Bengal lightning deaths report, Kalbaishakhi impact West Bengal | ৮৮ কিমি বেগে তাণ্ডব কালবৈশাখীর, কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে মৃত্যু ৮! ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৪ লক্ষ টাকার সহায়তা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পূর্বাভাস ছিল, আর সেই পূর্বাভাসের বাস্তব রূপ দেখল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ। শুক্রবার দুপুরের পর আচমকা কালবৈশাখীর (Kalbaishakhi) দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে শহর ও একাধিক জেলা। প্রবল ঝড়, বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টির জেরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আট জন। এর মধ্যে কলকাতাতেই মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এক সময়ে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার ছুঁয়েছিল। ঝড়ের এই তাণ্ডবে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শহর ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। নবান্ন (Nabanna) সূত্রে জানানো হয়েছে, ঝড় ও বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার রয়েছে।’ আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও প্রশাসনের তরফে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Vande Mataram mandatory in schools, Suvendu Adhikari decision | স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’: সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম, শুভেন্দু অধিকারী -এর ঘোষণায় জোর চর্চা রাজ্যে

শুক্রবার দুপুর থেকে কলকাতা, হাওড়া (Howrah), হুগলি (Hooghly), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) -সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। কোথাও ঝড়ের গতি ৬০ কিলোমিটার, কোথাও তা ৭০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। কলকাতায় তা আরও তীব্র আকার নেয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক গাছ উপড়ে পড়ে, ভেঙে পড়ে দেওয়াল, ছিঁড়ে যায় বিদ্যুতের তার। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, যানজট এবং পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কলকাতার আউট্রাম ঘাট এলাকায় ঝড়ের মধ্যে আম কুড়োতে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে চক্ররেলের ওভারহেড তার ছিঁড়ে পড়ে, সেখান থেকেই আগুন লাগে। সেই ঘটনায় প্রাণ হারান ওই যুবক। অন্যদিকে চেতলায় দেওয়াল ভেঙে মৃত্যু হয়েছে প্রবীণকুমার ঠাকুর (Prabin Kumar Thakur) নামে একজন ব্যক্তির। তাঁকে দ্রুত এসএসকেএম (SSKM Hospital)-এ নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। এছাড়া নেতাজি নগর এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে এক দম্পতি আহত হয়েছেন, তাঁদের এম আর বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। ফোর্ট উইলিয়াম (Fort William) -এর দক্ষিণ গেটের কাছে এক স্কুটার আরোহীর উপর গাছ পড়ে গেলে তিনিও আহত হন, যদিও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুরুলিয়া (Purulia) জেলায় বজ্রপাতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সাঁতুড়ি থানার কাঁকুড়কিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা চৈতন্য ধীবর (Chaitanya Dhibar) সাইকেলে যাওয়ার সময় বজ্রাঘাতে গুরুতর জখম হন এবং পরে মারা যান। একইভাবে শেখ ছুটু (Sheikh Chutu) নামে ২৫ বছরের এক যুবকের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে। আরও এক জন, নিমাইচন্দ্র গরাই (Nimai Chandra Garai), হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। আরও কয়েক জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পশ্চিম মেদিনীপুর (West Medinipur) -এর গোয়ালতোড় এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে দুই কিশোরের। রূপক চৈরা (Rupak Chaira) এবং অয়ন গোস্বামী (Ayan Goswami), দু’জনেই নবম শ্রেণির ছাত্র। বন্ধুদের সঙ্গে জঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে আচমকা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বজ্রাঘাতে তাঁদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

ঝাড়গ্রামে (Jhargram) মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন মুক্তিপদ পাল (Muktipada Pal) নামে এক ব্যক্তি। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটে। হুগলির চুঁচুড়ায় (Chinsurah) গঙ্গায় মাছ ধরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন দুই মৎস্যজীবী। ঝড়ের দাপটে নৌকা উল্টে গেলে খোকন মণ্ডল (Khokan Mondal) কোনওক্রমে তীরে ফিরতে পারলেও অমিত মণ্ডল (Amit Mondal) নিখোঁজ হয়ে যান। ঝড় থামার পর তল্লাশি শুরু হলেও রাত পর্যন্ত তাঁর খোঁজ মেলেনি।

ঝড়ের প্রভাবে পরিবহণ ব্যবস্থাতেও বড়সড় প্রভাব পড়ে। কলকাতা বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টা বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। মধ্যমগ্রাম (Madhyamgram) স্টেশনের কাছে গাছ পড়ে বনগাঁ শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ব্যান্ডেল-কাটোয়া (Bandel-Katwa) শাখাতেও একই কারণে ট্রেন পরিষেবা থমকে যায়। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, শহরের অন্তত ৩৬টি জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে। রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, পার্ক স্ট্রিট, এজেসি বোস রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুরসভা, দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে দ্রুত গাছ সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

শহরের কিছু এলাকায় জল জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। চাঁদনি চক ও ঠনঠনিয়া এলাকায় জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সাউথ সিটি মল-এ (South City Mall) কাচ ভেঙে জল ঢুকে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। ক্ষুদিরাম মেট্রো (Kudghat Metro) -স্টেশনের একাংশের ছাদ ভেঙে পড়ার খবরও মিলেছে। হুগলি ও সিঙ্গুর (Singur) -এর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার উপর গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। বহু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিল, গ্রীষ্মের শেষে কালবৈশাখী কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চললেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Lakshmir Bhandar controversy, West Bengal scheme fraud news | লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘ভুয়ো’ ঝড়! ৩ বছর টাকা নেওয়ার অভিযোগে আটক রাকিবুল, সামনে এল একাধিক নামের ইঙ্গিত

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন