সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাঞ্চল্য। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) -এর অন্দরে বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে। সূত্রের খবর, প্রায় ৫০ জন বিধায়ক একজোট হয়ে দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এই উদ্যোগের কেন্দ্রে উঠে আসছে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) -এর নাম। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে একটি তালিকা তৈরি হয়েছে, যেখানে ৫০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে। এই তালিকা বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Basu) -এর কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। যদিও নির্ধারিত দিনে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে খুব শিগগিরই এই চিঠি জমা পড়তে পারে বলে জোর আলোচনা।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তারা প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শ বহন করছে। তাই বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি তাদেরই দেওয়া উচিত। এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই ৫০ জন বিধায়ক আলাদা অবস্থান নেন, তাহলে বর্তমান বিরোধী দলের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি (Bharatiya Janata Party) বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy) বলেন, ‘তৃণমূল যেভাবে চলছিল, তাতে এই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা এতে জড়িত নই। তবে এর ফল কী হতে পারে, তা সবাই দেখছে।’ তাঁর মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। তাপস রায় আরও বলেন, ‘যদি ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫০ জন কোনও দাবি নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে তা গুরুত্ব পেতে বাধ্য।’ এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংখ্যার নিরিখে বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী হতে পারে।
অন্যদিকে, বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এই ঘটনাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘দলের ভেতরে যা চলছিল, তার ফল এখন সামনে আসছে।’ এই মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বিদ্রোহীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ‘আমরা কেউ নির্দল প্রার্থী হিসেবে জিতিনি। দলের প্রতীক, নেতৃত্বের মুখ ব্যবহার করে জয় পেয়েছি। সেই জায়গা থেকে এভাবে দলবিরোধী অবস্থান নেওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য, তা ভাবা দরকার।’ তাঁর বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি সত্যিই এমন কিছু ঘটে, তাহলে আমি খুবই শক্তিশালী হয়ে যাই। তবে আমার কাছে এমন কোনও তথ্য নেই।’ তাঁর এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র দলীয় ভাঙনের ইঙ্গিত নয়, বরং রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আলাদা পরিচয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে তা সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এছাড়া, এই ঘটনার প্রভাব তৃণমূলের সংগঠনেও পড়তে পারে। দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, ভবিষ্যৎ কৌশল, সংগঠনের পুনর্গঠন, সব ক্ষেত্রেই নতুন করে ভাবনা শুরু হতে পারে। বিদ্রোহী শিবিরের এই পদক্ষেপ কতটা বাস্তব রূপ পায়, তা এখন দেখার।
বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। একদিকে নতুন সরকার নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের ভেতরে এই ধরনের অস্থিরতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ‘আসল তৃণমূল’ দাবি ঘিরে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ৫০ বিধায়কের সম্ভাব্য বিদ্রোহ রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এখন নজর, অধ্যক্ষের কাছে চিঠি জমা পড়ে কি না এবং তার ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kolkata Weather Today, Monsoon Entry India 2026 | আন্দামানে বর্ষার কড়া নাড়া, উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি সতর্কতা; কলকাতায় কী অপেক্ষা করছে আবহাওয়া?



