল কুমার সরকার (Shyamal Kumar Sarkar), যাঁর পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে দলের প্রস্তুতি আরও মজবুত হয়েছে। প্রতিযোগিতা শেষে কোচ উমেশ রায় (Umesh Roy) বলেন, ‘রবেনের মধ্যে লড়াই করার মানসিকতা শুরু থেকেই ছিল। জাতীয় মঞ্চে এই মেডেল ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথ খুলে দেবে।’ উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্ট থেকে শারীরিক অসুস্থতার জন্য ছিটকে যায় বিনীতা সরকার। প্রথম থেকেও ভাল পারফর্ম করেও বিনীতা সরকার -এর ছিটকে যাওয়া দলের কাছে হতাশার আবহ বয়ে নিয়ে আসে।

প্রসঙ্গত, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে (Prize Giving Ceremony) রবেন বার (Roben Bar) -এর হাতে ব্রোঞ্জ মেডেল তুলে দেওয়া হয়। সেই মুহূর্তের ছবি ইতিমধ্যেই ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মেডেল হাতে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা রবেনের একক ছবিটিও (Single Photo of the Medal Winner with Medal) সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়চ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সাফল্য উত্তরবঙ্গের (North Bengal) স্কুল ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা এনে দেবে। ৬৯তম ন্যাশনাল স্কুল গেমসের ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়াবিদ তৈরির এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ক্যারাটের মতো মার্শাল আর্টে (Martial Art) ছোট বয়স থেকেই জাতীয় স্তরে অংশগ্রহণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। রবেন বার (Roben Bar) -এর এই ব্রোঞ্জ মেডেল প্রমাণ করে দেয়, সঠিক প্রশিক্ষণ ও অধ্যবসায় থাকলে যে কোনও প্রান্ত থেকে উঠে এসে জাতীয় মঞ্চে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। এই সাফল্যের পর রবেন বার (Roben Bar) -এর স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সহপাঠীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আগামী দিনে রাজ্য ও জাতীয় স্তরের আরও বড় প্রতিযোগিতায় তাঁকে দেখা যাবে বলেই আশাবাদী ক্রীড়ামহল। বাংলার ক্যারাটে মানচিত্রে এই নাম যে আগামী দিনে আরও উজ্জ্বল হবে, তা বলাই বাহুল্য।
ছবি : সংগৃহীত



