সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রায় এক মাস নীরব থাকার পরে অবশেষে রাজপথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে সংবিধান হাতে তুলে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তবে এই কর্মসূচী ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। হুগলির তারকেশ্বর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মমতার কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘দেড়শো লোক আর সাংবাদিক দু’শো, দলটা তো ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে!’ এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি নিজের দলের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ‘আমি কারও সুদিনে না-হোক, দুর্দিনে আছি।’ আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপি বাদে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। তবে বিজেপির যাঁরা বলেছেন, তাঁদের পাশেও ছিলাম… জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হটাকে যায়েঙ্গে।’ এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার বার্তা দিতে চাইছেন তিনি। তবে মমতার এই ধর্না কর্মসূচিকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ শুভেন্দু অধিকারী। তারকেশ্বর সফরে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ধর্নামঞ্চে লোকসমাগম অত্যন্ত কম ছিল। তাঁর কথায়, ‘একজন ছবি পাঠিয়েছিল… এত দুরবস্থা আমি জানতাম না! একঝুড়ি লোক… দেড়শোটা লোকও আসেনি। সাংবাদিকরাই ছিলেন দু’শো জন মতো। সাংবাদিকেরা না থাকলে তো আরও করুণ অবস্থা হত।’ তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
শুধু জনসমাগম নয়, তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের অনুপস্থিতিকেও ইস্যু করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘রাজ্যসভা, লোকসভা মিলিয়ে এতগুলো এমপি। শুনলাম, তিন জন এমপি আর ছ’জন এমএলএ গিয়েছেন। ওই দলটার অবস্থা ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে।’ সদ্যসমাপ্ত ফলতা উপনির্বাচনের ফলাফলকে টেনে এনে তৃণমূলের সংগঠনগত দুর্বলতাকে সামনে আনতে চেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, তারকেশ্বর সফরে গিয়ে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর তিনি দলীয় বিধায়ক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে জানান, তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং নতুন প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, এডিএম অনুজ প্রতাপ সিংহ (Anuj Pratap Singh) এই দায়িত্ব সামলাবেন।
শুভেন্দু জানান, সামনে শ্রাবণ মাসকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে রাজ্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ‘শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে এ বার সরকার থেকে বাবা তারকনাথের পবিত্রভূমিতে যত পুণ্যার্থী আসবেন, তাঁদের জন্য বড় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দেন তিনি। তার পাশাপাশি মন্দির চত্বরের রং নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘পবিত্র দুধপুকুর পাড়ে কী সব রং করে রেখেছে! রঙ পরিবর্তন আগে করা দরকার। আধ্যাত্মিকতা এবং আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই রং প্রয়োজন।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ধর্মীয় স্থানের সৌন্দর্যায়ন নিয়েও নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১ জুন তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ বা টিডিএ গঠন করা হয়েছিল পূর্বতন সরকারের উদ্যোগে। সেই সময় চেয়ারম্যান করা হয় ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim), যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত এক দশকে কিছু কাজ হলেও অনেক প্রকল্প অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। ফলে নতুন করে পরিকল্পনা করে তারকেশ্বরের উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না এবং শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, এই দুইয়ের সংঘাতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে নিজেদের পুনর্গঠনের বার্তা দিচ্ছে তৃণমূল, অন্যদিকে শাসক শিবির বিরোধী শিবিরের দুর্বলতা তুলে ধরতে মরিয়া। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Cabinet Expansion, Suvendu Adhikari Cabinet | লোক ভবনে শপথ শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার, ৩৫ জনের অন্তর্ভুক্তি, কারা পেলেন পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব?



